গল্প-সল্প

বিশেষ ছোটগল্প: শেষ চৈত্রে…

চাকুরীজীবীদের বৃহস্পতিবার মানেই একটু অন্য রকম একটি দিন। ধীর লয়ে অফিসে থেকে বাসায় ফেরা, বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে একটু আড্ডা দেয়া, এখানে সেখানে একটু ঢুঁ মারা। কখনো কখনো কোন কোন শপিং মলেও একটু ঘুরে দেখা হয়। নাহ হয়তো তেমন কিছু কেনার জন্য নয়। জাস্ট এমনি-ই। ঠিক তেমনই একটি বৃহস্পতিবার ছিল সেদিন। মাসের প্রথম সপ্তাহ, সদ্য স্যালারি পেয়েছে, মনটাও বেশ ফুরফুরে ছিল রাহির।

অন্যান্য দিন অফিস থেকে ঠিক বাসার সামনেই নামে সে। বাসায় গিয়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেস হয়ে তারপর চা আর পেপার নিয়ে টিভির সামনে বসে। কিন্তু এই বৃহস্পতিবারটাই একটু দেরি করে ফিরে থাকে। তাই সেদিন সে বাসা থেকে একটু দূরে মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটা পথের দুরত্বে নেমে পরলো গাড়ি থেকে এক সহকর্মীর সাথে।

উদ্দ্যেশ্য পাশেই আড়ং এ একটু ঢুঁ দেবে। কিছু কিনতে নয়, সহকর্মীর সাথে। সহকর্মী আসছে বৈশাখের জন্য নতুন কি কি কালেকশন এসেছে একটু ঘুরে দেখবে। খুব পছন্দ হলে না হয় কিনবে কিছু। কিন্তু রাহি এইসবের মধ্যে একদমই নেই।

গাড়ি থেকে নেমে ওরা তিন তলার আড়ং এ ঢুকে গেল। রাহির বন্ধু গিয়েই ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের পোশাকের দিকেও একটু চোখ বোলাতে লাগলো। সদ্য বিয়ে করা বৌয়ের জন্য কিছু পছন্দ করতে। আর রাহি একটু দূরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছিল। গান শুনছে আর খুব ধীরে ধীরে সহকর্মীকে অনুসরন করে এগিয়ে যাচ্ছে। একটা যায়গায় গিয়ে থামলো রাহি, ওদিকে আর এগোবেনা, এসির বাতাসটা সরাসরি গায়ে লাগছে বলে। গান শুনছে আর চারপাশে তাকাচ্ছে, রঙ-বেরঙের নানা ধরনের জামা-কাপড় দেখছে সে।

এরই মাঝে হঠাৎ লেডিস ট্রায়াল রুমের পাশেই দাড়িয়ে থাকা একটি সেলস গার্লের দিকে চোখ পরলো ওর। একটু অন্য রকম যেন, অন্যান্য সেলস গার্লদের মত সাজুগুজু বা মেকাপ করা নেই। বেশ সাধাসিধে, শুধু ঠোঁটে একটু হালকা গোলাপি লিপস্টিক দিয়েছে সে। অভিব্যাক্তিতে কোথায় যেন একটা দুঃখবোধ রয়েছে, হাসছে তবে সেই হাসিতে যেন তেমন কোন উচ্ছ্বাস নেই আবার ক্রেতা আকর্ষণের বিশেষ চেষ্টাও দেখা গেলনা।

যেটা অন্যান্যদের থাকে আর অনেকটা বাধ্যতামূলক অলিখিত ভাবেই। তবে কাজল ছাড়াই চোখ দুটি যেন একটু বেশীই কালো, গভীর, অনেকটা মায়াময় চাহুনি। তেমন সুন্দর নয় আদৌ, এক দেখায় কেউই তাকে সুন্দর বলবেনা ঠিক, কিন্তু কোথায় যেন একটা চিমটি সৌন্দর্য ছিটিয়ে দেয়া আছে বা ছড়িয়ে রয়েছে চোখ-মুখ-হাসি আর চাহুনিতে।

