নিসর্গ

মালয়েশিয়াঃ প্রকৃতি, প্রাচুর্য্য আর বৈচিত্র্যের এক মোহনীয় হাতছানি (২য় পর্ব)

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

আগের পর্বের লিঙ্ক- মালয়েশিয়াঃ প্রকৃতি, প্রাচুর্য্য আর বৈচিত্র্যের এক মোহনীয় হাতছানি (২য় পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বঃ কুয়ালালামপুর কথন

লাঙ্কাউই এর মাটি ছেড়ে এয়ার এশিয়ার ছোট্ট এয়ারক্র্যাফটটি যখন আমাদের নিয়ে উড়াল দিল কুয়ালালামপুরের আকাশের পানে, তখন এই ছোট্ট দ্বীপটিকে বিদায় দিতে মনের মাঝে এক অদ্ভুত বিষন্নতা কাজ করছিল। তবে সেই সাথে এক চাপা উত্তেজনাও কাজ করছিল কেমন হবে এই দেশটির প্রধান নগরী তা ভেবে। অবশেষে সাগর পাহাড়ের মিতালী আর চিরসবুজের অপার্থিব সৌন্দর্য্য থেকে আবার আমাদের আগমন ঘটল বাস্তবতার জগতে। ইটকাঠের অবকাঠামোয় গড়া, একের পর এক চোখ ধাঁধানো আকাশচুম্বী বিল্ডিং আর ঝাঁ-চকচকে কৃত্রিম সৌন্দর্য্য নিয়ে রাজধানী শহরটি বরণ করল আমাদের। টুইন টাওয়ারের সমুন্নত শির বেশ কয়েক কিলোমিটার আগে থেকেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল আমাদের। নগরীর ব্যস্ততম এলাকা বুকিত বিন্তাং-এ আগে থেকেই বুকিং করে রাখা হোটেলে ঊঠে পরলাম আমরা।

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

রাতের কুয়ালালামপুর

ফ্রেশ হয়ে আবার বের হলাম খাবারের সন্ধানে। রাস্তায় বেরিয়ে হতবাক! ওমা, এ যে দেখি মিনি বাংলাদেশ। যে দিকেই তাকাই শুধু বাংলাদেশীদের সমারোহ। রাস্তা পার হলেই একাধিক বাঙ্গালী হোটেল। তিনদিন ইন্ডিয়ান কারি আর চিকেন ফ্রাই-এর শ্রাদ্ধ করে আজ থরে থরে বাঙালি খাবার দেখে তর যেন সইছিলনা আমাদের। বেশ কয়েক পদের ভর্তা, ভাজি, মাছ, ডাল, সবজি দিয়ে উদরপুর্তি করে হোটেলে প্রত্যাবর্তন।

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

বিখ্যাত পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার

সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুরের মুল আকর্ষণ টুইন টাওয়ার দর্শন। রং-বেরং এর আলোর ফোয়ারাবেষ্টিত এই জগদ্বিখ্যাত গগনছোঁয়া টাওয়ারটি আসলেই চিত্তাকর্ষক। আমরা অবশ্য খুব বেশি উপরে উঠিনি। টুইন টাওয়ারের শপিং মলে ঢুকে তো আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে গেল। জগদ্বিখ্যাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডগুলো তাদের অভিজাত সামগ্রী নিয়ে হাজির এখানে। আমাদের মত মধ্যবিত্তরা সেখানে বড় বেমানান। নাম মনে নেই এমন কোন একটি ব্র্যান্ডে একটি ছোট্ট পার্সের দাম করেছিলাম, চাইল বাংলাদেশি টাকায় ২০ হাজারের মত। আমি চোখ কপালে তুলে তিনবার ভিমরি খেয়ে বেড়িয়ে এলাম শোরুম থেকে। অতঃপর আরো কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ফিরলাম আমরা হোটেলে। হোটেলে ফিরতেই দেখি আমাদের হোটেলের ঠিক সামনেই স্ট্রিট ব্যান্ড শো চলছে। বেশ কিছু উদ্যামী তরুণ-তরুণী তাদের সঙ্গীতের মুর্ছনায় মাতিয়ে রেখেছে প্রায় সবাইকে। ফিরতে চেয়েও ফেরা হলনা আর। সঙ্গীতের যে একটি নিজস্ব ভাষা, আছে যা ভৌগোলিক সীমারেখার অনেক উর্দ্ধে! মুগ্ধ হয়েই শুনছিলাম আমরা ভিনদেশী ভাষার সেই গান। মালয়েশিয়ান তরুণীরা যথেষ্টই স্মার্ট। জিন্স, টি-শার্টের মত আধুনিক পোশাকের সাথে হিজাবে আবৃত চুল। মিউজিকের সাথে সাথে নিয়ন্ত্রিত নাচও চলছে তাদের সমান তালে। হঠাৎ গানে চেনা সুরের ছোঁয়া, দেখি মালয়েশিয়ান তরুণ এবার প্রাণ খুলে গাইছে বলিউডের গান। বুঝলাম হিন্দী গান যথেষ্ঠ জনপ্রিয় এখানে। পরপর হিন্দী, আরবি আর ইংলিশ বেশ কিছু গান শুনে আমরা আবার ধর্ণা দিলাম সেই বাঙ্গালী রেস্টুরেন্টে। আবার দেশী খাবারের স্বাদ নিয়ে রুমে প্রত্যাবর্তন এবং ঘুম। পরদিনের এ্যাডভেঞ্চার যে বাকি এখনো।

