ফ্লাডলাইট

জুলাই মাসে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বিসিবি হাই-পারফরমেন্স দল

Neon Aloy Magazine - নিয়ন আলোয়

জুলাই মাসে হাই পারফর্মেন্স দল (বিসিবি এইচপি টিম) পাকিস্তান সফরে যাবে বলে বিসিবি কথা দিয়েছে পিসিবিকে। সেখানে পাকিস্তান এইচপি টিমের সাথে সিরিজ খেলবে তারা। পর্যায়ক্রমে জাতীয় দল যাবে বলেও বলেছে বিসিবি।আজ কলম্বোতে বিসিবি, পিসিবি এবং শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ডের প্রধানদের এক মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান।

জুলাই-আগস্ট মাসে পাকিস্তান বাংলাদেশ সফরে আসবে। তবে সিরিজের আয় থেকে একটা অংশ পাকিস্তানকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে পিসিবি। এর আগে ২০১২ সালের সিরিজ বাতিলের জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর ২০১৫ সালের সফরে এসেছিলো পাকিস্তান। বিভিন্ন সূত্র বলছে, ওই সিরিজ থেকে বিসিবির আয় ছিলো অন্তত প্রায় ৮-৯ লাখ ডলার। এবারও সিরিজের আয়ের অংশ চাওয়ার কারন হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের তিনবার বাংলাদেশ সফরের বিপরীতে একবারও বাংলাদেশের না যাওয়ার কারনে নিজেদের আর্থিক ক্ষতির কথা বলেছে পিসিবি।

বিসিবি অবশ্য এইবার কোন টাকা দিবেনা বলে জানিয়েছে। আর যেহেতু এবার এইচপি টিম যাচ্ছে, সেহেতু টাকা না দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জুলাই মাসে পাকিস্তান সফর করে যাবার পর দ্রুতই ফিরতি সিরিজে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে তৃতীয় কোন দেশে খেলবে পাকিস্তানের সাথে। নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান, দুই দেশেরই পছন্দের তালিকাতে আছে শ্রীলংকা। দুবাই অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবার কারনে সেখানে খেলতে আগ্রহী না পাকিস্তান। অবশ্য পাকিস্তান বাংলাদেশের মাটিতেও “হোম সিরিজ” খেলতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্টেডিয়াম ব্যবহার করবে তারা এবং সিরিজের আয়, ব্যয়, লাভ সব যাবে তাদের পকেটে। এই সিরিজ কবে হবে সেটার ঘোষণা আসেনি। তবে ধারনা করা যায়, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সেই সিরিজ হতে পারে কারণ ওই সময় একটা ভারত-পাকিস্তান সিরিজ ছিলো এফটিপিতে যেটা অবশ্যই হবেনা, এবং পাকিস্তান আগেই বিসিবিকে ওই সময় পাকিস্তানে পূর্নাঙ্গ সিরিজের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো। সেটাই হয়তো পাকিস্তানে না হয়ে হতে পারে শ্রীলংকার মাটিতে। পাকিস্তান এর আগে ২০০১ সালে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে শ্রীলংকার মাটিতে খেলেছে (৯/১১ এর সন্ত্রাসী হামলার পর)।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১২ সালে একবার টিকিট ছাপানোর পর হাইকোর্টের রায়ে সিরিজ বাতিল করে বাংলাদেশ। পরে ২০১৫ সালের সিরিজের পর পাকিস্তান ২০১৬ সালে আবার সফরের জন্য অনুরোধ করে। বিসিবি সেই অনুরোধে কান না দিলেও নারী দল পাঠায় পাকিস্তানে। এর ভেতর জিম্বাবুয়ে পাকিস্তান সফর করে যাবার পর থেকেই বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকাকে সেদেশে সফরের অনুরোধ করে পাকিস্তান। স্বাভাবিকভাবেই কেউ রাজি হয়নি। এই বছরের মার্চের ১ তারিখ জানানো হয় পাকিস্তান নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আসলে সূচী অনুযায়ী ওই সময় ভারত-পাকিস্তান সিরিজ ছিলো। বাংলাদেশ সিরিজ খেলতে রাজি আছে তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। অবশ্য এর আগে একবার আরব আমিরাতে খেলার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয় ২০১৫ সালে কিন্তু সে সময় টেস্ট ম্যাচের কথা বলা হয়েছিলো মূলত, ওই সময় বাংলাদেশ ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজ, বিপিএল, আবার জিম্বাবুয়ে সিরিজ, এশিয়া কাপ, টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচীতে থাকায় সময় দিতে পারেনি।

লাহোরে পিএসএল ফাইনালের দিন বিসিবির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মেজর একেএম আনিসউদ্দৌলা উপস্থিত ছিলেন তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুরাপুরি সন্তুষ্ট না হওয়ায় বিসিবি জাতীয় দল পাঠাবে না পাকিস্তানে।

প্রশ্ন হচ্ছে, নিরাপত্তা নিয়ে যদি বিসিবির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ খুশিই না হন তাহলে এইচপি দল পাঠাবে কেন? বিষয়টা মাথায় আসে না সোজা হিসাবে। কারন, যদি পাকিস্তান তামিম-সাকিবদের জন্য নিরাপদ না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যারা খেলবে জাতীয় দলে, সেই এইচপি প্লেয়ারদের জন্য নিরাপদ হয় কিভাবে?

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top