ফ্লাডলাইট

ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই আসলে কে চালায় এখন?

নিয়ন আলোয়

বিসিসিআই চালানোর দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে  Committee of Administrators বা CoA কে। এই দ্বায়িত্ব দিয়েছে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট। কিন্তু এই CoA- এর কাজ কি? এদের কাজ হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ডে কিছু পরিবর্তনের জন্য যে সুপারিশ করেছে লোধা কমিটি, সেগুলার বাস্তবায়ন করা। এই CoA এক কথায় বর্তমানে বিসিসিআই। সেই CoA এর মিটিং চলার সময় খবর আসে বিসিসিআই নতুন কোচ নিয়োগ দিয়েছে। অর্থাৎ, বিসিসিআই জানতে পারে বিসিসিআই নতুন কোচ নিয়োগ দিয়েছে। CoA এর মিটিং চলছে তখন। এক সদস্য মজা করে জিজ্ঞেস করে কোন বিসিসিআই নিয়োগ দিলো?

ভারতে এখন সবচেয়ে বড় হাস্যরসের নাম বিসিসিআই। বিসিসিআই আবার কয়েকটা! যেমনঃ

CoA এর বিসিসিআই- যাদের কাজ বোর্ড রিফরমেশন, সুতরাং যখন ভিরাট কোহলি আর কুম্বলের সমস্যা চলছিলো তখন তারা এই “ঝামেলার” ভেতর জড়ায়নি।

বিসিসিআই আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিসিসিআই- যার আসলে কোন ক্ষমতাই নাই বর্তমানে, সুতরাং সে কেন কোচ-অধিনায়ক ঝামেলায় যাবে!

ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী অমিতাভ চৌধুরী এর বিসিসিআই- যার কাজ বর্তমানে কি সেটাই উনি বুঝে উঠতে পারেননি, খালি প্রেস রিলিজ আর সংবাদ সম্মেলন ছাড়া তার কাজ নাই।

Cricket Advisory Committee (CAC) এর বিসিসিআই- যাদের কাজ সব ক্যান্ডিডেটের ভেতর থেকে একজন কোচ নিয়োগ দেওয়া হলেও গত মাসে আর কেউ কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদেরই (গাঙ্গুলী, টেন্ডুলকার, লক্ষণ) কুম্বলে আর কোহলির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সবশেষ শুনলাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বিসিসিআই- এতদিন যার নামই শুনিনি।

নাকি ভিরাট কোহলির বিসিসিআই- যার ইচ্ছাতেই শেষ পর্যন্ত রবি শাস্ত্রী কোচ হয়?

নাকি সবার উপর বসে থাকা সুপ্রীম কোর্টের বিসিসিআই? যারা কারণে-অকারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়? একটা বাতিল করতে বলে, তো অন্যটা করতে নির্দেশ দেয়!

ভারতে এখন বিসিসিআই বললেই সবাই প্রশ্ন করে “কোন বিসিসিআই“?

মূল সমস্যার সময় সবাই একে অপরকে দায় চাপালেও CAC কোচ নিয়োগ দেয়ার পরই CoA সমালোচনা শুরু করে, কেন জহির খান বোলিং কোচ আর দ্রাবিড় বিদেশ সফরের ব্যাটিং কোচ? এটা কি তাহলে গাঙ্গুলী, টেন্ডুলকার, লক্ষণের সাবেক টিমমেটদের উপর দূর্বলতা? যেকারনেই হোক, CoA সেই নিয়োগ বাতিল করে নতুন ব্যাটিং আর বোলিং কোচ নিয়োগ দিলো। অথচ ১১ তারিখ রাতে বিসিসিআই টুইটারে ঘটা করে দ্রাবিড় আর জহিরের নিয়োগ ঘোষণা করে। সম্পুরক প্রশ্ন, বিসিসিআই-এর টুইটার একাউন্ট কোন বিসিসিআই চালায়??

“You ask us to pick a coach and we do it honestly. And then we get battered for no fault of ours. We were asked to pick a coach last year independently. We picked the best candidate. That candidate gave you results for one year then you kicked him out. The CoA was nowhere in picture to solve the problem. We don’t have the authority to solve the problem. If the CoA was in England and solved the problem, it wouldn’t have come this far.”– কথাগুলা বলেছেন CAC এর যেকোন একজন (নাম প্রকাশ করেনি)।

আমার ধারণা শাস্ত্রীকে কোচ না দিয়ে উপায় ছিলোনা, কারন এই চরম বিরোধীতার ভেতর কোন বিদেশি কোচ মানিয়ে নিতে পারতেন না। শাস্ত্রী দেশী মানুষ, ম্যানেজ করে চলতে পারবে হয়তো। আর CAC বলেছিলো শাস্ত্রীর সাথে কথা বলেই দ্রাবিড় আর জহিরকে নিয়োগ দেয় তারা। আবার CoA জানাচ্ছে ওইগুলো প্রস্তাব ছিলো, শাস্ত্রীর চাওয়া অনুযায়ী পরে ভারত অরুন আর সঞ্জয় বাঙ্গারকে নিয়োগ দেয়া হয়। ফলে কি দাঁড়ালো? টেন্ডুলকার, গাঙ্গুলী, লক্ষণ, দ্রাবিড়, জহির সবাই একেকটা হাসির পাত্রে পরিনত হয়েছেন!

বলা হয় একটা বোর্ড যত ভালো, ততো ভালো তাদের দল। বিসিসিআই এর যে অবস্থা, আমার মনেহয় ভারতের ক্রিকেট দলের সামনে খারাপ অবস্থা যাবে। বা বলা ভালো ভারতের খারাপ সময় শুরু হয়ে গেছে। ভালো কোন দলের হাতে পড়লেই সেটা বের হয়ে আসবে। আপাতত বিসিসিআই-এর সমস্যাগুলার সমাধান সম্ভব না, ফলে আরো সমস্যা বাড়বে। কয়দিন পর CoA নির্বাচকদের নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, কোচিং নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। আর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী এবং সভাপতি ক্ষমতাহীন হয়ে বসে থাকবে! এই অবস্থায় প্লেয়ার, কোচ সবাই বিভ্রান্তির ভেতর থাকে, মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে।

সুতরাং ভারতের আধিপত্যের দিন শেষ, ভারতের খারাপের শুরু হয়ে গিয়েছে। দেখা যাক কোথায় যেয়ে থামে ভারতের দলীয় পারফর্মেন্স! হয়তো শক্তিশালী কোন দলের বিপক্ষে মাঠে নামলেই আসল পরীক্ষা হবে ভারতের।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top