ফ্লাডলাইট

টেস্ট পরিবারে নতুন দুই সদস্য এবং ২০২৩ বিশ্বকাপের “মিউজিক্যাল চেয়ার”!

নিয়ন আলোয়

গতকাল টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড। টেস্ট স্ট্যাটাস পেলেও এখনই তাদের জন্য খেলা বরাদ্দ দিতে পারছেনা আইসিসি। তাই খেলতে হলে আগের মতোই বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা করে সিরিজ আয়োজন করতে হবে।

আইসিসির বর্তমান এফটিপি ২০১৯ সাল পর্যন্ত। ২০১৪ সালে এই এফটিপি করার সময় দেশ ছিলো দশটা, আইসিসির সব সূচী সেভাবেই করা। ব্যস্ত সূচীতে হূট করে আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ডের খেলা ঢোকানো সম্ভব না। সে কারনে আগের মতোই অন্যদের ফাঁকা সময়ে আলোচনার মাধ্যমে খেলতে রাজি করাতে হবে তাদের।

আইসিসি তাদের জন্য খেলা রেখেছে ২০২০-২০২৩ এফটিপিতে। বলে রাখা ভালো, ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের দশ দল নির্ধারিত হবে ১৩ দলের ওয়ানডে লীগের মাধ্যমে। এই লীগের আওতায় প্রতিটা দল দুই বছর সময়ে নির্ধারিত আটটি সিরিজে অংশ নিবে লীগের আওতায়। এই আট সিরিজের ফলাফলের উপরই নির্ধারিত হবে কোন দশ দল বিশ্বকাপ খেলবে। এই পূর্ব নির্ধারিত আট সিরিজের বাইরে যেকোন দল যত খুশি সিরিজ খেলতে পারবে তবে সেগুলার জয় পরাজয়ের উপর বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা নির্ভর করবে না। অর্থাৎ এখন যেমন যেকোন দল হুট করে সিরিজ আয়োজন করে পয়েন্ট বাড়িয়ে শীর্ষ আট দলে থাকার চেষ্টা করে সেটা হবেনা। বছরে চারটি সিরিজ হবে লীগের আওতায় যেগুলার জয় পরাজয় বিশ্বকাপে খেলার সাথে জড়িত থাকবে আর বাকি সিরিজগুলা শুধুমাত্র ১ নাম্বার বা ২ নাম্বার পজিশন দখলের লড়াই।

টেস্ট খেলা ১২ দলের সাথে ১৩ তম দলটা হবে ডিভিশন ওয়ানের শীর্ষ দল (বর্তমানে নেদারল্যান্ড শীর্ষে আছে)।

আইসিসি আফগানিস্তানের জন্য যেসব সিরিজ রেখেছেঃ

২০২০-২০২১ সালঃ
ওয়ানডে হোম সিরিজঃ পাকিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড
ওয়ানডে এওয়ে সিরিজঃ বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকা

২০২১-২০২২ সালঃ
ওয়ানডে হোম সিরিজঃ অস্ট্রেলিয়া এবং ১৩ তম দল
ওয়ানডে এওয়ে সিরিজঃ ভারত এবং জিম্বাবুয়ের

আইসিসি আয়ারল্যান্ডের জন্য যেসব সিরিজ রেখেছেঃ

২০২০-২০২১ সালঃ
ওয়ানডে হোম সিরিজঃ নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশ
ওয়ানডে এওয়ে সিরিজঃ আফগানিস্তান এবং ইংল্যান্ড

২০২১-২০২২ সালঃ
ওয়ানডে হোম সিরিজঃ সাউথ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে
ওয়ানডে এওয়ে সিরিজঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ১৩ তম দল

এই সিরিজগুলাই তাদের ২০২৩ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সিরিজ। এছাড়া আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তান যেকোন দেশের সাথে আলোচনার সাপেক্ষে যত খুশি সিরিজ আয়োজন করতে পারবে এখনকার মতোই।

