নাগরিক কথা

নিঝুম দ্বীপের গল্প…

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

নিঝুম দ্বীপ গেছিলাম সেই ২০১০-এ একবার। ভার্সিটি থেকে পাশ করার পর তখন সবে ঘোরাঘুরি শুরু করেছি। আমাদের একটা ছোটখাটো গ্রুপের মতো আছে বন্ধুরা মিলেই। প্রতিবছর শীতে একটা টার্গেট থাকে নতুন কোন জায়গায় ক্যাম্প করার। গতবছর করেছিলাম সোনাদিয়ায়। তাই এ বছর অনেক গবেষণার পর বের হলো নিঝুম দ্বীপেই হবে আমাদের ক্যাম্প। নিঝুম দ্বীপ যাবার ব্যাপারটা একটু ঝামেলার, তাই খুব চিন্তাভাবনা করে প্ল্যান করা হলো। খুঁজে-টুজে মোটামুটি ১০ জনের একটা গ্রুপ দাঁড়িয়ে গেলো। তাঁবু ম্যানেজ করা হলো ৩ টা। প্ল্যান হলো ডিসেম্বরের ৯ তারিখ যাবো। সুতরাং সেই মত তাঁবুর সব জিনিসপত্র, কোথায় থাকা হবে- এগুলো একটা মোটামুটি প্ল্যান হয়ে গেলো। এরপর খালি যাবার অপেক্ষা।

নিঝুম দ্বীপ হলো মেঘনা নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা বিশাল চর এলাকা। চট্টগ্রাম থেকে নিঝুম দ্বীপ যাবার সবচাইতে পপুলার রুটটা হলো নোয়াখালী চেয়ারম্যানঘাট হয়ে। সকাল ৮ টার সীট্রাক ধরে আমরা চলে গেলাম হাতিয়া নলচিড়া ঘাটে। গিয়ে দেখি বেশ অবাক করা ব্যাপার। এতো মানুষ যে যায় হাতিয়া, আমাদের ধারণা ছিলো না। সীট্রাকে তিলধারণের জায়গা নেই। আমরা কোনমতে একটা বসার জায়গা খুঁজে পেয়েছিলাম অবশ্য! আমাদের সাথে আরো দুটো কাপল এবং একটা পিচ্চিও ছিলো। ওরা মূলত আমাদের রাজেশের পরিচিত। সব মিলিয়ে বিশাল এক গ্রুপ পেয়ে আমরা বেশ উত্তেজিত! হাতিয়া নেমে দেখি আমাদের জন্য পুলিশের জিপ দাঁড়িয়ে। আসলে উনারা সবাই হলেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। উনাদের কল্যাণে মোটামুটি ভালই একটা যাবার ব্যবস্থা হয়েছিলো। জিপে আমরা রওনা দিলাম। এবার যেতে হবে হাতিয়ার মোটামুটি শেষ মাথা নিঝুম দ্বীপের ঘাটে, ওখান থেকে ছোট ট্রলারে নিঝুম দ্বীপ।
নিঝুম দ্বীপের ঘাটে পৌঁছানোর পরপরই বেশ ক্ষিদে লেগে গিয়েছিলো সবার। ভারী নাস্তা করে নিলাম সবাই, সাথে গরুর দুধের চা। এগুলো হলো ট্রিপের স্পেশাল পাওনা, কেউ মনেহয় দু’কাপের কম খাইনি! যাই হোক, নিঝুম দ্বীপ যেতে যেতে তখন প্রায় দুপুর ৩ টা বাজে। আমরা নেমেই সব মোটরসাইকেলে উঠে গেলাম। এবার গন্তব্য নিঝুম দ্বীপের আরেক প্রান্তে, ওখানেই সবার থাকার ব্যবস্থা। ‘নিঝুম রিসোর্ট’ বেশ সুন্দর। সামনে একটা ছোটখাটো মাঠমতোন আছে। বারবিকিউ, ক্যাম্পফায়ার সবই মোটামুটি করা যায়। ওখানে আমাদের কাপল গ্রুপের জন্য ২ টা, আর আমাদের ব্যাচেলর পার্টির জন্য ১ টা রুম বুক দেয়া হয়েছে। আমরা তো আসলে তাঁবুতেই থাকবো। তবুও অনেক বড় গ্রুপ, তাই সেফটি হিসেবে এটা করা হয়েছিলো।

