ফ্লাডলাইট

সাকিব আল হাসানের সাথে চীনের দিনলিপি- সূচনার প্রারম্ভ!

নিয়ন আলোয়

“….And the biggest superstar of Bangladesh has again done the trick for Bangladesh tigers.”
-Nasser Hussein (NZ vs BAN, 2017)

সাকিব আল হাসান, নামটাই এখন কিংবদন্তি। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে বোধহয় একজনও খুঁজে পাওয়া যাবে না যে “সাকিব ভাই” এর সাথে দেখা করতে বা ছবি তুলতে চায়নি আজ পর্যন্ত।

সাকিব আল হাসানের সাথে চীনের দিনলিপি (শূন্যতম পর্ব)

সাকিব ও তার পরিবারের সাথে চীন ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া পাঁচজন।

কিন্তু আপনার কাছে যদি এমন সুযোগ আসে যে আপনার স্বপ্নের সেই সুপারস্টারের সাথে দেশের বাইরে পাঁচ দিনের সফর! অনেকে হয়তো এমনটা কল্পনাও করেন না। তবে কল্পনা নয়, বাস্তবেই আমাদের সাথে তেমনটা হয়েছে। পেয়েছি সাকিব আল হাসান পরিবারের চীন সফরের অংশীদার হবার সুযোগ। মোবাইল কোম্পানী হুয়াওয়ে এই বিস্ময়কর সুযোগটি এনে দিয়েছে।

ইয়া লম্বা গোঁফ, মাথায় ঐতিহ্যবাহী চাইনিজ হ্যাট, পিছনে বিখ্যাত চীনের প্রাচীর; হবে হয়তো কোনো প্রোডাক্টের প্রোমোশনাল স্টান্ট- হোমপেজ স্ক্রল করতে করতে ছবিটা যখন চোখে পড়ে, এটাই ভেবেছিলাম। কয়েক সেকেন্ড লাগলো বুঝতে যে এটা হচ্ছে সাকিব ভাইয়েরই ছবি!

পোস্ট পড়ে যা বুঝলাম তা হল,  HUAWEI Mobiles BD একটা ক্যাম্পেইন চালাবে, যেটাতে অংশগ্রহণ করলে থাকবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুপারস্টারের সাথে চায়না ঘুরে আসার সুযোগ। তিন মিনিটে ফর্ম পূরণ করে প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করলাম। পরদিন বসুন্ধরা সিটির HUAWEI এর  শো-রুমের সামনে সাকিবের কাট-আউটের সাথে ছবি তুলে পোস্ট করে ফেললাম।

স্বপ্ন কখনো বাস্তবকেও হার মানায়। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়। আমি সহ আরো ৫ জন মনোনীত হলাম সাকিব আল হাসানের সাথে চায়না ভ্রমণের জন্য। আমাদের সাথে ছিল সাকিব ভাইয়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু নাফিজ আল মোমেন এবং HUAWEI থেকে মাশরুর হাসান মীম ভাই।

প্রথম পর্ব (২৯-৬-১৭)

“All guys please be at the airport within 12 pm tomorrow.”

মীম ভাইয়ের গ্রুপ মেসেজ, ২৮ তারিখে দেয়া। আমাদের এক্সাইটমেন্ট আশা করি বুঝতেই পারছেন প্রিয় পাঠক। আমরা সবাই ১২:৩০ এর মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলাম। সবার ধারণা ছিল সাকিব ভাই হয়তো ভিআইপি টার্মিনাল দিয়ে ঢুকে ইমিগ্রেশনের ফর্ম পূরণ করে ফেলবেন।

১২ঃ৪৫ মিনিটে টার্মিনাল দিয়ে হালকা গোলাপী পোলো শার্ট পরা আর কাঁধে গুচ্চি এর ব্যাগ নিয়ে একজন ঢুকলেন। তাকে সার্চ করতে আমার মনে হল এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির হাত হালকা কাঁপছে। কোলে কন্যা আলাইনা হাসান অব্রিকে নিয়ে আমাদের লাইনেই দাঁড়ালেন THE SHAKIB AL HASAN

প্রথম দেখাতেই আমার মনে হয়েছে, “ভাইয়ের মাসল এতো মোটা কেন!!” ঐদিন বুঝলাম ওনার Shakib Scoop বা লেট কাটগুলো এতো জোরে বাউন্ডারি পার হওয়ার রহস্য কি!

