ফ্লাডলাইট

শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ, ইতিহাস কার পক্ষে?

সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) নিয়ন আলোয় neon aloy

সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) শ্রীলংকার সবচাইতে বিখ্যাত মাঠগুলার ভেতর প্রথম। যদিও শ্রীলংকা তাদের প্রথম টেস্ট খেলেছিলো পি.সারা ওভালে, প্রথম জয়ও সেখানেই। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব শ্রীলংকার লর্ডস বলে পরিচিত। শ্রীলংকা ক্রিকেটের নিউক্লিয়াস বলা যায়। শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ডের হেড অফিস এখানে, সব ঘরোয়া লীগের ফাইনাল হয় এই মাঠে। ছোট বেলায় যখন ক্রিকেট দেখা শুরু করি তখন থেকেই এই মাঠের কথা ভুলিনি, কারন বিরাট ম্যানুয়াল স্কোরবোর্ড, যেটা সহজে ভুলা সম্ভব না। সিঙ্গার একসময় শ্রীলংকা ক্রিকেটের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো, এখন শ্রীলংকার ম্যানুয়াল স্কোরবোর্ড ছাড়া কোথাও তাদের দেখি বলে মনে পড়ে না।

মাঠটার ভেতর সেই আদিম ছোঁয়া রেখে দেয়া হয়েছে। খোলামেলা মাঠ, চারদিকে সবচেয়ে ভালো মানের দারুচিনি গাছে ঘেরা (এই “সত্যি দারুচিনি” বা গ্রেড ওয়ানের দারুচিনি কেবল শ্রীলংকায় জন্মায়, আমরা আসলে ওই জেনাসের অন্যগুলো খাই, যার দাম কম। কৃষিবিদ মানুষ তাই সুযোগ পেয়ে ঝেড়ে দিলাম!)। এই মাঠেই শ্রীলংকা সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছে, ৪২ টি। কলম্বোতে এখন আধুনিক প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম থাকায় এই এসএসসিতে সাম্প্রতিক সময়ে শুধু টেস্ট খেলা হয়। সবশেষ ওয়ানডে হয়েছে ৭ বছর আগে! সিরিজ শুরুর আগে হুট করে এখানে খেলা দেয়ার পর শ্রীলংকা বোর্ডের কে জানি বলেছিলো মাত্র ১০ হাজার ধারণক্ষমতা এবং ফ্লাডলাইট না থাকায় এখানে “বড় সিরিজ” দেয়া হয়না। মানে ওনারা জানেন এই সিরিজে কোন ম্যাচেই ১০ হাজার দর্শক হবেনা। জানি না কি হয় তবে এটা শ্রীলংকা না হয়ে বাংলাদেশ হলে দলকে উৎসাহ দেয়ার জন্য ১২ হাজার মানুষ হতো নিশ্চিত। দুই হাজার চিপাচুপা খুঁজে বসে পড়তো! যাইহোক এই “ছোট সিরিজ” নিয়েই মনেহয় শ্রীলংকা সবচেয়ে বড় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে, এফটিপির বাইরের সিরিজে বাংলাদেশকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে এখন সিরিজ হারার উজ্জ্বলতম সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে!

সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) নিয়ন আলোয় neon aloy

আদিম ধাঁচের সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠ ও এর বিখ্যাত স্কোরবোর্ড।

এই বিখ্যাত মাঠে বিখ্যাত কিছু রেকর্ড আছে। যার ভেতর শুরুতেই বলবো মোহাম্মদ আশরাফুলের সেই মহাকাব্যিক সেঞ্চুরী। ১৬ বছর ৩৬৪ দিনে করেছিলেন যেটি।

আছে ১৯৯২ সালে শেন ওয়ার্ন নামের একজন ম্যাজিশিয়ানের প্রথম আলোচনার আসার দিন। সেদিন চতুর্থ ইনিংসে ১৮১ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করা শ্রীলংকা ১২৬-২ রানে লাঞ্চে যায়। সেই ম্যাচটাই শ্রীলংকা পরে হেরে বসে ১৬ রানে। ১৩ বলের ভেতর টপ ওর্ডারের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে নজরে আসেন শেন ওয়ার্ন।

এখানেই আছে চামিন্দা ভাসের করা ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগার, ১৯/৮, জিম্বাবুয়ে সেই সময়ের সর্বনিম্ন দলীয় রানের রেকর্ড করে ৩৮ রানে অলআউট হয়ে।

কুমার সাঙ্গাকারা এবং মাহেলা জয়াবর্ধনে এই মাঠেই টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন সাউথ আফ্রিকার সাথে।

সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) নিয়ন আলোয় neon aloy

এই মাঠেই মোহাম্মদ আশরাফুল গড়েন সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট শতকের রেকর্ড।

বাংলাদেশ এই মাঠে কয়টা ম্যাচ খেলেছে আমার সঠিক জানা নেই তবে ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দুটি ম্যাচ এখানে খেলেছিলো। হেরেছিলো দুটিতেই অবশ্যই। অস্ট্রেলিয়ার সাথে অল আউট হয় ১২৯ রানে, এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর কাড়েন অলক কাপালি, ৪৫ রানের দারুন এক ইনিংস খেলেছিলেন, সাথে তুষারের ২৭ রান। নাহয় একশোই পার হয়না! অন্য মাচে নিউজিল্যান্ডের সাথে অল আউট হয়েছিলো ৭০ রানে।

কিন্তু ওইসব অতীত, এই বাংলাদেশ অন্য বাংলাদেশ। একরকম বলে কয়ে ম্যাচ জিততেছে। বলেই গিয়েছিলো বাংলাদেশ থেকেই যে সিরিজ জেতার জন্যই যাচ্ছে তারা। সুতরাং শেষ ম্যাচ জিতে এই বিখ্যাত মাঠেই হোক আরেক ইতিহাস! শ্রীলংকা ক্রিকেটের নিউক্লিয়াসেই হোক সিরিজ জয়ের উৎসব।

বাংলাদেশ প্রত্যাশিত জয় পেয়ে সিরিজ জিতলেও একটা আশা আর পূরণ হচ্ছেনা, ৬ নাম্বারে উঠে আসা আর এই সিরিজে হচ্ছেনা। ২-০ হলেও আমাদের ৭ নাম্বারেই থাকা লাগবে।

তবে যত যা-ই হোক, বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের অপেক্ষায় থাকলাম বরাবরের মতই।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top