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

আমাদের গ্রুপের সবার একটা সিল্যুয়েট

খাওয়াদাওয়া শেষ করেই আমরা দ্বীপ ঘুরতে বের হয়ে গেলাম। ওখান থেকে খুব কাছেই বিচ এরিয়া। আমরা পুরো বিকেলটা ওখানেই কেটেছে। বিশাল সীবিচ- সূর্য ডুবছে, আমরা ছাড়া আর তেমন কোন ট্যুরিস্ট গ্রুপও নাই। প্ল্যান হলো রাতে এখানেই ক্যাম্প হবে। আমরা বেশ ছবি-টবি তুলছি। আর ক্যাম্পের জায়গাটা ফিক্সড করে হোটেলে চলে এলাম। সবাই বেশ টায়ার্ড। সবাই হাল্কা রেস্ট নিয়ে নিলাম, নাহলে রাতে মজা হবে না। হোটেলটার রান্না বেশ ভালো। সবাই আরেকদফা ভারী খাওয়া-দাওয়া করে নিলাম। এখন আমরা সেই চরে চলে যাবো। কিন্তু কারো পা যেনো চলছেই না। যেখানে বসে তো বসেই থাকে! রাত দেড়টার দিকে মনে হয় সবাই ক্যাম্পসাইটে গিয়েছিলাম।

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

নিঝুম রিসোর্ট

এবার কাজ টেন্ট পিচ করা। পূর্ণিমা ছিলো ভালোই। এসব কাজে ওস্তাদ কিছু লোকজন আমাদের গ্রুপেই ছিলো। কিন্তু কি যে বাতাস! টেন্টগুলো পিচ করার পর মনে হচ্ছিলো ভেসে যাবে। আমরা ব্যাকপ্যাক দিয়ে টেন্টগুলো সব সাপোর্ট দিয়ে দিলাম। এর পরের কাজ আগুন জ্বালানো, ক্যাম্পফায়ার না হলে কি হয়? কেরোসিন আছে, সাথে ছেলেপুলে খুঁজে কাঠ নিয়ে আসলো… এবার দাও আগুন! কি আছে জীবনে? আমাদের সাথে ফানুস থাকে মোটামুটি সব টূুরেই, এখন ফানুস ওড়াতে হবে। কিন্তু কি যে বাতাস! ফানুসগুলো উপরের দিকে ওড়ার কোন প্রেশারই পাচ্ছে না, কেমন ডিগবাজি খেয়ে সমুদ্রের দিকে চলে যাচ্ছে। ওড়ার বদলে ফানুসের ডিগবাজি খেতে দেখাটা একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা বটে!

এরপর আর কাজ কি! সবাই আগুনের পাশে গোল হয়ে বসে আছি, আর আজগুবি সব আলাপ চলছে। আকাশে প্রচুর তারা। তখন প্রায় ৪ টা বাজে। সবাই খুব টায়ার্ড, ঘুমাতে তো যেতে হবে কারণ পরদিন পুরো নিঝুম দ্বীপ ঘোরার ইচ্ছা। সুতরাং তাঁবুতে ঢুকো। আমি ভুলে একটাতে ঢুকে গিয়েছিলাম যেটা বাতাসের সাথে একটু অ্যাঙ্গেলে ছিলো। ঘুমে চোখ পড়ে যাচ্ছে, তখন তাঁবুর ব্যাপারটা খেয়াল-টেয়াল করি নাই। সকাল ৬ টায় ঘুম ভেঙে মনে হলো শীতে মনেহয় মারাই যাবো, টেন্টের নিচ দিয়ে হু-হু করে বাতাস ঢুকছে। আমি কাঁপতে কাঁপতে উঠে গেছি, আর হাত পা স্ট্রেচ করছি। হাইপোথার্মিয়া হয়ে যায় কিনা! সূর্য ওঠার জন্য এর আগে এতো কাতর কখনো হয়েছি কিনা জানা নেই।

