ক্ষমতা

জনাব তারিক সালমান, আপনাকে সালাম!

neon aloy তারিক সালমান নিয়ন আলোয়

১।
আমার বয়স যখন ছয় বছরেরও কম, তখন আমি একজন মানুষের ছবি আঁকা শিখি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। আমরা তখন থাকি সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। উপজেলায় নতুন-নতুন শিশু একাডেমী খোলা হয়েছে। আমার আম্মা আমাকে মোটামুটি গান, ছবি আঁকা, আবৃত্তি সবকিছুতেই ভর্তি করিয়ে দিলেন।

আমার পরিষ্কার মনে আছে শিশু একাডেমীর প্রথম দুটো ক্লাস ছিল একটা বোতল আঁকা শেখানো। তারপরেই শুরু হল বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকা। এর চাইতে সহজ বুঝি আর কিছু না। আমি ঐ একজনের ছবি আঁকাই শিখেছিলাম জীবনে।

বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকা অত্যন্ত সহজ। ছবির মুখ্য দুটি অঞ্চল চোখ আর মুখের ব্যাপারে কোন চিন্তাই করতে হতো না। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা আর ইয়া বড় একটা গোঁফ, ইউ-র মত একটা নাক তারপর একই রকম পাট করে আঁচড়ানো চুল।

আজকের দিনের অনেক পরিবারের মত আমার বাসা বঙ্গবন্ধুর প্রতি খুব বেশি মাত্রায় অনুভূতিপ্রবণ ছিল না। হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান হয়তো ছিল, তবে তাঁর ছবি বাসায় টাঙিয়ে রাখার মত এত বেশিও ছিল না। আমার সৌভাগ্য আমার কাঁচা হাতে আঁকা সেই ছবিটা আমাদের বাসার দেয়ালে দীর্ঘদিন টানানো ছিল।
বাসায় কোন মেহমান আসলে খুব আগ্রহ করে দেখানো হতো যে এই ছবিটা আমি এঁকেছি। কেউই ছবির ভদ্রলোককে চিনতে পারতেন না, ছবির নিচে লেখা নাম দেখে চিনতেন। তারপর হয়তো ভদ্রতা করে ‘ভালো হয়েছে’-ও বলতেন।

আমার কাছে আমার আঁকতে পারাটা ভালো লাগতো, সেই ভালো লাগা একসময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালো লাগায় পরিণত হয়ে গেলো!

২।
এ বছর আগৈলঝাড়ায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের কার্ডের ওপর ক্লাস ফাইভে পড়া একটি বাচ্চার কাঁচা হাতে অত্যন্ত সুন্দর করে আঁকা বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি ছাপা হয়। পুরো ব্যাপারটা হয়েছিলো সদর উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমানের প্রচেষ্টায়।

আজ বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমানের বিরুদ্ধে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিকৃত ছবি কার্ডে প্রকাশ করা হয়েছে” এমন একটি মামলা করেন। তাতে দুই ঘণ্টা হাজতবাসের পর জামিন পেয়েছেন বরগুনার সদর উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমান।

আওয়ামী লীগ দিন-দিন অমানুষের দল হয়ে উঠছে। কিসে বঙ্গবন্ধুর সম্মান বাড়ে আর কিসে কমে সেই হিতাহিত জ্ঞান আওয়ামীলীগ হারিয়ে ফেলেছে। যেই কার্ড ছাপানোর দূরদর্শী চিন্তার জন্য ইউএনও সাহেবের ডাবল প্রমোশন হওয়ার কথা, সেই কার্ড ছাপানোর জন্য তাকে হাজতবাস করতে হচ্ছে।

বিবেকবান লীগারেরা প্রতিবাদ করার কথা।
কিন্তু কই? তো দেখি ফাঁকা!

আমার জীবনে কখনো সুযোগ হলে আমি নিশ্চয়ই বরগুনার সদর উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমানকে স্যালুট জানিয়ে আসবো। কারণ আমি একেবারে বুক ঠুকে বলতে পারি ক্লাস ফাইভের যেই শিশুটি বঙ্গবন্ধুর এই চমৎকার ছবিটি এঁকেছে, পৃথিবীর কোন শক্তি তাকে স্বাধীনতাবিরোধী কোন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করতে পারবে না…

জনাব তারিক সালমান, আপনাকে সালাম…
জয় বাংলা!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top