এরই মধ্যে রাহির সহকর্মীর কিছু কেনাকাটা শেষ হয়ে যাওয়াতে বেরিয়ে যাবার সময় হয়ে এলো। ওরা বেরিয়ে যাচ্ছে। আর যাবার সময় না চাইতেও মেয়েটির দিকে আর একবার তাকালো। খুব ইচ্ছে হল তাই। আর সেই বেরিয়ে যাবার সময় রাহির তাকানোর সময় মেয়েটিও ওর দিকে তাকিয়ে ছিল, কারনে বা অকারণে। যা রাহির বেশ ভালো লাগলো। অযথাই বিলাসী সন্ধ্যাটা আর একটু বর্ণীল হয়ে উঠলো।

বাসায় গিয়ে আড়ং এর সেই সেলস গার্লের কথা তেমন আর কোন প্রভাব ফেলেনি রাহির ওপর। এমনকি পরের পুরো সপ্তাহে নানা রকম অফিসের ব্যাস্ততায় কিছু মনেই পরেনি। তবে পরের সপ্তাহের শেষ দিন অফিস থেকে ফেরার পথে কিভাবে কিভাবে যেন ওই আড়ং এর সামনেই নেমে পরলো আবার এবং আড়ং এও ঢুকলো। আর আড়ং এ ঢুকে নিজের অজান্তেই সেই মেয়েটিকে খুঁজতে লাগলো মনে মনে। একটু পরে খুঁজে পেয়েও গেল রাহির চোখ, সেই সেলস গার্লকে।

আজ অন্য এক লাইনে সে ক্রেতাদের কাছাকাছি ঘুরছে। তবে নিজ থেকে কোন কথা বলছেনা। যেটা অন্যরা সাধারণত করে থাকে। সে শুধু ক্রেতাদের অনুসরন করছে, কেউ তাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলেই কেবলমাত্র উত্তর দেয়, নয়তো চুপচাপ থাকে। আজ বেশ দূর থেকে মেয়েটিকে দেখছে রাহি। কেন দেখছে কিছুই সে জানেনা, শুধু গাড়ি থেকে নেমে ইচ্ছে হচ্ছিল এখানে আসার আর এখানে এসে তার অজান্তেই সে সেদিনের মিষ্টি সন্ধ্যার মেয়েটিকে খুঁজে পেতে চাইছিল।

আজো সেই একই পোশাক। অফিসিয়াল কালো আর অফ হোয়াইট। চুল গুলো পিছনে বাঁধা, তেমন কোন সাঁজই নেই, ঠোঁটে একটু হালকা গোলাপি লিপস্টিক ছাড়া, কিন্তু গভীর চোখের কোথায় যেন একটা হতাশা, কিছুটা না পাওয়া আর কোথায় যেন একটা দুঃখবোধের উঁকি দিয়ে যাওয়া। দেখতে দেখতে একবার সামনে দিয়ে যেতে ইচ্ছে করতেই রাহি কিছুটা সামনে এগোলো, একটা জামা দেখার জন্য। অথচ ও কিছুই কিনবেনা। শুধু সেই মেয়েটিকে কাছ থেকে আর একটু দেখতে।

সামনে যেতেই মেয়েটির চোখে চোখ পরলো রাহির। মেয়েটি চুপই আছে, যেমনটি থাকে। অন্যান্য কেউ হলে নিশ্চিত ভাবেই জানতে চাইতো, “স্যার কিছু নেবেন? এটা ভালো, ওটা ভালো, সেটা ভালো”। বা অন্তত, “স্যার আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি বলুন?” কিন্তু এই মেয়েটি কিছুই বললো না, চোখ নামিয়ে নিল আর চোখ নামালো রাহিও।

আর একটু এদিক-ওদিক ঘুরেই বেরিয়ে যাবার জন্য পিছনের দিকে এগিয়ে যেতেই, আবারো মেয়েটির চোখে চোখ পরলো। কোন রকম আলাদা অভিব্যাক্তি ছাড়াই মেয়েটি তাকিয়ে ছিল, যেখানে অন্যান্যরা একটা সৌজন্যর হাসি হলেও দিত, সেটা যতটা মেকিই হোক না কেন? কিন্তু সে নির্বিকার ভাবে চোখ নামালো। চোখ নামালো রাহিও।