পরদিন খুব সকালেই উঠে পড়লাম আমরা। রাজেশ তাগাদা দিচ্ছিল বারবার। আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন দলের বাকি সদস্যরা। মানে সেই কাপল গ্রুপ। উনারা হোটেলে ছিলেন। আমরা ৮ জন ছিলাম টেন্টে। কিন্তু বললেই কি রেডি হওয়া যায়! শীতার্ত এক রাত কাটানোর পর আমাদের মাথা প্রায় নষ্ট! টেন্ট প্যাক করা, সবকিছু গুছিয়ে হোটেলে ফিরতে ফিরতে আমাদের ৮ টা বেজে গিয়েছিলো। এরপর খাওয়া-দাওয়া করে রেডি হতে হতে প্রায় ৯ টা বাজে। উনারা সেই সকাল থেকে রেডি আমাদের জন্য। মনে মনে একটু বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। যাই হোক, ট্যুরে এসব ঘটেই। আমরা সবাই বের হয়ে পড়লাম। এবার উদ্দেশ্য পুরো দ্বীপ ট্রলারে রাউন্ড দেওয়া। চৌধুরীখাল দিয়ে বের হতে হতে দ্বীপটার আয়তন পরিস্কার হচ্ছিলো আমাদের কাছে। নিঝুম দ্বীপ মূলত মেঘনা নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা বিশাল চর। মেঘনা নদী প্রচুর পলিমাটি বহন করে। ওখান থেকেই বালি আর কাঁদামাটি একটা জায়গায় জমতে জমতে এ চরগুলো তৈরি হয়। এ দ্বীপের পুরনো নাম ছিল চর ওসমান। সেখান থেকে কিভাবে নিঝুম দ্বীপ নাম এলো- সেটা আমাদের জানা নেই।

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

চৌধুরীখাল

দ্বীপটা ঘুরছি আমরা এর ধার ঘেঁষে। কিছুক্ষণ পর একটা জায়গায় নামলাম, নাম কমলার চর। কমলা আছে কিনা জানি না, কিন্তু বেশ সুন্দর জায়গা। আর এখানে প্রচুর হরিণের পায়ের ছাপ দেখলাম। ওগুলো অনুসরণ করে করে বেশ কিছুটা গেলামও সবাই, কিন্তু হরিণ বাবাজীদের দেখা পাওয়া সত্যিই কঠিন। খুব নিঃশব্দ না হলে হরিণের দেখা পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব। আমি যখন ২০১০-এ এসেছিলাম তখন দেখা পেয়েছিলাম কিছু হরিণের, এখন মনে হয় সংখ্যায় কমে গেছে। ট্যুরিস্টরা হরিণের মাংস খাবার লোভ সংবরণ না করলে এদের সংখ্যা কমতেই থাকবে। যাই হোক, আমরা তখন একটু হতাশ বৈকি! আমাদের ট্রলারের মাঝি বললো দুপুরে আমাদের একটা জায়গায় নিয়ে যাবে যেখানে নাকি প্রচুর হরিণ আসে। কমলার চরে শ্বাসমূল দেখলাম প্রচুর, কিন্তু তেমন ঘন নয়। ওখানে বেশ কিছু সময় ছিলাম আমরা। ছবি-টবি তোলা হল। আমাদের দলের পিচ্চি সদস্য ডিএসএলআর দিয়ে দারুণ দারুণ সব ছবি তুলছিলো। এই বয়সেই নিঝুম দ্বীপ ঘুরতে আসা- মাই গড! শায়লা আপুর পিচ্চি এটা। রাজ্যের কৌতুহল ওর চোখে। পুরো টুরের মজাটা যেন ওর মধ্যে দেখতে পাচ্ছিলাম আমরা। কিন্তু জায়গাটা থেকে যেন উঠতেই মন চাইছে না। সবকিছু কি শান্ত! এটাই কি সেই ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়ার নিঝুম দ্বীপ?!

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

কমলার চর

আমরা আবার বের হয়ে পড়লাম। এরপর আমরা ঘুরে চলে গেলাম নিঝুম দ্বীপের ঘাটে যেখানে স্পেশাল গরুর দুধের চা পাওয়া যায়। আহ! ক্ষিদে লেগে গেছে সবার অনেক। আগে খাওয়া, তারপর দ্বীপ-টিপ সব দেখা যাবে। যেমন খুশি তেমন সাজো স্টাইলে যে যার মতো ইচ্ছে সব খেলাম! আবার রওনা। এবার আমরা চলেছি নতুন জেগে ওঠা এক বিশাল চরের দিকে। নামটা ভুলে গেছি, কেউ তেমন থাকে না মনে হলো। দূরে বিশাল বন। এই চরে মনে হয় একসাথে লাখখানেক টেন্ট পিচ করা যাবে! মাথার ওপর ঠা-ঠা রোদ, ছাউনি নাই। আমরা আর কেউ নামার সাহস করলাম না। এবার দ্বীপের মোটামুটি পেছন দিকে চলেছি আমরা। মাঝি একটা বনের মধ্যে নৌকা ভেড়াল। কিন্তু এটা আসলে কি ধরণের বন বুঝলাম না। ঠিক পরিষ্কারভাবে দেখা দেখা যায় না। সব কেমন কাঁটা-কাঁটা গাছ, আর খুব ঘন শ্বাসমূল। দেখে যা বুঝলাম, এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির বন। আমরা মোটামুটি ওখান থেকে পালিয়ে বাঁচলাম! এরপর আবার বোটে, দ্বীপে ফেরত আসার উদ্দেশ্যে। দ্বীপটার একটা অংশে বালি, আরেক বাকি বিশাল অংশে মূলত কাদা। বোট যখন দ্বীপের কাছাকাছি, জীবনে প্রথমবারের মত Flying Fish দেখলাম। ছোট ছোট মাছগুলো কেমন যেন উড়ে উড়ে যাচ্ছে। আর নানান ধরণের পাখিও চোখে পড়লো।

