লাইফস্টাইল

মোটিভেশনাল স্পিচের পিছনের না বলা কথাগুলো…

neon aloy মোটিভেশনাল স্পিচ নিয়ন আলোয়

কয়েকটা মোটিভেশনাল স্পীচ দেখলাম। খুব কমন প্যাটার্ন। বাজে অবস্থা থেকে ভালো অবস্থায় উঠে আসার গল্প। এর মধ্যে বাজে অবস্থার বর্ণনা বেশী প্রায়োরিটি পেয়েছে। এইটা খুব সম্ভবত মোটিভেট করার খুব নরমাল এবং কমন একটা প্যাটার্ন। নাথিং স্পেশাল।

একটু চিন্তা করে দেখলাম আমাকে যখন কেউ জিজ্ঞেস করে যে, দাদা আমার সিজিপিএ খারাপ। বাইরে এপ্লাই করলে কি চান্স পাবো? আমি এইসব ক্ষেত্রে বুক ফুলিয়ে বলি “আমার ড্রপ ছিলো, ফুল ট্রান্সক্রিপ্ট দিয়েও এপ্লাই করিনাই, সিজিপিএ ৩.০৯ নিয়ে এপ্লাই করেছি। আমার হইলে তোর হবেনা ক্যান? তাছাড়া পরিচিত অনেকেই বিলো থ্রি নিয়ে চান্স পায়।” শুনে হয়তো সে সান্ত্বনা পায়, মোটিভেটেড হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিটা ঠিক কতখানি সঠিক?

যে অলরেডি পাশ করে ফেলেছে তার জন্য হয়তো এটা ঠিক আছে। কিন্তু যখন কারেন্ট কোন স্টুডেন্ট এই কথাটা শুনবে, সে কি করবে?

আমার খুব স্পষ্ট মনে আছে আমি যখন সাস্টে ফার্স্ট-সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, তখন আমার কাছে একটা কথা বেদবাক্যের মত মধুর ছিলো- ‘সিএসই’তে পড়লে সিজিপিএ লাগেনা।’ বিভিন্ন কারণে ডিপার্টমেন্টের পড়াশুনার প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসায় আর ক্রিয়েটিভ কিছু করার দিকে আগ্রহের জন্য রেজাল্ট নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যাথা ছিলো না এইটা সত্যি। কিন্তু এই বেদবাক্যের ইমপ্যাক্টও অনেক। রেজাল্ট নিয়ে কেয়ার করা বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম। চমৎকার কয়েকজন বড়ভাই আর টিচার থাকায় প্রোগ্রামিং এর পিছনে লেগে ছিলাম, ভালো কয়েকটা প্রজেক্ট করেছি, অনেকগুলি গেম বানিয়েছি আর এভাবে এপ্লাই করার আগে আস্তে আস্তে একটা ভালো প্রোফাইল হয়ে গিয়েছিলো।

আটকে থাকিনি কোথাও এটা ঠিক। তবে সাফার কি করিনি? অবশ্যই করতে হয়েছে।

বেশ কয়েকটা ভালো ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ফান্ড দিতে চেয়েছে। এপ্লাই করতে গিয়ে দেখি জিপিএ রিকোয়ারমেন্ট বেশী। প্রফেসর বলেছে ডিপার্টমেন্ট না দিলে তো আসলে সম্ভব না। এমনকি এখন যেখানে পড়ছি, সেখানে অন্যভাবে জিপিএ ক্যালকুলেট করে। ড্রপ থাকার কারণে আমার জিপিএ এদের সিস্টেমে ৩-এর অনেক নীচে চলে গেছিলো। আমার প্রোফাইল আমার প্রফেসর এর অনেক পছন্দ হওয়ায় সে আলাদা সাপোর্ট লেটার দিয়ে আমার এডমিশন ম্যানেজ করে দিয়েছে।

আমরা যখন কাউকে মোটিভেট করার জন্য আমাদের প্রতিবন্ধকতার কথা বলি তখন এর জন্য করা সাফারিং এর কথাও বলা উচিত, প্রতিবন্ধকতা কিভাবে পার করেছি এগুলাও বলা উচিত। আমার থেকে শুনে কেউ ভাবে যে কম জিপিএ থাকলেও সমস্যা নাই। কিন্তু সে জানে না যে আমার একটা তুলনামূলক ভালো প্রোফাইল ছিলো, বিভিন্ন টাইপের কাজের অভিজ্ঞতা ছিলো। একজন আন্ডারগ্র্যাড যখন এই তথ্য জানবে না, সে যদি তখন দিব্যি হাওয়া লাগিয়ে রেজাল্ট-প্রোগ্রামিং সব বিসর্জন দেয়- তার জন্য এই ফান্ড পাওয়া এত সহজ হবে না। তার এই ব্যর্থতার ভার আমার ঘাড়েও পড়বে তখন।

আমার বাবা আমার রেজাল্ট আর কত স্যালারি পাই এইসব তথ্য কখনো জানতে চায়নি। আমি একদিন সেই বুক ফুলিয়ে নিজের অল্পস্বল্প জিপিএ’র কাহিনী শুনিয়ে বলছিলাম যে সিএসই’তে এগুলো কোন সমস্যা না চাকরির জন্য। তখন সে বলেছিলো, হয়তো একদিন মনে হবে যে যখন সুযোগ ছিলো তখন রেজাল্টটা একটু ভালো করে রাখলে আজকে সুবিধা হতো। একদিন হয়তো যে চাকরির জন্য আজকে রেজাল্ট বিসর্জন দিচ্ছো, সেটা করতে ইচ্ছা করবে না। আমার কপাল ভালো যে যথাসময়ে বুঝতে পারায় ফোরথ ইয়ারে রেজাল্ট সাইজ করে থ্রি-এর উপরে রাখতে পেরেছি।

এখন হয়তো আটকিয়ে নাই বলে সব গুনা মাফ। কিন্তু যদি আটকিয়ে যেতাম? সবাই কিন্তু পার হতে পারেনা। কেউ কেউ আটকেও যায়।

সেই জন্য হুটহাট করে কাউকে আজেবাজে সস্তাভাবে মোটিভেট করার আগে একটু তার ব্যাকগ্রাউন্ড বুঝে কথা বলা উচিত। বিশেষ করে পাবলিক ইভেন্টে। অল্প বয়সের গরম রক্ত লজিক কম বুঝতে চায়। শর্টকাট পছন্দসই অপশনটা ধরে। যেমনটা আমি ধরেছিলাম। কপালটা ভালো বলে বেঁচে গিয়েছি।

তেমনি কারো কথা অন্ধভাবে বিশ্বাস করার অভ্যাস থেকেও আমাদের বের হতে হবে।

বাজে সিজিপিএ ছিলো, তবুও চান্স পেয়েছি আর রেজাল্ট ভালো রাখার পাশাপাশি চমৎকার কিছু প্রজেক্ট আছে আমার। মজার কিছু গেম আছে, দুইটা পেপার আছে, এক্সট্রা কারিকুলার কাজ আছে; সারাদিন খাটাখাটনি করা লেগেছে অবশ্য। এর মধ্যে দ্বিতীয়টা বেশী মোটিভেটিং এবং লং লাস্টিং।

সচেতনতা দুইপাশেই দরকার। “তুমিও পারবে” বলা খুব সহজ, শুনতে অনেক রিলাক্সিং। কিন্তু পারাটা অনেক শক্ত।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top