গেটের কাছে গিয়ে বেরিয়ে যাবার ঠিক আগেই আর একবার পিছন ফিরে তাকালো রাহি, ইচ্ছে হল তাই। আর তাকাতেই খুব অবাক হয়ে দেখলো। মেয়েটিও তাকিয়েই ছিল! কেন যেন মেয়েটির সেই তাকিয়ে থাকাটা রাহির মনে একটা অজানা আর নতুন আনন্দের শিহরণ বইয়ে দিয়েছিল সেদিন। বেশ ফুরফুরে মন নিয়েই বাসায় ফিরেছিল বাকিটা পথ, হেটে হেটে, শেষ চৈত্রের মাতাল বাতাস গায়ে মেখে। তবে বাসায় ফিরে নানা রকম ব্যাস্ততা আর কোন প্রভাব ফেলেনি রাহির মধ্যে। সেই মেয়েটি বা তার চাহুনি ওকে আলাদাভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি এতটুকুও।

রাহির সব দিন গুলোই বেশ ব্যাস্ততার মধ্যে যায় অফিসে, বাসায় আর নানা রকম কাজের মাঝে। তবে কেবল সপ্তাহের শেষ দিনেই কেন যেন নিজের অজান্তে আর কিসের টানে যেন ও গাড়ি থেকে বাসার পর্যন্ত না গিয়ে বেশ আগে আড়ং এর সামনে নেমে যায়। অথচ কখনোই কিছু কেনেনা সে, বা তেমন কিছু দেখেওনা মনোযোগ দিয়ে। শুধু যায়, এদিক-অদিক ঘোরে, এটা সেটা ধরে একটু আধটু দেখে আর আড় চোখে, সেই মেয়েটিকে একটু দেখে।

মেয়েটির সরল চোখ, অভিব্যাক্তিহীন চাহুনি, ভাবলেশহীন মুখভঙ্গি দেখে একটা অন্য রকম ভালো লাগা তৈরি হয় কিভাবে আর কেন যেন? তারপর যখনই মেয়েটির সাথে দেখা হয়ে যায়, দুই একবার দৃষ্টি বিনিময় হয়, তারপর আর থাকতে ইচ্ছে করেনা। ফিরে যেতে উদ্যত হয়।

তবে প্রায় প্রতিবার ফিরে আসার সময়ই গেট থেকে বের হবার সময় রাহি আর একবার তাকায় ওদিকে, এবং খুব অবাক হয়ে দেখতে পায় যে মেয়েটিও তাকিয়ে আছে ওর দিকেই! যেটা ওকে অনেকটা আনন্দ দেয়, ক্ষণিকের হলেও। আর একটু একটু ভাবায়ও। তবে সর্বোপরি ও খুব ফুরফুরে একটা অনুভূতি অনুভব করে সেই চাহুনির মাঝে, দূর থেকে তাকিয়ে থাকা দৃষ্টির মাঝে, এক অজানা দুঃখ বোধের মাঝে।

এরই মাঝে বৈশাখ চলে গেছে। মাঝে চলে গেছে কয়েক সপ্তাহ। রাহির আর ওদিকে যাওয়া হয়নি, নানা রকম ব্যাস্ততায়। রমজান চলে এসেছে। ঈদের কেনাকাটাটা বেশ আগে আগেই করে ফেলা অভ্যেস রাহির। আর সেটা আড়ং থেকে হলেই বেশ স্বচ্ছন্দ বোধ করে। কারন গুনগত মান নিয়ে কোন ভাবনা নেই। দামটা একটু এদিক ওদিক হলেও। আর পরিবর্তনের একটা সুযোগ আছে বলে। তাই রমজানের শুরুতেই বেশ কিছুদিন পরেই রাহি আবার আড়ং এ গেল। আর গিয়ে প্রথমেই সেই মেয়েটিকে খুঁজতে লাগলো।