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

রাস্তার পাশেই উদ্দাম সঙ্গীতের আয়োজন

পরদিন সকালে রেডি হয়ে আবার সেই বাঙালি রেস্টুরেন্টে গমন ব্রেকফাস্টের আশায়। কিন্তু এবার খেতে যেয়েই বিপত্তি। রুটি বা পরোটার সাথে যে সবজিগুলো তারা সাজিয়ে রেখেছে, প্রতিটিই যে গতদিনের বেঁচে যাওয়া তা বেশ বুঝতে পারছিলাম। যাই হোক, কোনরকমে নাস্তা করে পরবর্তী গন্তব্য গ্যান্টিন হাইল্যান্ডের জন্য তৈরি আমরা। ট্যাক্সি করে প্রায় দেড়ঘন্টার ড্রাইভের পর গন্তব্যস্থলে পৌছলাম। এখান থেকে দশ মিনিটের কেবল কার রাইডের পর মূল স্পটে পৌঁছলাম আমরা। কেবল কারের এক্সপেরিয়েন্স আবার হলো আমাদের। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ছয় হাজার ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এই স্পটটি আসলে মালয়েশিয়ার একটি অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষণ। গ্র্যান্ড হোটেল, থিম পার্ক, এ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ক্যাসিনো সম্বলিত পরিপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র এই স্থানটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় সর্বদাই চলছে মেঘের লুকোচুরি। হালকা শীতও লাগতে পারে, তাই বেবি সাথে থাকলে হাল্কা শীতের কাপড় সাথে রাখা ভাল। দুপুর পর্যন্ত গ্যান্টিং ঘুরে ফেরার পথে আরেকটি বাঙালি রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ সেরে ফিরলাম আমরা।

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

গ্যান্টিং হাইল্যান্ড

 

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

গ্যান্টিং হাইল্যান্ডের ভিতরে

কিছুটা অসুস্থ ছিলাম আমি। তাই আমাদের এই বিদেশ ভ্রমণটির আরেকটি উদ্দ্যেশ্যও ছিল, আর তা হল ডক্টর দেখানো। দেশে থাকতেই অনলাইনে ডক্টরের এ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়া ছিল, কিন্তু এয়ারলাইন্সের সিডিউল বিপর্যয় এর কারণে তা মিস করেছি আগেই। তাই সেদিন বিকেলেই কোন হসপিটালে গিয়ে অন্য একটি ডক্টরের প্রাইভেট চেম্বারে এ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে গেলাম কনসাল্ট করতে। শুভ্র শশ্রুমন্ডিত ডক্টরের অমায়িক ব্যবহারের মুগ্ধতা নিয়ে সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে আশেপাশে একটু ঘুরাঘুরি।

এর মাঝে বেশ কিছু বাংলাদেশির সাথে কথা হল যারা জীবিকার তাগিদে বছরের পর বছর পড়ে রয়েছেন বিদেশ বিভুঁইয়ে। এর মাঝে একজন আমার কন্যাকে দেখে নস্টালজিক হয়ে পরলেন। মেয়েকে কোলে নিয়ে ছলছল চোখে বলে চললেন তার সংসারের কথা, তার এখন পর্যন্ত মুখ না দেখা কন্যার কথা যার জন্মের পর একবারও ফিরতে পারেননি দেশে। পরিবার পরিজন ছেড়ে দেশ থেকে যোজন যোজন দূরে থাকা এই অচেনা পরিশ্রমী মানুষগুলোর প্রতি এক অদ্ভুত মমতায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম। সেদিনের মত ডিনার সেরে আমাদের চতুর্থ দিনের ঘুরাঘুরি শেষে গা এলিয়ে দিলাম বিছানায়।

