ফ্লাডলাইট

আয়ারল্যান্ডে ত্রি-দেশীয় সিরিজের সময়সূচী ঘোষণা, প্রথম ম্যাচে খেলবেন না মাশরাফি

সামনেই আয়ারল্যান্ডে শুরু হতে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ড- বাংলাদেশ- নিউজিল্যান্ড ত্রিদেশীয় সিরিজ। এখনো দল ঘোষণা না হলেও এ সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে বাধ্যতামূলক একটা পরিবর্তন আনতেই হচ্ছে। সদ্যসমাপ্ত শ্রীলংকা সিরিজে স্লো ওভার-রেটের কারণে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের নিয়মিত ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। তাই প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। তার বদলে সম্ভবত অধিনায়কত্বের দায়িত্বটা পালন করবেন সাকিব আল হাসান।

সিরিজটা ব্যতিক্রম, সাধারনত ট্রাই নেশনে গ্রুপ পর্বের সেরা দুই দল (পয়েন্টের ভিত্তিতে) ফাইনাল খেলে। এখানে আলাদা করে ফাইনাল নাই। সবাই সবার সাথে দুইবার করে খেলবে এবং পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল চ্যাম্পিয়ন হবে। ১২ মে শুরু হতে যাওয়া এই ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচ ২৪ মে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ১ জুন। সুতরাং ২৬/২৭ তারিখে একটা ফাইনাল রাখাই যেত! সম্ভবত ফাইনাল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড হবে ধারনা করেই রাখেনি। নিরপেক্ষ দলের তিনটা ম্যাচ (গ্রুপ পর্বে দুইটা) আয়োজন করা হয়তো তাদের জন্য আর্থিকভাবে চাপ হয়ে যেত।

সিরিজে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়ামসন, মার্টিন গাপটিলসহ ১০ জন প্লেয়ার খেলবে না আইপিএল এর জন্য। টম লেথামের অধিনায়কত্বে খেলবে নিউজিল্যান্ড। সুতরাং এই সুযোগটা কাজে লাগানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে টিম বাংলাদেশকে। যদিও আয়ারল্যান্ড/ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশন এবং মে মাসের কনকনে ঠান্ডা একটা সমস্যা হতে পারে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে বেস্ট একটা প্রিপারেশন হবে। সুযোগ করে দেয়ার জন্য আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট একটা ধন্যবাদ ডিসার্ভ করে।

বছর দেড়েক আগে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড একটা লক্ষ্য হাতে নিয়েছিলো, তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সব ফুল মেম্বারদের সাথে কমপক্ষে একটা করে ম্যাচ খেলবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগেই। তাদের সেই লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে, ইংল্যান্ড সফরে আসা পাকিস্তান ও শ্রীলংকার সাথে দুইটা করে, এবং সাউথ আফ্রিকা গিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং সাউথ আফ্রিকার সাথে একটা করে ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। মে মাসের ৫ এবং ৭ তারিখে প্রথম বারের মতো ইংল্যান্ড সফর করবে তারা, খেলবে লর্ডস এবং ওভালে। তার পর বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড এর সাথে ট্রাই নেশন। শুধু সুযোগ পায়নি ভারতের সাথে খেলার। চেষ্টা করেছিলো গতমাসে ভারতের মাটিতে আফগানিস্তানের সাথে সিরিজ শেষে একটা ম্যাচ খেলার তবে সেটা হয়ে ওঠেনি। এছাড়া বাড়তি হিসেবে ১৩ সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে একটা ওয়ানডে খেলবে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসবে ইংল্যান্ড সফরে।

আয়ারল্যান্ড যখন ওদের এই লক্ষ্য ঘোষনা করে তখন মনে হয়েছিলো পারবে না। কিন্তু তারা পেরেছে। ভারত ছাড়া সবাইকেই ম্যানেজ করতে পেরেছে। খারাপ লাগে, আয়ারল্যান্ড এখন জিম্বাবুয়েকেও গোনার ভেতর রাখেনা, আর জিম্বাবুয়ে কাউকে না পেয়ে স্কটল্যান্ডের সাথে দুইটা ওয়ানডে খেলবে এডিনবার্গে গিয়ে। তবে যাইহোক, এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণ করে আয়ারল্যান্ড প্রমান করেছে সবই সম্ভব। আর বিসিবি গত বছর ১০ মাস খেলার জন্য কাউকেই রাজি করাতে পারেনি।

আমাদের কথা বলি, শ্রীলংকার পর টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর সুবর্ণ সুযোগ আসবে জুলাই/আগস্ট মাসে। একই সাথে মিসবাহ আর ইউনুস খানের অবসরের সুযোগ নিতে হবে। ২০০৩ সালে মুলতানে চোখের জলে যেই স্বপ্ন ধুয়ে গিয়েছিলো সেটাকে এবার মিরপুর বা চট্টগ্রামে মুঠোবন্দী করতেই হবে। টিম টাইগার্স এবার পারবে, এর আশা তো করাই যায়!

আয়ারল্যান্ডে ত্রি দেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের খেলার সূচীঃ

১২ মে, বাংলাদেশ বনাম অায়ারল্যান্ড
১৭ মে, বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড
১৯ মে, বাংলাদেশ বনাম অায়ারল্যান্ড
২৪ মে, বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড

সকল খেলা বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩:৪৫ মিনিটে।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top