তবে বেশিক্ষণ খুঁজতে হলনা, আগের লেনে না পেয়ে অন্য লেনেই তাকে খুঁজে পাওয়া গেল। বাহ দেখেই রাহির মনটা বেশ প্রফুল্ল হয়ে উঠলো, সেই আগের মতই। আর চোখে চোখ পরাতে, চোখ নামিয়ে ফেলল দুজনেই। আজ যেন মেয়েটির মুখে একটু অন্য রকম হাসি দেখা গেল, আর চোখেও এক অন্য চাহুনি কি? রাহির নিজের কাছে তেমনই মনে হল অন্তত। সে যাই হোক আজ অন্তত সেই দুঃখবোধ বা ভাবলেশহীন অভিব্যাক্তিটা ছিলনা এটা ঠিক। কিছুটা উচ্ছলতা ছিল যেন, রাহির চোখে পরেছে। যেটা বেশ ভালো লেগেছে।

সেই রমজানের কোন সপ্তাহই আড়ং এ যাওয়া থেকে বাদ গেলনা রাহির। এমনকি কোন কোন সপ্তাহে দুই তিনদিন পর্যন্ত গেল। কিছু কেনাকাটা করলো, কখনো কিছুইনা আবার কোন কোন দিন দামটাম দেখেই চলে আসা। তবে প্রতিদিনই আর যাই হোক, একটা ব্যাপার খুবই কমন ছিল, আর তা হল, রাহি আর সেই সেলস গার্লের চোখে চোখ রাখাটা নিয়মিত ছিল। কাপড়ের ফাঁকে ফাঁকে, পাঞ্জাবির ভাঁজে ভাঁজে, জুতোর র‍্যাকের আড়ালে আড়ালে আর একদম শেষে গেট থেকে রিমির বেরিয়ে যাওয়ার শেষ মুহূর্তের সেই শেষ চাহুনিটা। যেটা এক সময় রাহির কাছে খুব কাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছিল।

কারন রাহির মনে হত, ও একাই শুধু মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটি কখনো ওর দিকে তাকায়না আদৌ। হয়তো কখনো চোখে চোখ পরে যায় স্বাভাবিক ভাবে আর সামনা সামনি আসাতে। যেটা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। কিন্তু আর যাই হোক, প্রতিবার গেট দিয়ে বেরিয়ে যাবার সময়কার মেয়েটির তাকিয়ে থাকা, চাহুনি আর দৃষ্টি বিনিময়টা কোন ভ্রম নয়, হতে পারেনা, পারেইনা। আর প্রতিবার দূর থেকে তাকিয়ে থাকা দুটি গভীর চোখের ব্যাকুল দৃষ্টি আর অজানা, অব্যাক্ত আকুলতাটাই প্রতি সপ্তাহের শেষ দিন ওকে ভীষণ আকর্ষণে টেনে নিয়ে আসে এখানে। সবকিছুর মধ্যে এটাই ওর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় আর কাঙ্ক্ষিত।

ঠিক এভাবেই রমজান শেষ হল, শেষ হল ঈদ। আর কেটে গেল দিনে, সপ্তাহে, মাসে মাসে এক বছর। রাহি আড়ং এ আসে, এটা-সেটা দেখে, কখনো কেনে, কখনো এমনি হেটে চলে যায়। তবে কমন ছিল রাহির আর সেই সেলস গার্লের মাঝে দৃষ্টি বিনিময়, চাহুনি, ভাবলেশহীন অভিব্যাক্তি, অর্থহীন এক আধটুকরো হাসি, শেষে সেই গেট থেকে বেরিয়ে যাবার সময় রাহির পিছন ফিরে তাকানো আর মেয়েটির এদিকে তাকিয়ে থাকা একটা অব্যাক্ত আকুলতার চাহুনি।

