ফ্লাডলাইট

মালাহাইড কাউন্টি যখন এক টুকরো সাতক্ষীরা

বৃষ্টিদেবীর হস্তক্ষেপে প্রথম ম্যাচের সাথে ৪টি মূল্যবান পয়েন্ট, তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি ও সিরিজে একটি ভালো শুরুর সম্ভাবনা একসাথে মিশে যাওয়ার পরে আজ দ্বিতীয়বার আইরিশদের মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা। ভাগ্যের এমনই পরিহাস, র‍্যাংকিং এ অবনমন ঠেকাতে জিততেই হবে এ ম্যাচে।

উইকেট আজো সবুজ ছিল বটে,তবে সিরিজে এর আগের মোলাকাতের সময়টাতে যেমন আউটফিল্ড থেকে উইকেট কিংবা উইকেট থেকে আইরিশদের জার্সি আলাদা করা যাচ্ছিল না, তার থেকে আজ তুলনামূলক ভাবে বেশ ভালো উইকেট পাওয়া গিয়েছিল মালাহাইড ক্রিকেট ক্লাব স্টেডিয়ামে। অবশ্য ফাস্ট বোলাররা ২ ম্যাচেই একই রকম পারফর্ম করলেন, সেদিন মুরটাহ-চেজরা যা করেছিলেন, আজ রুবেল-মুস্তাফিজ জুটি তাই করলেন। দু’জনেই বাতাস, মেঘলা কন্ডিশন, ঠান্ডা আবহাওয়া আর সবুজাভ উইকেটের সুবিধা নিচ্ছিলেন বেশ, ৫ ওভারে রান হল মাত্র ১৮, পল স্টারলিং ততক্ষণে  ফিরে গেছেন ড্রেসিংরুমে। গুরু মাশরাফি নিজেকে নিয়ে আসলেন, কন্ডিশনের সুবিধা তিনিও নিচ্ছিলেন বেশ। তাকে কেন ‘গুরু’ বলা হয় তার নিদর্শনও রাখলেন এরপরে, ম্যাচের অষ্টম ও নিজের ২য় ওভারের ২য় বলে মোসাদ্দেক হোসেন উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের সহজ ক্যাচটা মিস করার পরে  পরের ওভারেই নিয়ে আসলেন মোসাদ্দেককে,মোসাদ্দেকও দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে তুলে নিলেন পোর্টারফিল্ডের উইকেট। পাওনাটা সেখানেই চুকে গিয়েছিল, সেটার ওপরে স্বপ্রণোদিত হয়ে মোটা অঙ্কের মুনাফাও দিয়ে দিলেন ম্যাচের ৩২ তম ওভারে মুস্তাফিজের বলে  কেভিন ও’ব্রায়েনের অসাধারণ ক্যাচটা নিয়ে।

অনেকদিন পরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বোলিংটা হল মনের মত। মুস্তাফিজুর রহমান তথাকথিত ‘অফ ফর্ম থেকে ফিরলেন ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে, ‘ক্যাপ্টেন কোটা’য়  খেলা মাশরাফি বিন মর্তুজা সাড়ে ৬ ওভারে ১৮ রানে নিলেন ২ উইকেট এছাড়া অভিষিক্ত সাঞ্জামুল ইসলামও এই সিমিং কন্ডিশনে ২ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চেনালেন, যার একটি ছিল অভিজ্ঞ এবং ম্যাচে গলার কাঁটা হয়ে ৪৬ রান করা এড জয়েসের।

সব মিলে দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিং পারফর্ম্যান্সে ১৮১ রানেই গুটিয়ে গেল আয়ারল্যান্ড।

তামিম-সৌম্য যেভাবে খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল ১০ উইকেটেই জয়টা পাওয়া যাবে। সৌম্য আগের ম্যাচের মতই সাবলীল ঢং এ রান করছিলেন। অবশ্য হ্যান্ড-আই কো-অর্ডিনেশনের ব্যাটসম্যানরা যখন ভাল খেলেন, তখন তাদের খুব সাবলীলই মনে হয়। যখন কম রানে আউট হন, তখন এতটাই বাজেভাবে আউট হন যে দলে থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। সৌম্যেরও উঠছিল, অনেক দিন ধরেই। আসা-যাওয়ার মধ্যে থেকে থেকেও ফর্মের ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ৬১ রান করে বোঝালেন,২০১৫ সালটা নিতান্তই ‘প্রকৃতির খেয়াল’ ছিল না, এখনো অনেক কিছু দেবার আছে দলকে।

৪৭ রানে তামিম ইকবাল কেভিন ও’ব্রায়েনের একটা ভালো বলে ফিরে না গেলে ১০  উইকেটের জয়টা অবধারিতই ছিল। ব্যাটিং এর মত বোলিং-ফিল্ডিং এও নিষ্প্রভ আয়ারল্যান্ড, আসলে সৌম্য-তামিমের ইনিংস ছাড়া পুরো ২য় ইনিংসটাই ছিল কেমন যেন নিষ্প্রভ। যেমনটা নিষ্প্রভ লাগছিল ম্যাচের ধারাভাষ্য। কোন বাংলাদেশী ধারাভাষ্যকার না থাকাতেই হয়তোবা। নিষ্প্রভতা কাটাতেই হয়তো সাব্বির রহমান বেশ ভালোই তেড়েফুঁড়ে ফার্স্ট গিয়ার থেকে সোজা ফোর্থ গিয়ারে গিয়ে ব্যাট করছিলেন। কিন্তু জয়ের জন্য মাত্র ১১ রান দরকার, এমন সময় ঐ ভয়ানক শট খেলে আউট হবার মানেটা সম্ভবত ব্যাটিং অর্ডারে তার মত ব্যাটসম্যানের তিন নম্বরে ব্যাট করার মতই দুর্বোধ্য মনে হল। মুশফিকুর রহিম অবশ্য বরাবরের মত ঠান্ডা মাথায় টিকে থেকে শেষ বিকেলে নতুন কোন নাটক হতে দিলেন না। ২৭ ওভার ১ বলের ভেতরেই লক্ষ্য পার হয়ে গেল।

মাঠে উপস্থিত সমর্থকদের বেশিরভাগই ছিলেন বাংলাদেশী। তাই এক টুকরো বাংলাদেশ তো বটেই কাকতালীয়ভাবে এর সাথে ডাবলিনের মালাহাইড কাউন্টি  আজ হয়ে উঠল এক টুকরো সাতক্ষীরাও। সাতক্ষীরার দুই সন্তান মুস্তাফিজ ও সৌম্য যথাক্রমে ব্যাট হাতে ও বল হাতে মূল ভূমিকা রাখলেও ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরষ্কার উঠল “ফুরিয়ে যাওয়া” মুস্তাফিজের হাতেই।

এই সিরিজের কিছুদিন পরেই শুরু হবে বহুল আকাঙ্খিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। গুরু মাশরাফি আগেই বলে রেখেছেন, “মজা হবে ওখানে”

“মজা”টা ঠিকঠাক হবার জন্য এই জয় আর এই দু’জনের  জ্বলে ওঠাটা দরকার ছিল। এরপরে সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সাথে একটা ভালো পার্ফর্ম্যান্স। ব্যাস! সোনা আর সোহাগার মিলনে একটা ভালো মোমেন্টাম নিয়ে ইংল্যান্ড ভ্রমণ, “মজা” আর আটকায় কে?

পারবে কি ওরা? অবশেষে পারবে কি? ঐ কলার ওল্টানো বিশাল কলিজাওলা লোকটার হাতে একটা বৈশ্বিক ট্রফি তুলে দিতে?

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top