ফ্লাডলাইট

বিসিবি বনাম পিসিবিঃ কার দাবী যৌক্তিক?

বিসিবি বনাম পিসিবিঃ কার দাবী যৌক্তিক?

পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে অনেক পাকিপ্রেমী পাকিস্তানের সফর বাতিলের পক্ষে কথা বলছে! কয়েকটা গ্রুপে আমি এমনই দেখলাম যে বাংলাদেশ ২০১২ সালে একবার পাকিস্তান যায়নি, এই বছর আবার গেলো না; সুতরাং পাকিস্তান ঠিকই করেছে। তাদের পাকিস্তানের জন্য বিরাট সহানুভূতি, আজ কত বছর সেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই! যেন কষ্টটা পাকিস্তানের চেয়ে তাদেরই বেশি।

এফটিপি কি বলে? বাংলাদেশ পাকিস্তান সফর বাতিল করেছিলো কবে? ২০১২ সালে। আর বর্তমান এফটিপি কবে হয়েছে? ২০১৪ সালে। ২০১৪ সালে সবার সম্মতিক্রমেই ২০১৪-২০১৯ এফটিপি করা হয়েছিলো।

এফটিপি’তে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে, ২০১৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে এবং ২০১৭ সালে জুলাই মাসে পাকিস্তান ২ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে এবং ১ টি টুয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশে আসবে। ২০১৪ সালের এফটিপি কমিটমেন্ট এটা, এর সাথে বাংলাদেশ এই বছর পাকিস্তানে গেলো কি না তার কোন সম্পর্ক নাই। বাংলাদেশ পাকিস্তানে যেতে বাধ্য না, এফটিপিতে এমন কিছু ছিলো না।

যেহেতু বাংলাদেশ ২০১২ সালে যায়নি সেহেতু পিসিবি ২০১৫ সালের সিরিজটাকে তাদের “টেকনিক্যাল হোম সিরিজ” দাবি করে এবং সিরিজের লাভের অংশ চায়। যেকোন কারনেই হোক বিসিবি ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার এবং বিমান ভাড়া দেয় পিসিবিকে। টাকা পয়সার ঝামেলা সেখানেই শেষ। পিসিবি তখন বিসিবিকে কথা দিয়েছিলো ২০১৭ সালের সিরিজ যথাসময়ে হবে। যেহেতু ২০১৫ সালের সিরিজটা তারা “টেকনিক্যাল হোম সিরিজ” দাবি করেছিলো সুতরাং এই বছরের সিরিজটা অবশ্যই এবং অবশ্যই বাংলাদেশের হোম সিরিজ। সুতরাং বিসিবি যে পাকিস্তানকে বলেছে এইবার কোন অর্থ দেয়া হবেনা- সেটা শতভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো।

এই সপ্তাহে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের ভেতর দেখা হয়েছে, মিটিং-এ কথা হয়েছে, তখনো শাহরিয়ার বলেন নাই যে পাকিস্তান আসবে না। হুট করে তিনি মিডিয়ায় বললেন পাকিস্তান বাংলাদেশে আসবে না। এটা সম্পুর্ন এফটিপি অসম্মান করা, অভদ্রতা। এফটিপির আইনি ভিত্তি নাই, তবে পাকিস্তানের সাথে যদি আমাদের Members’s Participation Agreement (MPA) থেকে থাকে এই সিরিজের জন্য অর্থাৎ বিসিবি যদি ২০১৫ সালে MPA করে থাকে তাহলে অবশ্যই আইনি লড়াইের মাধ্যমে ক্ষতিপূরন দাবি করা যাবে। আমরা জানি পাকিস্তান ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে রাজি ছিলো, সেটা কি শুধুই মৌখিক সম্মতি এফটিপির জন্য? নাকি সেটার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে সেটা জানা নাই।

এই অবস্থায় জুনে অবশ্যই পাকিস্তানে কোন বয়সভিত্তিক বা অন্য যেকোন দল পাঠাবে না বিসিবি। প্রশ্নই উঠে না।

পাকিস্তানের এফটিপি না মানার খবরের ভেতরই সুসংবাদ হচ্ছে দেরীতে হলেও অস্ট্রেলিয়া এফটিপির প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে। ২০১৫ সালের স্থগিত দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আগস্ট মাসেই বাংলাদেশে আসবে অস্ট্রেলিয়া। বিসিবিকে নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ডেভিড পিভার। স্ত্রীসহ তিনি নিজেও সেসময় বাংলাদেশ ভ্রমন করবেন। আগস্টের শেষে প্রথম টেস্ট, এরপর কোরবানীর ঈদ তারপর দ্বিতীয় টেস্ট। হবে চট্টগ্রাম এবং ফতুল্লায়।

প্রতিটা দেশের হোম সিজন থাকে, দেশের দর্শকের জন্য। এই বছর হোম সিজন অস্ট্রেলিয়ার সাথে মাত্র দুইটা টেস্টের হলে সেটা খুবই হতাশাজনক হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য। সেজন্য জুলাই-আগস্ট মাসের গ্যাপটা বিসিবিকে যেভাবেই হোক পূরন করতে হবে। বড় কোন দলকে হুট করে পাওয়া মুশকিল, সেক্ষেত্রে গত বছরের মতো আফগানিস্তানের সাথে খেলা যায়। সবকিছু ঠিক থাকলে ২২ জুন আইসিসির বার্ষিক সভাতেই টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে যাবে আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড। সুতরাং তাদের সাথে পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলাও সম্ভব। তাছাড়া আফগানিস্তান একেবারে ছোট দল না, জুনেই তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ৩ ওয়ানডে আর ৩ টি টুয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যাচ্ছে। আর গতবছর বাংলাদেশ আফগানিস্তান সিরিজে গ্যালারী ভরা দর্শক ছিলো।

এছাড়া জুলাই মাসে ফাঁকা আছে নিউজিল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাঁকা থাকবে জিম্বাবুয়ে। সুতরাং দেশের দর্শকের জন্য অবশ্যই বিসিবির কিছু করা উচিৎ হবে।

শেষ প্রশ্ন অনেকের মনে, পাকিস্তান কেন সফর বাতিল করলো? কারণ ভয়। নিরাপদ থাকতে চাইছে। এই সিরিজ না হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান দুই দেশেরই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত। আর সিরিজ হলে ক্ষতির সম্ভাবনা পাকিস্তানেরই বেশি। তাই তারা নিরাপদে থাকার জন্যই বাতিল করেছে বাংলাদেশ সফর। এখানে আর্থিক বিষয়, বাংলাদেশের সফরে না যাওয়া সবই লোক দেখানো কথা।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top