এর মধ্যে আবার আরেকটি বিপত্তিও ঘটেছে। সকালের সেই বাসি খাবার তার প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে দিয়েছে অলরেডি। আমাদের ছয়জনের টিমের চারজনেরই পেটে তীব্র ব্যাথা শুরু হয়ে গেল। পর্যাপ্ত ঔষধ আর স্যালাইন সাথে থাকায় সে যাত্রায় কোনভাবে রক্ষা! এতদিন অন্য এত রেস্টুরেন্টে খেয়েও কোন সমস্যা হলনা, আর শেষে কিনা বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টে খেয়ে এই হাল! বুঝলাম এই কয়দিনে টাটকা খেয়ে অরিজিনাল বাংলাদেশি বাসি খাবার আর সহ্য করেনি আমাদের পাকস্থলি। সেইসাথে মনটা খারাপও হল একটু। বাঙ্গালী কি চেঞ্জ হবেনা কখনো?

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

পুত্রজায়া

কুয়ালালামপুরের শেষ দিন। রাতে আমাদের ফ্লাইট। শেষ দিনটি সর্বদাই আমরা বরাদ্দ রাখি শপিং-এর জন্য। দুপুর পর্যন্ত শপিং করে হোটেল থেকে চেকআউট করে ট্যাক্সি করে পুত্রজায়ায় গমন। পুত্রজায়ার সেই বিখ্যাত মসজিদটি আর প্রাশাসনিক বিভিন্ন কেন্দ্রগুলি ঘুরে ফিরে দেখে এয়ারপোর্ট প্রত্যাবর্তন। কিন্তু বিধিবাম, ফ্লাইট একদিন ডিলে! এই কাহিনী আগেই বলেছি লিখলে মহাকাব্য হয়ে যাবে, এটি পরে আলাদাভাবে লিখব। যাই হোক, এয়ারলাইন্সের খরচে আমাদের আরও একদিন সময় বাড়ল, তবে এবার ঠিকানা পুত্রজায়া। সারাদিন হোটেলে থেকে মাঝখানে একটু সময় টেস্কো শপিং মলে ঘুরাঘুরি করে অবশিষ্ট কয়েকটি রিঙ্গিত শেষ করে আবার সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট। এবার এয়ারলাইন্সই আমাদের এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর দায়িত্বটি নিয়ে নিল। অতঃপর রাত একটার দিকে আমরা মালয়েশিয়ার মাটি ছেড়ে উড়াল দিলাম ঢাকার পথে, আর সেই সাথে সমাপ্ত হল আমাদের পাঁচ রাত-ছয় দিনের মালয়েশিয়া ট্যুর।

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

সন্ধ্যার পুত্রজায়া

 