ওয়ানডে লীগের সবচেয়ে লাভবান দেশ হবে ১৩ তম দেশটা, সহযোগী দেশ হয়েও তারা বছরে চারটা হিসেবে দুই বছরে আটটা সিরিজ পাবে। প্রতি সিরিজে নূন্যতম দুটি ওয়ানডে থাকলেও দুই বছরে অন্তত ১৬ টা ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাবে তারা। ধরাযাক, দলটা নেদারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড দুই বছরে ১৬ টা ওয়ানডে খেলার কথা অতীতে কল্পনাও করতো কিনা সন্দেহ আছে!

টেস্ট ক্রিকেটের বিষয়টা আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের জন্য অন্যরকম হবে, প্রথম সারির দল গুলার সাথে টেস্ট খেলাটা পুরাটাই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উপর নির্ভর করবে।

২০১৯ বিশ্বকাপের পর শুরু হতে যাচ্ছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ, চলবে ২০২৩ বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিবে পয়েন্ট তালিকার প্রথম ৯ দল। যারা নিজেদের ভেতর টেস্ট খেলবে, মেয়াদ শেষে শীর্ষ দুই দল একটা টেস্ট খেলবে, জয়ী দল হবে চ্যাম্পিয়ন, তাদের আর্থিক পুরস্কার দেয়া হবে। চ্যাম্পিয়নশীপের আওতায় থাকা সিরিজ নূন্যতম দুই টেস্টের হতে হবে।

আর নীচের ৩ দল, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড নিজেদের ভেতর টেস্ট সিরিজ খেলবে। সেখানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল প্রথম ৯ দলের সাথে খেলার সুযোগ পাবে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের বাইরেও সব দল দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজ খেলতে পারবে। যেমন এশেজ সিরিজ, বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ইত্যাদি, তবে এসব সিরিজের ফলাফলের প্রভাব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের পয়েন্ট তালিকায় পড়বে না।

আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়েকে বড় দলের সাথে টেস্ট খেলতে হলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের ফাঁকে ফাঁকে বড় দল গুলাকে রাজি করাতে হবে অনুরোধ করে। এছাড়া উপায় নেই। আইসিসি অন্তত ২০২৩ পর্যন্ত কোন বড় দলকে বাধ্য করবেনা আয়ারল্যান্ড বা আফগানিস্তানের সাথে খেলার জন্য।

তবে যেহেতু আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের পক্ষে গতকাল সব সদস্য দেশ ভোট দিয়েছে সুতরাং আশা করা যায় প্রতিটা দেশই তাদের সূচীতে থাকা গ্যাপে আয়ারল্যান্ড বা আফগানিস্তানের সাথে খেলবে। এরই ভেতর শোনা যাচ্ছে আয়ারল্যান্ড তাদের অভিষেক টেস্ট এই বছরই ইংল্যান্ডের সাথে খেলবে সেটাও আবার লর্ডসে।

আয়ারল্যান্ডের সুবিধা হবে যেসব দেশ ইংল্যান্ড সফরে যায় তাদের সাথে আলোচনা করে একটা বা দুইটা টেস্ট হয়তো খেলতে পারবে। এতে ইংলিশ কন্ডিশনে সফরকারি দলের ভালো প্রস্তুতি হয়ে যাবে।

আফগানিস্তানের যেহেতু নিজেদের দেশে খেলার অবস্থা নেই তাই তাদের বর্তমান “হোম গ্রাউন্ড” ভারতে হওয়ার সুবিধা নিতে হবে। যেসব দেশ ভারত সফরে আসবে বা বাংলাদেশ সফরে আসবে তাদের ম্যানেজ করে টেস্ট খেলতে হবে।

প্রত্যাশা করি টেস্ট পরিবারের নতুন দুই সদস্যের প্রতি বাকিরা সদয় হবে এবং তারা নিয়মিত টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top