পুরো নিঝুম দ্বীপটা রাউন্ড দিয়ে অনেকগুলো জিনিস পরিষ্কার হলো। দ্বীপটা বিশাল বড় আর দিন দিন আরো বড় হচ্ছে। একেকটা দিক একেকরকম। কোনদিকে অল্প ঘন শ্বাসমূল, আবার কোনদিকে খুব ঘন। আবার একদিকে বিশাল বন, কোন শ্বাসমূল নেই (সোয়াম্প ফরেস্ট)। সবমিলিয়ে সুন্দরবনের মিনিয়েচার ভার্সন বলা যায়। আমরা চৌধুরীখাল দিয়ে আবার ঢুকলাম। তখন বেলা প্রায় ২ টা বাজে। আমাদের আবার বের হতে হবে! তোরা যে যা বলিস ভাই, হরিণ দেখা আমাদের চাই!

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

হরিণের খোঁজে আমরা

লাঞ্চ শেষ করে সবাই বের হবে। মাঝি বলেছে চৌধুরীখালের কাছেই একটা জায়গা আছে, প্রচুর হরিণ নাকি আসে পানি খেতে। সেখানে সন্ধ্যায় গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে হবে। হোটেলটার খাওয়ার মধ্যে জাদু-টাদু আছে কিনা জানি না। এতো টেস্ট সবকিছু! খাওয়ার পর সবাই বের হবার প্রস্ততি নিচ্ছে। আমি বুঝলাম আমাকে একটু রেস্ট নিতেই হবে! আমি আর আমার সাবঅ্যাসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সূর্যসেন বাবু এসেছি সেই সুনামগঞ্জ থেকে। ফেনী মহিপাল নেমে বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছিলো চেয়ারম্যান ঘাটে। যাই হোক, ওরা সবাই বের হয়ে গেলো আর আমি ঘুমালাম আরাম করে! হরিণ দেখা থেকে ঘুমানো মহৎ কাজ- কোন কবি লিখেছেন জানিনা! সন্ধ্যাবেলা সবাই দেখি বিরসবদনে হোটেলে হাজির। আমি তো ভাবছি সবাই হরিণ-টরিণ দেখবে, পারলে দু-একটার সাথে সেলফিও তুলবে! কিন্তু হরিণ কি আর গাছে ধরে! সবাই নাকি অনেক ধৈর্য ধরে বসে থাকার পরেও কোন হরিণ চোখে পড়েনি! তবে ওরা একটা কাজের কাজ করে এসেছে, রাতে ক্যাম্প করার জায়গাটা দেখে এসেছে। আগের রাত চরে থাকার পর আমরা বুঝছি এখানে আর থাকন যাইতোঁ ন! থাকলে দুএকজন হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ সংশয়ে পড়ে যাবে। বাঁচতে হলে যেহেতু জানতে হবে, এবার আমরা থাকবো বনে। বাতাস থেকে প্রটেকশন পাবার আর কোন রাস্তা নেই তখন আমাদের। আর এ জায়গাতে সকালে নাকি প্রচুর হরিণ আসে পানি খেতে, তাই আমরা হরিণ দেখার আরেকটা চান্স নিবো না তা হয় না!