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর নিয়ন আলোয় neon aloy

পুত্রা মসজিদ, পুত্রজায়া

এবার কমন কিছু প্রশ্নের উত্তরঃ

খরচঃ পাঁচ রাত ছয় দিনের (এক রাতের খরচ এয়ারলাইন্সের) মালয়েশিয়া ট্যুরে আমাদের সব মিলিয়ে খরচ পরেছিল শপিং ছাড়া প্রায় এক লাখ ছাব্বিশ হাজার টাকার মত। মালিন্দো এয়ারে ঢাকা টু কুয়ালালামপুর রিটার্ন টিকিটে আমাদের তিন জনের লেগেছিল ৭২,০০০ টাকা। এয়ার এশিয়ায় কুয়ালালামপুর থেকে লাংকাউই রিটার্নে তিনজনের ১২,০০০ টাকা। ভিসাতে জনপ্রতি ৪,০০০ করে মোট ১২ হাজার টাকা লেগেছিল। আমাদের তিনজনের লাংকাউই এবং কুয়ালালামপুর দুই জায়গাতেই হোটেল ভাড়া পরেছিল প্রতি রাত ১৫০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩,৬০০ টাকা। এখানে যে কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হল আমরা গিয়েছিলাম ২০১৪ সালে। তখন বাংলাদেশি ২৪ টাকা সমান এক রিঙ্গিত ছিল। এখন রিঙ্গিতের মান পড়ে যাওয়ায় এক রিঙ্গিত সমান বাংলাদেশি ১৯ টাকা। কাজেই বলাই বাহুল্য, এখন খরচ আগের চেয়ে অনেক কমে আসবে। অবশ্য ভিসার খরচ এখন আগের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে এবং ই-ভিসাও চালু হয়েছে। আপনাদের সুবিধার জন্য খরচগুলো সব টাকায় দেয়ার চেষ্টা করলাম।
যাতায়াতঃ এশিয়ায় অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষণের দেশ মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরের তুলনায় লাংকাউইর মানুষজন বেশি ট্যুরিস্ট ফ্রেন্ডলি। যাতায়াতের জন্য আমরা ট্যাক্সিই প্রিফার করেছি। লোকাল যাতায়াতের জন্য মনোরেল, পাবলিক বাস ইত্যাদি সস্তা বাহনও ছিল, কিন্তু সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ছাড়ে। বেবিকে নিয়ে হেঁটে প্রতিবার সেই স্পটগুলোতে গিয়ে এই ট্রান্সপোর্টগুলি এ্যাভেইল করার চেয়ে ট্যাক্সিই আমাদের কাছে সহজ মনে হয়েছে। মিটার থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ট্যাক্সি ড্রাইভার চুক্তিতেই গিয়েছে, মিটারে রাজি হয়নি তারা। ইট কাঠের শহর বুঝি মানুষকেও কাঠখোট্টা বানিয়ে ছাড়ে কিছুটা!
শপিংঃ শপিং এর ক্ষেত্রে দামাদামির সুযোগ কম। বেশ কিছু পাইকারী মার্কেট আছে। একই জিনিস রাস্তার ধার থেকে নিলে কয়েকগুণ দামে কিনতে হবে, কিন্তু এই পাইকারী মার্কেট থেকে কিনলে অনেক সস্তায় কিনতে পারবেন। কিন্তু শর্ত হল, কিনতে হবে মিনিমাম ছয়টি। গিফটের জন্য আপনি কিনতেই পারেন একই রকম ছয়টি পণ্য। হরেক রকমের ঘড়ি আর ব্যাগ এখানে কিনতে পারেন অনায়াসে। আর ব্র্যান্ডেড জিনিস যদি কিনতে চান, তার জন্য তো বড় বড় শপিং মলগুলো আছেই। তবে দেশের বাইরে গেলে গার্মেন্টস প্রোডাক্ট কিনতে যাওয়া বোকামী, কেননা গার্মেন্টস প্রোডাক্ট তৈরিতে আমাদের দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে এমন দেশ কিন্তু খুব নগন্য। তাই বেশ কয়েকবার কিনতে যেয়েও পিছনে মেড ইন বাংলাদেশ ট্যাগ দেখে আর কেনা হয়নি কোন পোশাক। কিনতে যেয়ে কিনতে না পারার মধ্যেও যে এক ধরনের গর্ব আর আনন্দ থাকতে পারে বুঝেছি তখন। তবে হ্যাঁ, যেকোন জিনিস কেনার আগে কোয়ালিটিটা একটু যাচাই করে নিতে ভুলবেন না কিন্তু।
পরিশেষঃ আমাদের মালয়েশিয়া ট্যুরটি ছিল সবচেয়ে ঘটনাবহুল একটি ট্যুর, যার শুধুমাত্র ভ্রমণের অংশটুকু এখানে শেয়ার করলাম। বৈচিত্র্যময় অন্য ঘটনাগুলো শেয়ার করব পরে। আমরা সময়স্বল্পতার কারণে একটি অসম্ভব সুন্দর ট্যুরিস্ট স্পট বাদ দিয়েছি, সেটা হল পেনাং। হয়তো এই চার দিনের মধ্যে সময় বের করে যেতে পারতাম, কিন্তু তাতে শুধু চোখের দেখাই হত হয়তো, আত্মার খোরাক কতখানি মিটত সন্দেহ। তাই সেই দৌড়ের মধ্যে যেতে চাইনি।
কখনো পাহাড়,সাগর আর চির সবুজের বিশালতা; আবার কখনো বা চাকচিক্যময়, সুরম্য আট্টালিকাশোভিত সুবেশী নগরজীবন- এই দুইটির স্বাদ যদি একই সাথে পরিপুর্ণভাবে উপভোগ করতে চান তবে আপনার একা কিংবা আপনার পরিবার পরিজনসহ ভ্রমণের জন্য একটি আদর্শ স্থান হতে পারে এশিয়ার এই অসম্ভব সুন্দর দেশটি। চমৎকার আতিথেয়তা আর উদার প্রকৃতি আপনার ভ্রমণপিয়াসী মনকে যে কানায় কানায় ভরিয়ে তুলবে- এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই কোন।

[মাসে-দু’মাসে অন্তত একবার ইট-কাঠে বন্দী শহর থেকে বের হয়ে তাজা হাওয়ার ঘ্রাণ নাকে না নিলে কি আপনার দমবন্ধ হয়ে আসে? নিয়মিত ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশে কিংবা বিদেশে, দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্র? আপনার ভ্রমণের গল্প শেয়ার করুন আমাদের সাথে, পাঠিয়ে দিন neonaloymag@gmail.com এই ঠিকানায়!]

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top