ফ্লাডলাইট

বিসিবি সভাপতিকে কি প্রতিশ্রুতি দিলো বিসিসিআই?

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে কি প্রতিশ্রুতি দিলো বিসিসিআই? পূর্নাঙ্গ ভারত সফর, নাকি ভারত এফটিপির বাইরে বাংলাদেশ সফরে আসবে আবার?

এটাই ভাবছি আপাতত, কারন দিল্লীতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান নীতিনির্ধারক কমিটি অব এডমিনিস্ট্রেটর (কোয়া) এর সাথে মিটিং শেষে পাপনের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে নতুন আর্থিক ভাগ বন্টনের প্রস্তাব পাশ হয় কি না! যেটা পাশ হলে ভারতের আয় কমতো। অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং শ্রীলংকার পর এবার বাংলাদেশের সাথে আলোচনা করলো বিসিসিআই, তাদের সাথে কি আলোচনা হয়েছে সেটা জানা না গেলেও বার্তাসংস্থা পিটিআই-এর সাথে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

“দূর্বল বিসিসিআই মানে দূর্বল বিসিবি” উল্লেখ করে বিসিবি বস বলেন, “সবাই মাঝামাঝি একটা উপায় খুঁজছে যাতে এই আর্থিক মডেলের প্রস্তাবের বিষয়টা আরো বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা যায়। আমরা চাইনা কোন সদস্য দেশ মন খারাপ করুক বা কষ্ট পাক, বিশেষ করে ভারত কারন তারা সবসময় আমাদের সমর্থন দিয়ে এসেছে। যদি ভারত দূর্বল হয় তাহলে আমরাও দূর্বল হয়ে যাবো (আইসিসি বোর্ডে সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবির প্রায় সব দাবিতে সমর্থন দিয়ে এসেছে ভারত, বিশেষ করে টু টায়ার টেস্ট সিস্টেম না করার পক্ষে)। দেখেন আমি মনেকরি সবার ভেতর বন্টনে আরো সামঞ্জস্য আসা উচিৎ, কিন্তু তার মানে এই না যে ভারতের শেয়ার কেড়ে নিতে হবে! না, না, না, আমরা এটা চাইনা। ”

এছাড়া প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, “সবাই এই বিষয়ের সব কিছুতে একমত না, অনেক কিছুতেই অন্যরা একমত না আবার কিছু কিছু বিষয়ে আমরা একমত না (যেমন পাঁচ বছর পর পর ফলাফলের ভিত্তিতে টেস্ট স্ট্যাটাস রিভিউ করা)।”

“কোয়া আমাকে আর্থিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বিষয়ে তাদের পয়েন্ট গুলা বলেছে। আমরাও তাদের বলেছি কেন আমরা কিছু সমর্থন দিচ্ছি আর কিছু দিচ্ছিনা। আমরা আবারো একসাথে বসবো এবং আশাকরি অন্য বোর্ডের সদস্যরাও থাকবে সেখানে। অনেক বোর্ডের অনেক প্রস্তাবনা আছে, সেগুলাকে এক করে যদি পরিবর্তন আনতে হয় তাহলে সেটা পরবর্তী আইসিসি মিটিং এর আগেই আনতে হবে”

যাইহোক মনেহয়, সব বোর্ডের সাথে আলোচনা করে ম্যানেজ করে ফেলবে বিসিসিআই। আপাতত, রেভিনিউ বন্টনের নতুন মডেল ৭-২ সমর্থনে আইসিসি বার্ষিক সভায় ভোটাভুটির জন্য নির্বাচিত হয়েছে, ৭ দল নতুন আর্থিক বন্টনের পক্ষে, ভারত, শ্রীলংকা বিপক্ষে এবং জিম্বাবুয়ে ভোট দেয়নি। নতুন প্রস্তাব পাশ হলে বিগ থ্রি মডেল বাতিল হবে, ভারতের শেয়ার অর্থাৎ আয় কমবে তবে বিসিবি সহ অন্যদের আয় বাড়বে এমনকি ভাগ পাবে আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বার্ষিক সভায় চূড়ান্তভাবে পাশ হবার জন্য ৮-২ ভোট প্রয়োজন হবে আইসিসির। তবে ভোট শুরুর আগেই যদি অন্তত চারটা দেশ ভেটো দেয় তাহলে আর ভোটের দরকার হবেনা প্রস্তাবনা এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে।

আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনহরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের যে কমিটি নতুন আর্থিক বন্টনের মডেল তৈরী করে ছিলো তার ভেতর গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রেখেছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

তবে আপাতত অন্যরকম মনেহচ্ছে, শততম টেস্ট দেখতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধির শ্রীলংকা যাওয়া এবং এক টেবিলে বসে আগামী বছর শ্রীলংকার ৭০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে “নিদাহাস কাপ” ত্রি-দেশীয় টুর্নামেন্ট খেলার ঘোষনা দেয়ার সময়ই মনে হয়েছিলো এইসব ব্যাপারে আলোচনা হবেই। শ্রীলংকা আগেই ভারতের পক্ষে ছিলো এখন বাংলাদেশও সেই পথে যাবে বলেই মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশ না গেলে হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডই ভারতের পক্ষে যেত, বিশেষ করে জিম্বাবুয়ে পক্ষে যেতই। দুই দেশই আর্থিকভাবে খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, দুই তিনটা সফরের আশ্বাস দিলেই তাদের রাজি হবার কথা। বলা হয়, ওইসব দেশে ভারত তিনবার অতিরিক্ত সফর করলেই তারা নতুন নিয়মে যে অতিরিক্ত আয় করতো বিগ থ্রি মডেলের চেয়ে তার প্রায় সমান লাভ হবে।

সুতরাং বাংলাদেশ হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা জিম্বাবুয়েকে সুযোগ না দিয়ে নিজেই সুযোগটা নিতে পারে, তবে প্রশ্নটা হচ্ছে বাংলাদেশ কি পাবে? পূর্নাঙ্গ ভারত সফর? তাতে সম্মান থাকলেও আর্থিক লাভ নাই! তবে ভারত যদি বড় সিরিজ খেলতে দুইবার বা তিনবার আসে এফটিপির বাইরে (২০২৩ এফটিপি পর্যন্ত) তাহলে লাভ আছে।

প্রশ্ন জাগতে পারে, বাংলাদেশ কেন নিজের প্রস্তাবের বিপক্ষে যাচ্ছে! সোজাসুজি বলা কঠিন তবে ধারনা করা যায় বাংলাদেশ যদি ভারতের বিপক্ষে যায় তবুও নতুন আর্থিক মডেল বাস্তবায়ন হয় কি না সন্দেহ কারন অন্তত জিম্বাবুয়ে ভারতের পক্ষে গেলেও নতুন মডেল বাস্তবায়ন হবেনা। সেক্ষেত্রে যদি শশাঙ্ক মনহর থাকতেন তাহলে হয়তো বাংলাদেশ অন্য কোনভাবে সুবিধা পেতে পারতো কিন্তু যেহেতু মনহর জুনের পর আর থাকবেন না সেহেতু বলা যায় না নতুন চেয়ারম্যান এসে কি দিতে পারবে বাংলাদেশকে। আবার ভারতের বিপক্ষে গেলে সবসময় পেয়ে আসা সমর্থনটাও হারাতে হতে পারে। নতুন মডেল হলো না, নতুন চেয়ারম্যান আবার ভারতের বিপক্ষে দাড়ানো, সব মিলিয়ে তালগোল পাকানো অবস্থা দাড়াবে। তারচেয়ে এখন সমর্থন দিয়ে যদি ভারতের থেকে কিছু আদায় করা যায়! মনেহয় এটাই কারন।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top