নাগরিক কথা

এরেঞ্জড ম্যারেজ- ভালবাসায় যেন না ছোঁয় পাশবিকতা

নিয়ন আলোয়

অনুপাতের ক্যালকুলেশান করতে গেলে দেখা যাবে এফেয়ার ম্যারেজের চেয়ে এরেঞ্জড ম্যারেজের সংখ্যা অনেক বেশি রকমের বেশি।
এরেঞ্জড ম্যারেজ জিনিসটা কিন্তু বেশ মজার এবং এডভেঞ্চারাস… তবে এই মজার এডভেঞ্চারাস জিনিসটার ভেতরে কিছু অতিরিক্ত এডভেঞ্চার মাঝেমাঝে ঢুকে যায়… এটা একটু সমস্যা।

কোন কোন মেয়েকে অনেক সময় ফ্যামিলীর কথা চিন্তা করে প্রেম বিসর্জন দিয়ে এরেঞ্জড ম্যারেজে মত দিতে হয়… কারো কারো এফেয়ার থাকে না.. তারা ফ্যামিলীর সিদ্বান্ত মেনেই বিয়ে করে… মতান্তরে কেউ কেউ আবার গোল্ড ডিগার। তারা হবু স্বামীর ছয় ফিগারের বেতন কিংবা বাড়ি-গাড়ি দেখেও প্রেমিককে ডাম্প করে বিয়ে করতে পারে… এসব তর্কাতর্কির বিষয় থাকুক।

আমি যখন কলেজে পড়ি, তখন আমার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ার বিয়ে হয়… মেয়েটার রিলেশান ছিলো কোন এক দূর্ভাগা ছেলের সাথে। ফ্যামিলী মানে নি… মেয়েটির বিয়ে হয় ফ্যামিলীর ঠিক করা ছেলের সাথে।
অথবা আমরা এখানে ধরে নিতে পারি যে, মেয়েটির কোন রিলেশান ছিলো না… কারণ ‘রিলেশান’ এখানে ম্যাটার না।

মেয়েটির সাথে বিয়ের রাতেই মেয়েটির নববিবাহিত স্বামী শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে.. এবং সেটা করে করতে দিতে বাধ্য হয়… স্বামী ‘ভদ্রলোক’ এতোটাই Desperate ছিলেন, তিনি সেক্সের সময় মেয়েটির যোনির বেশ কিছু নার্ভ ছিড়ে ফেলেন… প্রচন্ড রক্তক্ষরণের কারণে মেয়েটিকে সেদিন রাতে হসপিটালাইজড করতে হয়.. এবং বেশ কয়েক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়েছিলো সেদিন.. স্বামী ‘ভদ্রলোক’ বেশ হাসিমুখে হাসপাতালের লবি’তে ঘুরঘুর করছিলেন। শুনেছি, মেয়েটিও ইদানীং ‘সুখে’ আছে।

যা’ই হোক.. সেই স্বামী ভদ্রলোক কিন্তু গ্রামের কোন চাষা-ভুষা নন.. তিনি শহরের স্বনামধন্য স্কুল, কলেজে পড়েছেন.. এবং নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র‍্যাজুয়েট।

বিয়ের রাতে শারিরীক সম্পর্ক করা বা করতে চাওয়া দোষের মধ্যে পড়ে না.. উভয়ের সম্মতিতে যখন বিয়ে হচ্ছে, সেখানে এটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা।
আমি ভাবি, বিয়ে ব্যাপারটা অসাধারণ… একদিন হুট করে একটা মেয়ে আমার বিছানায় পাশের বালিশটায় চুল মেলে দিচ্ছে… আয়নার সামনে বসে দু’হাতে কানের দুল খুলে রাখছে… আলতো হাতে টিপ খুলে আয়নায় লাগিয়ে রাখছে… প্রতিটা জিনিসই অবাক হয়ে দেখার মতো। এতোগুলো রাত নিঃসঙ্গ কাটিয়ে দেয়া রুমটাতে নতুন অতিথি… কতোকিছু আছে তাকে বলার.. দেখানোর…!

সে আমার স্ত্রী.. তার প্রতি আমার শারিরীক আকর্ষণ থাকবেই… আমি চাইবো সে আমার কাছাকাছি আসুক… এজন্য সর্বপ্রথম যে কাজটি আমি করবো, সেটা হলো ছোট-খাটো ব্যাপারগুলোতে তাকে ইমপ্রেস করা.. একটা কমফোর্ট জোন ক্রিয়েট করা… সে বিয়ে করে এসেছে… সে নিতান্তই বাচ্চা নয়। সে জানে ‘সেক্স’ এখানে মূখ্য একটা বিষয়। কমফোর্ট জোনটা সৃষ্টি হলে স্বামী-স্ত্রী কাছে ঠিকই আসবে সিস্টেম্যাটিক্যালি… এটা কোন রকেট সায়েন্স নয় বলে আমার বিশ্বাস।

আশেপাশে আমার মতো কিংবা আমার বয়সী অনেকেই আছে… যারা শাহরুখ দেখেছে, নির্মলেন্দু গুণ পড়েছে… রোমান্স জানে, বুঝে। তবুও কেনো বিয়ের রাতে মেয়েটিকে ভালোবেসে চুমু খেয়ে কাছে টেনে দুই নিঃশ্বাসকে এক করে এলোমেলো চুলগুলোতে আঙ্গুল জড়িয়ে ‘A Night to Remember’ বানানোর বদলে ‘কেউ কেউ’ তার দু’হাত চেপে তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে মেয়েটির জন্য ‘A Night to Forget’ বানাতে চায়…. আমি সত্যিই জানি না।

আমি চাই না বন্ধুদের আড্ডায় কোন একদিন আমার কোন বন্ধু এসে দাঁত বের করে বলুক, “দোস্ত, বিয়ের পর গত দুই দিনে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত মিলিয়ে চৌদ্দবার…! এমন ভাবে ****, উঠেই দাঁড়াতে পারতেসে না..!”

আমি চাই, তাঁদের মুহূর্তগুলো অনিন্দ্য সুন্দর হোক অনুপম রয় কিংবা জেমসের গানের লিরিকের মতো… বছরের পর বছর তাদের ঠোঁটের কোণে হাসি হয়ে বেঁচে থাকুক সময়গুলো।

[এডিটরস নোটঃ নাগরিক কথা সেকশনে প্রকাশিত এই লেখাটিতে লেখক তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তার অভিমত প্রকাশ করেছেন। নিয়ন আলোয় শুধুমাত্র লেখকের মতপ্রকাশের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফরমের ভূমিকা পালন করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির সম্মানহানি এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আপনার আশেপাশে ঘটে চলা কোন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরতে চান সবার কাছে? আমাদের ইমেইল করুন neonaloymag@gmail.com অ্যাড্রেসে।]

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top