ফ্লাডলাইট

একটা ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং একটি লাইম গাছের গল্প

এটা কোন যেনতেন ক্রিকেট গ্রাউন্ড না, ছোটখাটো কোন খেলার মাঠ না। ক্রিকেটের ইতিহাসের শুরুর দিকের একটা ক্রিকেট গ্রাউন্ড। ১৮৪৭ সালে এই মাঠের মালিক ক্লাবের প্রতিষ্ঠা, তখনই এই মাঠের ভেতর একটা লাইম গাছ ছিলো যেটাকে কোনভাবেই বাউন্ডারি লাইনের বাহিরে ফেলা যাচ্ছিলো না। অতঃপর গাছটাকে বাউন্ডারি লাইনের ভেতরই রাখা হয়। প্রায় দুইশো বছরের পুরানো এই লাইম গাছের উচ্চতা ছিলো ৯০ ফুট। ইতিহাসে মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান এই গাছের উপর দিয়ে ছয় মারতে পেরেছিলো।

বল যদি গিয়ে গাছের গায়ে লাগে সরাসরি তাহলে সেটা চার হবে

বল যদি গিয়ে গাছের গায়ে লাগে সরাসরি তাহলে সেটা চার হবে

বিশ্বের যে তিনটা প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট মাঠের ভেতর গাছ ছিলো (বর্তমানে দুইটা মাঠে আছে) এটি তার ভেতর সবচেয়ে পরিচিত। এখানে ১৯৯৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটার খেলা হয়েছে। এখানে হয়েছে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ভেতর একটা ওয়ানডে ম্যাচ ২০০৫ সালে।

এখানে বিশেষ নিয়ম ছিলো, বল যদি গিয়ে গাছের গায়ে লাগে সরাসরি তাহলে সেটা চার হবে, এমনকি যদি নিশ্চিত বোঝা যায় বলটা গাছের গায়ে না লাগলে ছক্কা হতো তবুও সেটা চারই হবে। বল যদি সরাসরি গাছের গায়ে ধাক্কা মানে বাউন্স করে ফিল্ডারের হাতে আসে তবুও সেটা ক্যাচ আউট হবেনা। চার হবে।

গাছের খন্ডবিশেষ নিলামে ভক্তদের মাঝে বিক্রি করা হয়

গাছের খন্ডবিশেষ নিলামে ভক্তদের মাঝে বিক্রি হয়

বিখ্যাত এই লাইম গাছটি ১৯৯০ সালে ফাঙ্গাসজনিত “ডেড হার্ট” রোগে আক্রান্ত হয়, তখন এর ডালপালা কেটে দেয়ার পর আরো দশ বছর বেঁচে ছিলো। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে গাছটি মারা গেলেও ডালপালাবিহীন মূল কান্ড বা ট্র্যাংক মাঠেই ছিলো। ২০০৫ সালে প্রচন্ড বাতাসে গাছের শুকনা দন্ডায়মান অংশ দুই টুকরা হয়ে ভেঙে যায়। এরপর সেটাকে তুলে খন্ডবিশেষ ক্রিকেটের বিখ্যাত ক্লাব MCC এর মাধ্যমে নিলামে ভক্তদের মাঝে বিক্রি করা হয়।

গল্পের শেষ এখানেই না! ২০০৫ সালেই বাউন্ডারি লাইনের বাহিরে আরেকটি লাইম গাছের চারা রোপণ করা হয়। যেহেতু ছোট চারা ফিল্ডারের পায়ের নীচে চাপা পড়তে পারে এবং ক্রিকেট বলের ধাক্কা সহ্য করতে পারবেনা তাই অপেক্ষা করা হয়। লাইম গাছটি ৬ মিটার উচ্চতার হলে সেটিকে MCC এর বিশেষ অনুমতি নিয়ে পুনরায় ঠিক আগের গাছটির জায়গায় প্রতিস্থাপিত করা হয়। বর্তমানে গাছটি বেশ বড় হয়ে উঠেছে।

আলোচ্য ক্রিকেট গ্রাউন্ডটির নাম সেন্ট লওরেন্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ড। আর এটি বিখ্যাত ইংল্যান্ড কাউন্টি ক্লাব কেন্টের হোম গ্রাউন্ড। এই লাইম গাছটাই কেন্টের পরিচিত হয়ে গেছে। আর এই এতো বছরের ইতিহাসে গাছটির জন্য কোন ইনজুরির ঘটনা হয়েছে এমনটা হয়নি!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top