ফ্লাডলাইট

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ এবং আইসিসির নতুন নিয়মাবলি!

নিয়ন আলোয়

অবশেষে আলোর মুখ দেখছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ! নয় দলের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের সূচী চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। প্রতিটা দল ১২ টা সিরিজ খেলবে লীগ ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে। ৬ টি হোম সিরিজ, ৬ টি এওয়ে সিরিজ। বছরে ৩ টি সিরিজ (একটি হোম, দুটি এওয়ে অথবা একটি এওয়ে, দুটি হোম সিরিজ), এভাবে চার বছর চলবে। তারপর শীর্ষ দুই দল একটি ফাইনাল টেস্ট খেলবে। সেখানে জয়ী দল হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়ন। এটা অনেকটা ইউরোপিয়ান ফুটবলের মতো।

চার বছরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ এর আওতায় বাংলাদেশ যেসব সিরিজ পেয়েছেঃ

সালঃ ২০১৯-২০২০
হোম সিরিজঃ অস্ট্রেলিয়া
এওয়ে সিরিজঃ ভারত এবং শ্রীলংকা

সালঃ ২০২০-২০২১
হোম সিরিজঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নিউজিল্যান্ড
এওয়ে সিরিজঃ পাকিস্তান

সালঃ ২০২১-২০২২
হোম সিরিজঃ পাকিস্তান
এওয়ে সিরিজঃ নিউজিল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সালঃ ২০২২-২৩
হোম সিরিজঃ ভারত এবং শ্রীলংকা
এওয়ে সিরিজঃ সাউথ আফ্রিকা

প্রতিটা সিরিজ অন্তত দুই টেস্টের হবে। প্রতিটা সিরিজের সাথেই ওয়ানডে বা টি টুয়েন্টি যোগ করতে পারবে দুই বোর্ড আলোচনা করে।

২০২৩ বিশ্বকাপের দশ দল নির্বাচনের জন্য ১৩ দলের ওয়ানডে লীগের সূচী চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। প্রতিটা দল আটটি সিরিজ পাবে হোম এবং এওয়ে ভিত্তিতে। বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে হবে এই আট সিরিজের ফলাফলের ভিত্তিতে। অন্য কোন ওয়ানডে সিরিজের ফলাফলের সাথে বিশ্বকাপে খেলার সম্পর্ক থাকবে না।

১৩ দলের ওয়ানডে লীগে বাংলাদেশ যে আটটি সিরিজ পাচ্ছেঃ

সালঃ ২০২০-২০২১
হোম সিরিজঃ ইংল্যান্ড এবং আফগানিস্তান
এওয়ে সিরিজঃ আয়ারল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড

সালঃ ২০২১-২০২২
হোম সিরিজঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং শ্রীলংকা
এওয়ে সিরিজঃ সাউথ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে

আইসিসির এই নতুন নিয়ম ভালো লেগেছে। প্রতিটা দল অন্তত বছরে তিনটা টেস্ট সিরিজ পাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, ভারতের সাথে আমাদের যে গ্যাপ গুলা পড়ে সেরকম গ্যাপ কমে যাবে। ২০১৯ সালেই অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর করবে আবার বাংলাদেশ ভারত সফরে যাবে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের বাইরেও অনেক টেস্ট খেলার সুযোগ থাকবে। যেমন, চ্যাম্পিয়নশীপের আওতায় বাংলাদেশের ইংল্যান্ডের সাথে কোন টেস্ট নেই। কিন্তু ওয়ানডে লীগের আওতায় ২০২০ সালে ইংল্যান্ড ওয়ানডে খেলতে আসবে বাংলাদেশে, নিশ্চয় তখন বিসিবি এবং ইসিবি ওয়ানডের সাথে টেস্ট খেলবে যদিও চ্যাম্পিয়নশীপের পয়েন্ট তালিকায় সেটা যুক্ত হবেনা। ইংল্যান্ড আগেই কথা দিয়ে রেখেছে যেহেতু তারা বাংলাদেশকে সফরের আমন্ত্রন জানাবেনা ২০২৩ পর্যন্ত সুতরাং তারা ওই সময়ের ভেতর অন্তত দুইবার টেস্ট খেলতে আসবে বাংলাদেশে।

আবার নিউজিল্যান্ডের সাথে চ্যাম্পিয়নশীপের দুটি সিরিজ ছাড়াও আরো একটা হোম সিরিজ আগেই নিশ্চিত করা আছে। একইভাবে জিম্বাবুয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের আওতায় না থাকলেও বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের অন্তত তিনটা সিরিজ আগেই কনফার্ম করা আছে। একই ভাবে আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ডের সাথে যখন ওয়ানডে লীগের ম্যাচ হবে তখন নিশ্চয় টেস্ট থাকবে। বিসিবি নিশ্চয় ২০২৩ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান বা আয়ারল্যান্ডের সাথে টেস্ট না খেলে থাকবেনা!

