নাগরিক কথা

মা! তুমি কি এড়াতে পারো তোমার মেয়ের ধর্ষণের দায়?

নিয়ন আলোয়

আজ একটা নিউজ বারবার আমার ফেসবুক হোমপেইজে আসছে। নিউজটা হচ্ছে “আট বছর ধরে লাগাতার সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করে যাচ্ছেন একজন পুরুষ”

নিউজটা দেখে আমার প্রচন্ড রাগ লাগছে। প্রচন্ড ঘৃণা লাগছে। প্রচন্ড অসহায় লাগছে নিজেকে। কিন্তু আমি একটুর জন্যও অবাক হইনি। এই গল্পটি নতুন কিছু না। আমাদের সমাজে প্রায় প্রতিটি পরিবারে না হলেও প্রতি ৩টা পরিবারে এমন একটা করে লম্পটের বাস আছে আমি তা অনেকটাই নিশ্চিত।

এই লম্পটদের নিয়ে সবাই বলছে। এদের বিচার চাইছে। এদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছে। কিন্তু তাতে কি আসলে লম্পটের পরিমাণ কমছে? আমার মনে হয়না।

কেন কমছে না? আমাকে নারীবাদীরা ধুয়ে দিতে পারেন। তবুও বলবো এই লম্পটদের সংখ্যা না কমার কারণ এই মেয়েটির মায়ের মতই পুরুষতন্ত্রের বিষাক্ত ভাইরাসে আক্রান্ত নারীরা।

এই মহিলা আটটা বছর ধরে জানতেন তার বাচ্চা মেয়েটাকে একটা অমানুষ নিয়মিত একটু একটু করে খুবলে খাচ্ছে। তারপরও উনি কি কারনে আটটা বছর অথবা ২৯২০ টা দিন/ ৭০০৮০টা ঘন্টা/ ৪২০৪৮০০টা মিনিট/ ২৫২২৮৮০০০ টা সেকেন্ড চুপ ছিলেন? কেন? কেন? কেন?

উনি পতিপ্রেমে এতই অন্ধ, এতই অসহায় হয়ে ছিলেন? নাকি অর্থনৈতিকভাবে এতটাই পতি নির্ভর ছিলেন? আমি উত্তর পাইনা। আমি উত্তর পাইনা কিভাবে একজন নারী নিজের মেয়েকে এভাবে অত্যাচারিত হতে দেখেও চুপ থেকেছেন??

এই নারী কিন্তু একা এমন নয়। আমাদের সমাজের প্রায় প্রতিটা মোড়ে এমন মায়েদের অস্তিত্ব আছে।

আমি এমন মায়ের কথা শুনেছি যে তার দেবর কর্তৃক নিজের ৬ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষিত হতে দেখেও চুপ ছিলেন।

আমি এমন বিধবা মা দেখেছি যে অর্থনৈতিক ভাবে সম্পদশালী ছিলেন। তবুও, যখন তার বিয়ের আলোচনা চলতে থাকা পুরুষ তার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে মলেস্ট করার চেষ্টা করে, তারপরও সে সেই বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার কথা ভাবে নাই।

আমি এমন বোন দেখেছি, যে নিজ বোনকে নিজ স্বামীর দ্বাড়া রেইপড হতে দেখেও নিজের সংসার বাঁচাতে বোনকে সব ঘটনা চেপে যেতে বাধ্য করেছে।

আমি এমন খালার কথা শুনেছি যে নিজের সংসার বাঁচাতে বোনঝির গর্ভপাত ঘটিয়েছে।

যতদিন এই মা-বোন-খালারা এমন থাকবেন, এই লম্পটের সংখ্যা কিভাবে কমবে? কিভাবে?

মা বোনেরা, প্লিজ নিজেদের বদলান। নাহলে একজন অত্যাচারিত নারী শেষ অবলম্বন হিসেবে “তোর ঘরে মা বোন নেই?” এর দোহাইও দিতে পারবে না।

[এডিটরস নোটঃ নাগরিক কথা সেকশনে প্রকাশিত এই লেখাটিতে লেখক তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তার অভিমত প্রকাশ করেছেন। নিয়ন আলোয় শুধুমাত্র লেখকের মতপ্রকাশের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফরমের ভূমিকা পালন করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির সম্মানহানি এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আপনার আশেপাশে ঘটে চলা কোন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরতে চান সবার কাছে? আমাদের ইমেইল করুন neonaloymag@gmail.com অ্যাড্রেসে।]

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top