ফ্লাডলাইট

বাংলাদেশ ক্রিকেটঃ যে সাফল্যের শেকড় অনেক গভীরে!

সাফল্যের শেকড় নিয়ন আলোয় neon aloy

তামিম, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ, মাশরাফি। আমাদের পাঁচজন ফার্স্ট জেনারেশন ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ার।

ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটা ছবি আমার খুব প্রিয়। একজন জাগলার হাতে অনেকগুলো থালা নিয়ে জাগলিং করছেন স্টেজে। দর্শক দেখে হাততালি দিচ্ছে। কিন্তু ঠিক স্টেজের পিছনেই পড়ে আছে অগুনতি ভাঙ্গা থালা। সেগুলো দর্শকের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।

সাফল্যের শেকড় নিয়ন আলোয় neon aloy

আমরা জাগলারের স্টেজ পারফর্ম্যান্স দেখে অভ্যস্ত। পিছনের ভাঙ্গা থালার খবর নিতে খুব একটা আগ্রহী না কখনোই।

২০১৫ সালে আমরা হঠাৎ করেই দারুণ একটা টীম হয়ে গেলাম। ওয়ার্ল্ডকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে গেলাম। ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালাম হেসেখেলে। সেই শুরু। ঠিক ঐ সময় থেকেই হঠাৎ করে আমরা যেকোনো ধরনের ক্রিকেটেই যেকোনো যায়গাতেই এবং যেকোনো টীমের বিপক্ষেই বেশ সমীহ জাগানিয়া দল।

আগের প্যারাটা ঠিকই আছে। খালি একটা “হঠাৎ” শব্দ বাদে। আমরা জাগলারের স্টেজ পারফর্ম্যান্স দেখে অভ্যস্ত। পিছনের ভাঙ্গা থালার খবর নিতে খুব একটা আগ্রহী না কখনোই। কাজেই আমরা ২০১৫ দেখি। কিন্তু আগের বছরগুলো তো বটেই, এমনকি ভুলে যাই ২০১৪ সালও। আমাদের আজকের টীমের এই পাঁচজন ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ারও কিন্তু আমরা ২০১৫ সালেই হঠাৎ করে পাই নি। প্রত্যেকের কমপক্ষে ৮/৯ বছরের খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচটাও জেতার অন্যতম বড় কারণ ছিল ইংল্যান্ড দলটার সাথে এই অভিজ্ঞতার পার্থক্য। প্রথমে ব্যাট করে আমরা দুবার বেশ বাজে সিচুয়েশনে পড়েছিলাম। দ্রুত ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তরুণ সৌম্যকে নিয়ে সেই পরিস্থিতি সামাল দেন অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ। আবারও দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ার পর সঙ্গে পান মুশফিকুর রহিমকে। রান হয় ২৭৫। ওই উইকেটে মোটামুটি কম্পিটিটিভ একটা স্কোর। সেই স্কোর ডিফেন্ড করতে গিয়েও ইংল্যান্ডের প্রথম ও ২য় উইকেট জুটি আমাদের ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দিচ্ছিল। একবার হয় রান-আউট আর আরেকবার আঘাত হানেন অভিজ্ঞতম সেনানী মাশরাফি বিন মুর্তজা।

তো যেটা বলছিলাম, অভিজ্ঞতা একদিনে আসে না। এমন একটা টীমও একদিনে গড়ে তোলা যায় না। এই তামিম-মুশফিকরা যখন প্রথম টীমে আসেন তখন বাংলাদেশে বলার মত ব্যাটসম্যান কে ছিলেন?? জাভেদ ওমর বেলিম কিংবা হাবিবুল বাশার সুমনরাই তো! তাঁরা ব্যাটিং এর যে স্ট্যান্ডার্ড সেট করেছিলেন সেটা কিন্তু ছাড়িয়ে গেছেন তামিম-মুশিরা। বেলিম-সুমনরা আবার ছাড়িয়ে গেছিলেন নান্নু-আকরাম খানদের সেট করা স্ট্যান্ডার্ড। এই তামিম-মুশিরা যখন প্রথম দলে আসেন তখন তাঁরা কেমন ব্যাটসম্যান ছিলেন একবার মনে করে দেখেন তো! ৩০ ম্যাচ খেলার পর তাদের এভারেজ কেমন ছিল?? আর হালের সৌম্য-সাব্বির-সৈকতদের ৩০ ম্যাচ খেলার পর এখন এভারেজ কেমন?? পার্থক্যটা স্পষ্ট। কাউকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তখন দলে টিকতে হলে বেলিম বা সুমনদের কাছাকাছি মানে খেলা লাগত। এখন খেলা লাগে তামিম বা মুশিদের কাছাকাছি মানে। আগের জেনারেশনের সেট করা স্ট্যান্ডার্ডটাকে পরিশ্রম আর প্রতিজ্ঞা দিয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাগিদটা যখন পরের জেনারেশন অনুভব করবে, উন্নতিটা তখনই হবে।

তাই আজকে যে আমরা একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিতে খেলছি, এই সাফল্য একদিনের না। বীজ বপন হয়েছিল সেই আকরাম-নান্নু কিংবা কে জানে, জুয়েল-রকিবুলদের আমলে। সেটার ফল বের করে আনছেন আজকের মাশরাফিরা। সেমিতেও একদিনে জিতব না। আরও এক/দুইবারের চেষ্টায় হয়ত ফাইনালে যাব। ফাইনালেও এক/দুইবার মন ভাঙ্গার পর জিতব ট্রফি। সমর্থক হিসেবে আমাদের পরীক্ষাটাও এখানেই। ধৈর্য ধরতে হবে। অপেক্ষা করতে হবে সেকেন্ড আর থার্ড জেনারেশন ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ারদের উঠে আসার জন্য। এইটুকু যদি করতে না পারি তাহলে একটা জয়ের পর মাশরাফি যখন জয়টা উৎসর্গ করেন তাঁর সমর্থকদের, সেটার মূল্য কতটুকু থাকবে??

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top