একই কথা ওয়ানডের জন্য, টেস্ট খেলতে দল গুলা যখন সফর করবে তখন নিশ্চয় তার সাথে ওয়ানডে এবং টি টুয়েন্টি যুক্ত হবে। যেমন, ২০১৯ সালে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের ম্যাচ খেলতে যখন অস্ট্রেলিয়া আসবে তখন অবশ্যই বিসিবি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আলোচনা করে ওয়ানডে যুক্ত করবে। আবার বাংলাদেশ যখন ভারতে যাবে টেস্ট খেলতে তখন এর সাথে ওয়ানডে যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

বিসিবি যদি কূটনৈতিক খেলায় সফল হয় তাহলে অসংখ্য খেলা আদায় করে নিতে পারবে। প্রতিটা দলের জন্য আইসিসি বছরে তিনটা টেস্ট সিরিজ এবং চারটা ওয়ানডে সিরিজ ফিক্সড করে দিয়েছে। এর বাইরে দল গুলার হাতে সুযোগ থাকবে নিজেরা নিজেরা সিরিজ আয়োজন করার।

পুরা সিস্টেমে দুটি বিষয় চমৎকার হয়েছেঃ

এক, বিশ্বকাপ বাছাই এর সিরিজ আগে থেকেই চূড়ান্ত করে দেয়ায় কোন দল একটা সিরিজ খারাপ করলেই আগের মত কোন দূর্বল দলের সাথে হুট করে সিরিজ খেলে পয়েন্ট বাড়ায় নিতে পারবেনা।

দুই, লীগ ভিত্তিক করায় সব দলের অন্য দলের খেলার উপর নজর থাকবে। আগে যেমন দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সংশ্লিষ্ট দুই দল ছাড়া আগ্রহ থাকতো না এখন তেমন হবেনা, এখন বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ হলেও বাকি সব দলের হয়তো নজর থাকবে কারন এটা যে লীগ ভিত্তিক সিস্টেম!

আইসিসির নতুন নিয়মাবলিঃ

১) কোন দল যদি আম্পায়ার এর ডিসিশান চ্যালেঞ্জ করে, এবং ডি আর এস এ আম্পায়ারস কল আসে তাহলে সেই দল এর রিভিউ কাটা যাবে না। আগে রিভিউ কাটা যেত। অর্থাৎ “আম্পায়ার কল” হলে রিভিউ কাটা যাবে না।

২) আবার টেস্টে ৮০ ওভার শেষ হলে দুই দলেরই দুইটা করে রিভিউ টপ আপ হতো, মানে ৮০ ওভার শেষ এ দুই দল এর রিভিউ কোটা যেমনই থাক না কেন তা ৮১ তম ওভার এর শুরু থেকে দুই দলের জন্যই রিভিউ ব্যালান্স ২ হতো। এখন আর এই নিয়ম টা থাকছে না। অর্থাৎ পুরা ইনিংস জুড়ে ২ টি রিভিউ পাবে সব দল।

৩) রান আউট রুলের ক্ষেত্রে আগে ব্যাটসম্যান ক্রিজ ক্রস করার (মানে ব্যাট বা পা দিয়ে ক্রিজ ক্রস) পরেও যদি উইকেটকিপার স্টাম্প ভাংগার সময়ে ব্যাট বা পা (যেটা প্রযোজ্য) সেটা শূন্যে মানে বাতাসে থাকত তাহলে ব্যাটসম্যান আউট হতো। এখন এসব ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান আউট হবে না। অনেক সময় ব্যাট গ্রাউন্ড করার পরেও ডাইভ দিলে বা রানিং অবস্থায় থাকলে ব্যাট বাউন্স করে উঠে যেত, ওই মূহুর্তে স্ট্যাম্প ভাঙলে আউট ধরা হতো। এখন থেকে ব্যাট একবার গ্রাউন্ড করলেই চলবে।

৪) সিরিয়াস খারাপ আচরন করলে যেকোন প্লেয়ারকে কয়েক ওভার থেকে শুরু করে সম্পুর্ন ম্যাচের জন্য মাঠ থেকে বের করে দিতে পারবে আম্পায়ার। সেক্ষেত্রে ওই দল ১০ জন প্লেয়ার নিয়েই খেলবে এবং প্রতিপক্ষ দল ৫ রান পেনাল্টি হিসেবে অতিরিক্ত পাবে।

৫) টি টুয়েন্টি ক্রিকেটে DRS ব্যবহার করা হবে প্রতিটা দল ১ টি করে রিভিউ পাবে।

৬) DRS বাধ্যতামূলক হবে সব ফরম্যাটে, DRS এর জন্য বল ট্র্যাকিং এবং এজ ডিটেক্টর (আলট্রাএজ বা স্নিকোমিটার) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক (বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সিরিজ মনে আছে? এজ ডিটেক্ট করার জন্য কিছু ছিলোনা! বারবার ভিডিও দেখা লাগতো। আলিদ দার মাথা নাড়া নাটক করার পর ওই রিভিউ, ওইটা কখনোই ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব না, তাইনা?), হটস্পট ব্যবহার বাধ্যতামূলক না কারন এটি খুবই ব্যয়বহুল সামরিক ক্যামেরা এবং ব্যবহার করার জন্য আগেই সংশ্লিষ্ট দেশের ডিফেন্স মিনিস্ট্রির অনুমতি নিতে হয়।

৭) ব্যাটের সাইজ চূড়ান্ত করে দেয়া হয়েছে। ইচ্ছা করলেই বড় সাইজের ব্যাট ব্যবহার করা যাবেনা।

আগামী ১ অক্টোবর ২০১৭ থেকে এই সকল নিয়ম কার্যকর হবে।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top