রাতের খাওয়াদাওয়া জম্পেশ হলো। এতোক্ষণে আমাদের সবার মাঝে বেশ একটা সুসম্পর্ক দাড়িয়ে গেছে। এখানে মূলত তিনটা গ্রুপ একসাথে একত্র হয়েছি। আমরা, শায়লা আপুরা ৪ জন (পিচ্চিছাড়া), দু’টো কাপল সবাই জুডিসিাল ম্যাজিস্ট্রেট। ওরা সবাই রাজেশের পরিচিত বড় ভাই। আমরা সবাই বন্ধু। আমার সাথে আছেন সূর্যসেন বাবু, ওদিকে শোয়েবের সাথে আছে শহীদ আর কাজী। আমি, চান্দু রাজু, শোয়েব আর রাজেশ অনেক আগের বন্ধু, সাথে আছে ফটোগ্রাফার কাম ক্লোজ ছোট ভাই লিংকন। এসব ট্যুরে ডিএসএলআর ছাড়া যাওয়ার মানেই হয় না! সব মিলিয়ে একটা হযবরল গ্রুপ। কিন্তু ট্রিপের এ পর্যায়ে এসে সবার মোটামুটি একটা বন্ধু-বন্ধু ভাব চলে এসেছে। ট্যুরের এ জিনিসটাই আসলে সবচাইতে মজার। একদল অপরিচিত লোক আপনার সাথে এমনভাবে পরিচিত হয়ে যাবে যাদের সাথে আপনার অসাধারণ কিছু সুখস্মৃতি থাকবে। শায়লা আপুদের নাকি প্ল্যান ছিলো সুন্দরবন যাবার, কি কারণে হয়নি। এর মাঝে উনারা নিঝুম দ্বীপের প্ল্যান করলেন আর আমরা অটোমেটিক সেখানে অ্যাড হয়ে গেছি! আমাদের সাথে আরেকটা বড় টেন্ট থাকলে খুব সম্ভবত উনারাও তাঁবুতে থাকতেন।

আমাদের রাতের ক্যাম্পিং-এর প্রস্ততি চলছে। এবার আমাদের ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে উথালপাথাল ঢেউ ভেঙ্গে যেতে হবে ক্যাম্পসাইটে! ওই জায়গা সম্পূর্ণ নির্জন। সুতরাং সবকিছু ফাইনালি চেক করে বের হবো, তখন কে জানি বললো এখানেই আরেকটা ফানুস উড়াই। আমাদের তখনো ৩ টা ফানুস আছে, সুতরাং নো চিন্তা! সবাই আছে- কোনকিছু উদযাপনের জন্য এর থেকে ভালো জিনিস হতেই পারে না। ফানুস উড়ে যাচ্ছে, সবাই বেশ এক্সাইটেড! সবকিছু গুছিয়ে আমরা বোটে উঠে পড়লাম, আরেকটা বিনিদ্র রাতের অপেক্ষা…

দ্বিতীয় দিনে নিঝুম দ্বীপ রাউন্ড দেবার পর আমাদের দিল মোটামুটি খুশ। পরদিন ব্যাক করবো আমরা, বাকি আছে শুধু রাতটা। ১০ টার মধ্যে খাওয়ার পর্ব সেরে আমাদের বোটের যাত্রা শুরু। ক্যাম্পসাইটে যেতে হবে, ছোট এক ডিঙ্গি নৌকায় আমরা ৯ জন। একজন একদিকে একটু সরলেই আরেকদিক উঠে যায়! আমার জলভীতি প্রবল! ডিঙ্গিতে আমরা মোটামুটি ব্যালান্স করেই বসছি। কিন্তু চৌধুরীখাল দিয়ে বের হলেই খোলা সমুদ্দুর! কূল-কিনারা দেখা যায় না। নৌকা একবার এদিকে আবার ওদিক। আমার পেট প্রতিবার মোচড় দিয়ে উঠে নৌকা উলটে যায় কিনা! প্যানিক মোমেন্ট এটাই মনে হয়! সাঁতার আমরা কেউই পারি না, আর পারলেও এখানে সেটার কোন ভ্যালু নাই! তার উপর পোলাপান সমানে ভয় দেখাচ্ছে আমাকে! প্রায় ঘন্টাখানেক পর আমরা একটা চরের কাছে পৌঁছলাম।

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

এরকম ছোট ডিঙ্গিতেই সাগর পাড়ি দিয়েছিলাম আমরা!