আবারো বৈশাখ এলো এলো করছে। আবারো এলো রঙের উৎসবের সময়। কেনাকাটার ধুম। আর নানা রঙ বেরঙের কাপড়ের সমাহার আর সেই সাথে প্রায় সময়ই সুযোগ পেলে আড়ং এ ঢুঁ দেয়া। ঠিক একই রকম শেষ বিদায় বেলাটা। চৈত্রের শেষ দিন। রাহি মনের একটা অজানা টানে ঠিক ঠিক গাড়ি থেকে নেমে আড়ং এ গেল। আগের দিন দেখে যাওয়া একটি জামা আর পছন্দ করে রেখে যাওয়া একটা বর্ণিল বৈশাখী জামদানী শাড়ি নিয়ে কাউনটারে গেল দাম পরিশোধ করতে।

দাম মেটানো হয়ে গেলে, শাড়িটাকে গিফট প্যাকেটে পুরে দিতে অনুরোধ করলো। সেভাবেই প্যাক করে দিল ওরা। এরপর ওদেরকে একটি অনুরোধ করলো,

আচ্ছা আমি যদি এই প্যাকেটটা রেখে যাই আর কাউকে দিতে বলি, আপনারা কি দিতে পারবেন তাকে?

জি স্যার নিশ্চয়ই, কিন্তু নাম, ঠিকানা আর ফোন নাম্বার দিয়ে দিন আমরা পৌঁছে দেব।

জি আমি নাম, ফোন নাম্বার আর তেমন কোন ঠিকানাও জানিনা যে, তবে আপনারা জানেন!

আপনি নিজে জানেন না কিন্তু আমরা জানি?

জি, জানেন।

ঠিক আছে তবে কাকে বলুন দিয়ে দেব।

এরই মাঝে রাহিকে পাশের কাউন্টার থেকে ডেকে পাঠিয়ে অনুরোধ করলো একটু ওই কাউন্টারে যেতে।

রাহি পাশের কাউন্টারে গেল। কাউন্টারের মেয়েটি একটি প্যাকেট বের করে রাহির হাতে দিয়ে বলল, “স্যার আপনার জন্য কারো রেখে দেয়া একটা উপহার। আপনাকে অনেক অনেক বৈশাখী শুভেচ্ছা।”

ওর জন্য কারো রেখে যাওয়া উপহার শুনে ভীষণ অবাক হল। আর কে দিয়েছে সেটা জানার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছিলো। তবে…

রাহি ওর উপহারটা নেবার আগে, শাড়ির প্যাকেটটা তুলে ধরে বলল, “এটাও যে আপনাকে কাউকে পৌঁছে দিতে হবে? তবে নাম জানিনা।” এরই মাঝে আরও কয়েকজন উৎসুক সেলস গার্ল জমে গেল পাশে। ওরা জানতে চাইলো কাকে দেব স্যার এই শাড়ির প্যাকেট?

রাহি দূরে দাড়িয়ে থাকা সেই মেয়েটিকে দেখিয়ে জানালো, “ওকে।”

কাউনটারের মেয়েটি উচ্ছ্বাসে ফেটে পরে জানালো, “স্যার আপনার এই পাঞ্জাবী টাও তো ও-ই প্যাক করে রেখে দিয়েছে কাল থেকে। আপনি এলে, যাবার সময় যেন আমরা দিয়ে দেই!”

দুজনের এই উপহার বিনিময়ে সারা আড়ং জুড়ে একটা অন্যরকম আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল। যেন বৈশাখের আগেই বৈশাখী বর্ণিলতা মেখে গেল সবার চোখে-মুখে আর উচ্ছ্বাসে। তবে ওদের কিন্তু আজো কথা হলনা কোন, হলনা কোন কথা বা কেউ কারো নাম জানা।

শুধু বেরিয়ে যাবার সময় হয়েছিল সেই পরিচিত, কাঙ্ক্ষিত, অপেক্ষার আর সুখের দৃষ্টি বিনিময়, আকুলতা আর ব্যাকুলতার চাহুনির বিনিময়।

পুরো আড়ং জুড়ে তখন বেজে চলছিল……

“হয়নি বলা কোন কথা,
শুধু হয়েছে, অনুভূতি…”

Most Popular

To Top