হালকা গোলাপী পোলো শার্ট পরা আর কাঁধে গুচ্চি এর ব্যাগ ও কোলে কন্যা আলাইনা

সাকিব ভাই আর শিশির ভাবী এসেই নাফিজ ভাই আর মীম ভাইয়ের সাথে কথা বলে ইমিগ্রেশনের কাগজ পূরণ করতে লাগলেন।

সাকিব ভাই এর মেয়ে, মানে অব্রি, একেবারেই বাবার ন্যাওটা। মেয়ে যে কতটা বাবাভক্ত আর সাকিব যে মেয়ের কতটা ভক্ত সেটা সামনাসামনি দেখেই বুঝতে পারছিলাম।

সাকিব আল হাসানের সাথে চীনের দিনলিপি (শূন্যতম পর্ব)

বাবা-মেয়ের দুষ্টুমি।

যাই হোক, সবার ছবি তোলার অনুরোধ রাখতে গিয়ে সাকিবকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছিল। প্রায়ই কোল থেকে আলাইনাকে নামিয়ে শিশির ভাবির কোলে দিতে হচ্ছিল সাকিব ভাইকে।

এরই মাঝে একজন একটা সেল্ফি তুলবে বলে মনে হয় প্রায় ১০ টা তুলে ফেললো। সাকিব কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললো “ভাই আর কত?” যা বুঝতে পারি, সাকিব প্রচন্ড স্পষ্টভাষী এবং স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড। ভয় পায় না কোনো সমালোচকের। সোজাসাপ্টা বলে দেয় যা বলার। কারণ উদ্ভট সেল্ফি ফ্যানদের সে অসাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছিলো। এরই মাঝে ব্যাগেজ চেক, ক্লিয়ারেন্সের লেট হয়ে যাচ্ছিল দেখে সাকিবকে সেখান থেকে ব্যাগেজ ক্লিয়ারেন্সের লাইনে সরিয়ে আনা হয়।

স্ত্রী ও কন্যাসহ ইমিগ্রেশন লাইনে বিশ্বের এক নাম্বার অলরাউন্ডার

সেখানেও ভক্তদের আবদার মেটান সাকিব। সামনাসামনি না দেখলে আসলে বুঝতাম না ব্যাপারটা কত বিরক্তিকর। হ্যাঁ, বিরক্তিকর বলছি কারণ সুপারস্টার হওয়া যে কতটা বিড়ম্বনার সেটা বুঝলাম সেদিন। চাইলেও আলাদা থাকা যায় না। মানুষ ভিড় করতেই থাকে। মানুষটার জরুরি কাজ করছে কিনা, ভক্তদের সেটাও হুঁশ থাকে না। বিরক্তি প্রকাশও করা যায় না। সেটা করলেই তো আবার “সাকিব বেদ্দপ!” সাকিবের পরিবারও যে তার সাথে সেটাও মানুষ খেয়াল রাখে না। মানুষের চাপে সাকিব বাধ্য হয়ে আবার আলাইনাকে কোল থেকে নামিয়ে শিশিরের কাছে দিয়ে দেয়।

সাকিবকে ঘিরে যখন সবাই ব্যস্ত তখনই পাশে শিশির ভাবী হেঁটে হেঁটে খেলছিলেন আলাইনার সাথে। সাকিবের পাশে থাকার মত অবস্থাও তখন ছিল না তাদের। এসব দেখে যে অভ্যস্ত তারা তা বুঝতে পারলাম। নিজেকে সাকিবের জায়গায় কল্পনা করে মনে হলো আমি হয়তো ১০ মিনিটও সহ্য করতে পারতাম না।

যাই হোক, অবশেষে ব্যাগেজ ক্লিয়ারেন্স শেষে ইমিগ্রেশন রুমে ঢুকে পরলাম আমরা। সাকিব পরিবারও ঢুকলো বেশ কিছুক্ষণ পরে। সেখানে এসে কিছুটা প্রশান্তি মিলল যেন তাদের। দ্রুত কিছু কাজ সেরে সাকিব তার পরিবার ভিআইপি লাউঞ্জে চলে যায়। আমরা টার্মিনালে বসে অপেক্ষা করতে থাকি প্লেনে উঠার এনাউন্সমেন্টের।

অবশেষে ১ঃ১৫ মিনিটের দিকে আমাদের বোর্ডিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। উঠে পরি আমরা প্লেনে। অপেক্ষা করতে থাকি এক স্মরণীয় যাত্রা শুরুর জন্য।
অত:পর বেলা প্রায় ২ টার দিক আমাদের প্লেন টেক অফ করে। একদিকে সাকিবের সাথে ভ্রমণের উত্তেজনা অপর দিকে প্রথমবারের মত চায়না ভ্রমনের খুশিতে শুরু হলো আমাদের জার্নি। আ জার্নি অফ আ লাইফটাইম…. ।

(চলবে)

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top