তখন রাত প্রায় ১২ টা বাজে। চরে নেমে পড়লাম সবাই। তখন পূর্ণিমা না হলেও কিন্তু চাঁদের আলো বেশ ছিলো। আমরা বনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।বিশাল চর, এমাথা-ওমাথা পুরো দেখা যায় না! এটা মূলত সোয়াম্প ফরেস্ট। বর্ষায় ডুবে থাকবে, শীতে চর। প্রায় ২০ মিনিটের মত হাঁটার পর আমরা বনের শুরুর পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছি। জায়গাটা অতিমাত্রায় নির্জন। ১০ বা ২০ মাইলের মধ্যে কেউ আছে কিনা জানিনা আমরা। বনের ভেতরে ঢুকেই আমরা একটা ছোট পুকুরের মতোন দেখলাম। এটাই হরিণের পানি খাবার জায়গা তাহলে! সুতরাং এখানেই ক্যাম্প করতে হবে। এ অংশটা বনের একদম বাইরের দিকে। এরপর একদম ঘন হয়ে গিয়েছে বনটা। এখানে ক্যাম্প করার দু’টো সুবিধা- প্রথমত, বাতাস আমাদের অ্যাটাক করার সুযোগ নেই; আর আশেপাশে জ্বালানি কাঠের অফুরন্ত ভান্ডার। আগের রাতে চরে ক্যাম্প করতে গিয়ে রাজু আর শহীদ এক মহিলার বাড়ি লুট করেছিলো খুব সম্ভবত! পরে রাত ৩ টার দিকে ২ মাইল দূর থেকে উনার চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেয়েছিলাম আমরা। এখানে নো টেনশন! আস্ত বন এখানে, সুতরাং টেন্টের পেগ গাড়ো! ৩ টা টেন্ট ট্রায়াঙ্গল শেপে রেখে মুখগুলো পুকুরের দিকে করে দিলাম আমরা। ভুলে হরিণ টরিণ যদি দেখা যায় এক-দু’টা! মাঝে আমাদের ক্যাম্পফায়ার।

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

ক্যাম্পিং

যেহেতু পুরো রাত এখন আমাদের, প্রচুর জ্বালানি কাঠ আনা হলো। দাও আগুন, কি আছে জীবনে! আগুন জ্বলছে, ঠান্ডা তেমন লাগছে না। আমরা গোল হয়ে বসে আছি! এগুলো হলো যেমন খুশি তেমন করো টাইপ সময়। যার যা খুশি করতে পারে। ৯ জন সদস্য- একেকজন একেকটা করছে। কাজী ছেলেটা খুব কাজের। সে একটা স্পেশাল কাজে ব্যস্ত। রাজু, শহীদ সমানে বন সাফ করে কাঠ নিয়ে আসছে। লিংকন দারুণ সব অ্যাঙ্গেলে ছবি ট্রাই করছে। এসব জায়গায় রাজেশ ছেলেটা কেনো জানি চুপ মেরে যায়, আর আমার কাজ হলো বকবক করা। নাইলে সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সবাইকে গিয়ার আপ করাটা একটা বড় কাজ বটে! এসব কাজে চান্দুকে সবসময় পাই আমি। শোয়েবের প্রধান কাজ ছিলো টেন্ট পিচের সময় টর্চ ধরে রাখা, এর থেকে বেশি সে কি করতে পারে এটা আমাদের জানা নেই। সূর্যসেন বাবু আমাদের কাজগুলো দেখছেন খুব মনোযোগ দিয়ে, উনি মনে হয় বেশি মজা পাচ্ছিলেন। এটা আরেকটা রাজ্যই বটে! হঠাৎ দেখি রাজু শিবের মত তান্ডবনৃত্য শুরু করেছে! পুরো ওয়াইল্ড ড্যান্স। সাথে আরো কে কে ছিলো মনে নেই! সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছে। উৎসবের আয়োজন সম্পন্ন, সুতরাং এখন ফানুস ওড়াতে হবে!

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

আমি যামিনী, তুমি শশী হে…

এখানে বাতাসের তান্ডব নেই। ফানুস উড়িয়ে দিলাম। আহা কি সুন্দর উড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটা বিচের দিকে যাবার বদলে বনের দিকে উড়ে গেলো। তখন ড্রাই সিজন, ফানুসের আগুন কোথাও পড়ে বনে আগুন-টাগুন লেগে গেলে শেষে জেলে ঢুকতে হবে! যাই হোক, এটা উড়ে কই গেছে জানার সৌভাগ্য হয়নি। রাত ২ টার দিকে আমাদের অখন্ড অবসর। চিন্তা করলাম বনের বাইরের দিকে যাই। বের হয়ে বিশাল চর। মাঝে মাঝে গাছের সারি। কি যে অসাধারণ লাগছিলো জায়গাটা! এখানেই ক্যাম্প করা দরকার ছিলো আসলে। আমরা সবাই এক গাছের সারির নিচে গিয়ে শুয়ে পড়লাম… আহা কি শান্তি!

