নাগরিক কথা

ছোট-ছোট বাক্সেই মরে যাওয়া আমাদের অপরিচিত স্বপ্নগুলো…

নিয়ন আলোয়

আমেরিকার ক্লাবগুলোয় কিছু ব্যাপার আছে দেখার মতো, শেখার মতো। শটের পর শট টাকিলা গিলে ড্যান্স ফ্লোর কাঁপানোর চেয়েও আলাদা কিছু।

কিছু ছেলে এবং কিছু মেয়ে আসে একা একা, প্রেমিক বা প্রেমিকা ছাড়া। এরা আসে সারা উইকের ধকল এক ফ্রাইডে বা স্যাটারডে নাইটের পার্টি দিয়ে কাঁটিয়ে ফেলতে। আমি মেয়েগুলোকে দেখি, নিজের মতো করে নাচছে, মদ গিলছে। নিজের মতো করে মজা করছে। মাতাল হয়ে পড়ে যাচ্ছে.।কেউ ধরছে, কেউ বা ধরছে না। কেউ কাউকে ডিস্টার্ব করছে না, সুন্দর অবস্থা।

অথচ এই দৃশ্য আমাদের দেশে হলে প্রতিদিন ক্লাবে মারামারি হতো। কেন হতো? ভেঙ্গে বলার দরকার নেই। বাঙালী ছেলেরা ‘মেয়ে’ বিষয়টিতেই একটু নড়বড়ে। বাংলাদেশ আর আমেরিকার তুলনা করে লাভ নেই, আমাদের দেশে ছেলেদের ক্লাবিং’ই বৈধ হয় নি এখনো, মেয়েদেরটা কখনো স্বপ্নেও হবে না।

অর্থহীন কথা গুলো বলেছি সম্পূর্ণ অন্য একটি কারণে। খুব আবেগ নিয়ে কোন ছেলে যখন কোন মেয়েকে তাঁর ভালোবাসার কথা জানায়, মেয়েটা কোন ভাবেই সম্পূর্ণ নিজের মনের ইচ্ছায় সিদ্বান্তে আসতে পারে না। বিয়ের কথা পরে, শুধুমাত্র প্রেমের সিদ্বান্ত নিতে গিয়েও মেয়েটিকে বাবা-মা ছাড়াও এমনি তাঁর বাসায় দেড় বছর বয়সী ছোট ভাই বা বোনের কথা পর্যন্ত ভাবতে হয়।
সাত-পাঁচ ভেবে অনেক সময় মেয়েটির রাজি হওয়া হয়ে উঠে না।

মেয়েটি ফ্যামিলীর খুশিমতো বিয়ে করে খুশি হবার জন্যে এবং খুশী রাখার জন্যে এবং মাস খানেক পর উত্তেজনা চলে যায়। কখনো কখনো মেয়েটি স্বামীকে ভালোবেসে উঠতে পারে, কখনো কখনো শুধুমাত্র ‘স্ত্রী’ হিসেবেই রয়ে যায়। রাতে-দুপুরে শারিরীক যোগান দেয়, সন্তান উৎপাদন করে। বুড়ো হয়, একসময় আফসোস নিয়ে মরে যায়। অথচ একটা সিদ্বান্ত অনেক কিছু বদলে দিতে পারতো, অনেক কিছুই…!

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের যৌবন অপচয়িত হয় খুব সুন্দরভাবে। তাদেরকে সিস্টেমে ফেলে তাদের সুন্দর সময়টাকে নষ্ট করা হয়। তাদের দুনিয়াটাকে ছোট করে দেওয়া হয়। তারা বুঝেও বুঝে না।

আমি অনেককে স্বপ্ন দেখতে দেখেছি। কোন ছেলেকে দেখেছি বলেছিলো, “আমি মিলিওনিয়ার হবো! পছন্দের মেয়েটিকে বিয়ে করবো, এরপর প্রাইভেট জেট কিনবো। কিছু কেনার সময় প্রাইস ট্যাগের দিকে কখনোই তাকাবো না আর।” একটি মেয়ে বলেছিলো, “আমি প্লে-ব্যাক সিংগার হবো! আমার প্রেমিকের সাথে এক মুভিতে গান করবো!”

কাউকে দেখি নি ভালোবাসার মানুষটকে নিয়ে পৃথিবীটাকে দেখতে চাইলো… আমস্টারডামের উইকেন্ড, ফিরার সকাল, প্যারিসের তারাজ্বলা রাত্রি, ভেনিসের সন্ধ্যা, রোমের দুপুর, প্রাগের বিকেল, মায়ামির মধ্যরাত, লন্ডনের বৃষ্টি দেখতে চাইলো….! একদিন হারিয়ে যেতে চাইলো হুট করেই…!

কাউকে কখনো প্রেমিকার সামনে হাটুগেঁড়ে বলতে শুনিনি, “অনেক কষ্ট, অনেক সাধণার পর বাচাতা আর সালসা নাচটা শিখেছি। একদিন ওয়েস্টার্ণ স্পেনে হারিয়ে যাবো। সেখানে কোন এক পাবে গভীর রাতে নীল চোখা রমণীর সাথে পায়ে পা মিলিয়ে নাচতে হবে ভেবে। কিন্তু নীল চোখা সেই স্প্যানিশ রমণীর বদলে আমি চাই তুমি এসে আমার হাত ধরো। আমি দাঁতে কড়া লাল একটা গোলাপ কামড়ে ধরে রাখি…. তুমি কালো বেলিন্ডা পরে খোলা চুলে এগিয়ে আসো। সালসা তুমি না জানলেও দেখবে ঠিকই তালের সাথে পা মিলছে তোমার। তুমি চাইবে এই নাচ কখনো না থামুক… থেমে গেলে থেমে যাক সময়।

ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকুক ‘জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা’র ‘সেনোরিতা’… আর দেখবে গোলাপটা তুমি ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে চুমু খেয়ে কেড়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত একবারের জন্যেও আমার ঠোঁট থেকে স্থানচ্যুত হয় নি…!”

নাহ! বলে নি কোন প্রেমিক… কোনদিন।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top