কি সুনসান এ জায়গা, শত কোলাহল থেকে অনেক মাইল যেনো দূরে। অনেক দূরে সমুদ্র আবছা দেখা যাচ্ছে। আমরা তখন আজগুবি সব আলাপে! এত পরিষ্কার আকাশ অনেকবছর দেখি না! রাতের এ সময়টা আকাশ মনে হয় আরো সুন্দর লাগে। চান্দু এর মধ্যে নেট অন করে কোনটা কোন তারা এসব নিয়ে গবেষণা করছে- সপ্তর্ষিমন্ডল, জুপিটার, মার্স, আরো কি কি সব দেখলাম। আমরা শুয়ে আছি আর ভাবছি তারাগুলো কত দূরে, এখানে আলো আসতে আসতে হয়তো তারাটা আর জীবিত নেই, একই সাথে অতীত এবং বর্তমান! আপেক্ষিকতার মূল রহস্যটাতো এখানেই আসলে… সময়!

রাত তখন ৪ টা বাজে। কারোরই ওঠার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু টেন্টে ঢুকতে হবে! পরদিন সকালে রওনা। এখন না ঘুমালে সকাল ১০টার আগে কেউ পারবে না উঠতে। পরদিন খুব ভোরে উঠে গেলাম আমরা ৬ টার দিকে, হরিণ যদি আসে! কিন্তু হরিণ মনে হয় বেশ ভীতু টাইপ প্রাণী, রাতে আগুন-টাগুন দেখে হয়তো ভাবছে বনে দাবানল লেগেছে। ওদের টিকিটিরও দেখা পেলাম না আমরা! কি আর করা, টেন্ট সব গুছিয়ে আমরা রওনা দিয়ে দিলাম বিচের দিকে। শায়লা আপুরা আমাদের উঠিয়ে নিবে বড় ট্রলারে। একটা জিনিস মিস করে গিয়েছি। আগের রাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিলো আমরা বড় ট্রলারে সরাসরি নিঝুম দ্বীপ থেকে নোয়াখালি চেয়ারম্যানঘাট চলে যাবো- ওটাতে সবচাইতে আরামে যাওয়া যাবে।

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

শেষদিন ভোরে…

আমরা ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে বসেছি, ওটা যথারীতি দুলছে এদিক সেদিক। হঠাৎ বড় ট্রলারের শব্দ। দূর থেকে সিন্দাবাদের জাহাজের মতোন লাগছিলো ওটাকে। মনে হচ্ছিলো আমরা যেনো দ্বীপে আটকেপড়া এক ট্যুরিস্ট গ্রুপ উদ্ধার পাবার আশায় বসে আছি! ডিঙ্গি থেকে ওটাতে উঠতে কত যে কাহিনী! যাই হোক, শেষকালে উঠে গেলাম কোনমতে! আমাদের সাথে রাতে তেমন কোন খাবার ছিলো না। সকাল থেকে ক্ষুধায় কাতর (স্পেশালি আমি)। শায়লা আপুরা আমাদের জন্য সব নিয়ে এসেছেন- পরটা, ভাজি, ডিম… গ্রোগ্রাসে খেয়ে নিলাম সবাই! ট্রলার চলছে, আপুরা ছাদে বসে আছেন। প্রচন্ড রোদ, তাই আমরা একটু আড়াল পাবার জন্য ওটার একমাত্র কেবিন টাইপ জায়গাটাতে ঢুকে গেলাম। পোলাপানের আর কাজ কি? তাস পেটাও! ৪ ঘন্টা পর ১২ টার দিকে চেয়ারম্যানঘাট পৌঁছে গেলাম আমরা।

ট্যুর প্রায় শেষ, এখন যে যার গন্তব্যে চলে যাবো আমরা। শায়লা আপুরা যাবে কুমিল্লা। আমরা সবাই এক হোটেলে খাওয়াদাওয়া করে নিয়ে বিদায় নিয়ে নিলাম। পিচ্চিটার কথা মনে থাকবে। আমরা বাকিরা সবাই যাবো চাটিঁগাতে। টিকেট কেটে অপেক্ষা করতে লাগলাম।

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

আমাদের গ্রুপ

আমরা মোটামুটি ট্যুরের শেষ পর্যায়ে। এবার ক্রেডিট দেবার পালা। পুরো ট্যুরের কৃতিত্বটা আমি রাজেশকে দিবো। ওর ম্যানেজমেন্টে এর আগে সাজেক গিয়েছিলাম, ওটাও অসাধারণ ছিলো। এবারেরটাতে সে ছিলো একদম কী-পয়েন্টে। ওর যেহেতু ফেনীতে পোস্টিং, মোটামুটি ওকেই আমাদের দিক থেকে পুরো ধকলটা নিতে হয়েছে। টূরের বাকি সদস্যদের কথা কম বেশি বলেছি। লিংকন ছেলেটা দারুণ ছবি তুলে। এ ট্যুরের যত্ত সুন্দর ছবি- প্রায় সব ওরই তোলা। শোয়েব সবচাইতে অলস টাইপ! তবে ট্যুরে সবাইকে কিছু করতে হবে- এরকম কোন রুলস নেই। তাকে শুধু টর্চ মারার জন্য নিয়ে যাবো ভাবছি নেক্সট সব ট্যুরে। রাজু, শহীদ সবচেয়ে অ্যাকটিভ মেম্বার। শহীদ ছেলেটা জুনিয়র হলেও ব্যাপক কাজের। আর চান্দু তো একপিস! ওর কাজ হলো চরম মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রেখে ডিসিশন দেয়া। কাজী ছেলেটা একটা কাজে খুব স্পেশাল, সেটা আর না-ইবা বল্লাম। সূর্যসেন বাবুকে আমি নিয়ে এসছিলাম আমাদের পাগলামিগুলো দেখানোর জন্য! এরকম রিলাক্স করার জায়গা তো সচরাচর পাওয়া যায় না! আর আমার কথা কি বলবো? আমিও কিছু কাজ হয়তো করি, তবে সেটা বেশিরভাগ সময় উল্টোপাল্টা হয়। তবে এ ট্যুরের আসল ট্যুইস্ট হলো আমি যে এ গল্পটা লিখছি। আদতে আমার যাবার কোন কথাই ছিলো না, আমি চেষ্টা করছিলাম অন্যদিকে যাবার। কিন্তু ট্যুরমেট দেখি প্রচুর আর সবাই ব্যাপক মজার! মনে মনে চিন্তা করছিলাম এ ট্যুরে না গেলে ব্যাপক মিস হবে। এগুলো ‘Once in lifetime’ ট্যুর,পরে হয়তো যাওয়া হবে কিন্তু কোনটাই তো এটার মত না! এসব ভেবে একদম লাস্ট মুহুর্তে আমি ট্যুরে জয়েন করেছি।

নিঝুম দ্বীপের গল্প নিয়ন আলোয় neon aloy

এবং আমি…মকিং বার্ড!

আমরা যে চাকরি-বাকরি করি, সেটা মোটামুটি একটা একঘেঁয়ে জীবন। প্রতিদিন একইরকম কাজ করে যাওয়া। এর মাঝে এ ধরণের ট্যুরগুলো যেন টনিকের মতন কাজ করে- একটা ট্যুর দিলাম তো পুরো ৬ মাসের পেইন রিলিভড! আর দেশটা তো আমাদের, এতো ছোট দেশ কিন্তু এতো ভ্যারাইটি- সেটা ভৌগোলিক হোক কিংবা লিঙ্গুইস্টিক হোক। সূর্যসেন বাবুকে বলেছিলাম আপনি তো সারাজীবন হাওরে চাকরি করলেন, আপনাকে আরেকটা রাজ্য দেখাবো সেটা কত রিমোট আর কত সুন্দর হতে পারে। উনি মোটামুটি বিমোহিত! আমরাও কেমন যেন প্রেমে পড়ে গিয়েছি দ্বীপটার।

আমি গল্পটা লেখার চেষ্টা করেছি এভাবে যেন অন্তত যারা এটা পড়বে, তারা যেনো মোটামুটি ভালো একটা ধারণা পায়। বিশাল গ্রুপে ট্যুর করার অসাধারণ মজা,খরচ যেমন কমে যায় তেমনি অনেককিছু অ্যাভেইল করা যায় খুব সহজে।

শেষ রাতটা আমাদের অসমাপ্তই ছিলো…অনেকটা যাকে বলে টু বি কন্টিনিউড!

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ লিংকন চন্দ

লেখকের আরো ক্যাম্পিং-এর অভিজ্ঞতা পড়ে আসতে পারেন এই লিংকে ক্লিক করে- “স্বর্ণদ্বীপে অভিযান…”

[মাসে-দু’মাসে অন্তত একবার ইট-কাঠে বন্দী শহর থেকে বের হয়ে তাজা হাওয়ার ঘ্রাণ নাকে না নিলে কি আপনার দমবন্ধ হয়ে আসে? নিয়মিত ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশে কিংবা বিদেশে, দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্র? আপনার ভ্রমণের গল্প শেয়ার করুন আমাদের সাথে, পাঠিয়ে দিন neonaloymag@gmail.com এই ঠিকানায়!]

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top