ইতিহাস

বিশ্বব্যাপী আলোচিত ৫টি জিম্মি পরিস্থিতি বনাম অপারেশন টোয়াইলাইট

জিম্মি উদ্ধার নিয়ন আলোয় neon aloy

বিগত দিনগুলোতে দেশে জঙ্গী পরিস্থিতি ও তা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ভূমিকা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। হতাহতের সংখ্যা ও জিম্মি উদ্ধারের পদ্ধতি নিয়ে নিরাপত্তা ও জিম্মিদের উদ্ধারে নিয়োজিত বাহিনীগুলোর সমালোচনায় মুখর হতেও দেখা গিয়েছে অনেককে। তাদের নিয়ে সমালোচনায় কৌশলগত অপারগতার অভিযোগ ছাড়াও শুনতে পাওয়া যায় নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও “নাটক” এর অপবাদ। এমন পরিপ্রেক্ষিতে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশী সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের সাফল্য কিংবা ব্যার্থতা শুধুমাত্র আতিয়া মহলের অভিযান বর্ণনা করে পর্যালোচনা করা যায় না। এই প্রয়োজনীয়তা থেকে বিশ্ব ইতিহাসের আলোচিত কিছু জিম্মি উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি সারসংক্ষেপ এবং সেগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানের স্বার্থকতা আসলে কতটুকু তা পর্যালোচনা করার প্রচেষ্টা করতে হচ্ছে।

এখানে ৫টি জিম্মি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে যার প্রত্যেকটিতে আতিয়া মহলের থেকে বেশি সংখ্যক মানুষ জিম্মি হয়েছিলেন। এসব অপারেশনে অংশ নেওয়া বাহিনীগুলো পৃথিবীর অন্যতম বিত্তশালী রাষ্ট্রগুলোর সেরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী হিসেবে গণ্য। ঘটনাগুলো সংঘটিত হওয়ার সালের ক্রমানুসারে বর্ণনা করা হল।

১) অপারেশন জেরিকো:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্স দখলের পর থেকে ফরাসী বিদ্রোহীদের কয়েদী হিসেবে রাখা শুরু করে জার্মানরা। কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাদের উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এমন এক কারাগার থেকে বন্দীদের উদ্ধার করতে ব্রিটিশ বাহিনী অপারেশন জেরিকো-এর পরিকল্পনা শুরু করে। ১৯৪৪ সালে কারাগারের উপর যুদ্ধবিমান দিয়ে বোমাবর্ষণ করা হয়। বিস্ফোরণে কারাগারের দেয়াল ভেঙে পড়ে ও ২৫০ জন বন্দী পালাতে সক্ষম হন। উল্লেখ্য, বিস্ফোরণে ১০০ জন বন্দী নিহত হন। পালিয়ে যাওয়াদের মধ্য ১৮০ জন পুনারায় ধরা পড়েন। কোনমতে ৭০ জনের প্রাণরক্ষায় অভিযানটি সফল হয়, তবে এর ফলশ্রুতিতে অসংখ্য বন্দী জার্মানদের হাতে নিহত হন।

জিম্মি উদ্ধার নিয়ন আলোয় neon aloy

বোমারু বিমানের হামলায় অর্ধবিদ্ধস্ত জার্মান কারাগার।

অভিযানটির কৌশল এবং ফলাফল থেকে অনেকের ধারণা যে বন্দীদের মুক্তি অপারেশন জেরিকোর মূল লক্ষ্য ছিলনা। এরকম ঠুনকো কৌশলে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান যে ব্যার্থ হবে তা যেকোন সমরবিদেরই বুঝতে পারার কথা। আর স্বল্পসংখ্যক বন্দিকে মুক্ত করার বিনিময় জার্মানদের মনে ক্রোধের জন্ম দেওয়াটা অনেকের মতেই কেবল যুদ্ধকৌশল বই অন্য কিছু নয়। বন্দী হওয়া সেনাদের মধ্য হেনরী মইসান বলেন “অপারেশনটি অপ্রয়োজনীয় রক্তপাত ছাড়া আর কিছুই করতে সফল হয় নি।” উদ্ধার অভিযান হিসেবে অপারেশন জেরিকো তাই অন্যতম সমালোচিত একটি প্রচেষ্টা।

২) অপারেশন “এন্টেব্বে” ও “ফিউরযাউবার”:

১৯৭৬-৭৭ সালে দুটি পৃথক বিমান হাইজ্যাক করে ফিলিস্তিনী জঙ্গীরা। প্রথম ঘটনায় আক্রান্ত হয় এয়ার ফ্রান্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান। দ্বিতীয়টিতে ফ্র‍্যানকফুর্টগামী লুফথান্সা এয়ারের একটি বিমান।

জিম্মি উদ্ধার নিয়ন আলোয় neon aloy

অপারেশন এন্টেব্বে’র পরে বিমানবন্দর। কন্ট্রোল টাওয়ারের দেওয়ালে দেখা যাচ্ছে গুলির দাগ।

এয়ার ফ্রান্সের ঘটনায় ১০০ জনের ইসরাইলী কমান্ডো বাহিনী পরিকল্পনা করেন অপারেশন এন্টেব্বের। ২৫০০ মাইল দূরে ইসরাইল থেকে সরাসরি রওনা হয় কমান্ডোরা। ৯০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর ১০২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় কমান্ডো বাহিনী। ফিলিস্তিনী জঙ্গীদের কেউই ঘটনাটি থেকে জীবিত বের হতে পারেননি। ৫ জন কমান্ডো আহত হন ও ১ জন মৃত্যুবরণ করেন। জিম্মিদের মধ্যে ৩ জনের প্রাণহানী ঘটে।

এয়ার ফ্রান্সের ব্যর্থতার পর একই জঙ্গীদল লুফথানাসা এয়ারের একটি বিমান হাইজ্যাক করে ১৯৭৭ সালে। বিমানটি সোমালিয়ায় অবতরণ করানো হয়। জার্মান সরকার জঙ্গীদের দাবি দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেয়ার ভনিতার আড়ালে জিএসজি-৯ এর একটি সামরিক দল প্রস্তুত করে। অপারেশন ফিউরযাউবারের শুরুতেই বিমানের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন জিএসজি-৯ এর সদস্যরা। সাধারণ বন্দীদের মাথা নামানোর নির্দেশ দিয়ে তারা জঙ্গীদের দিকে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। একজন বন্দীরও ক্ষতি হয়নি উক্ত ঘটনায়, অন্য দিকে সকল জঙ্গী নিহত হন। জার্মান ইতিহাসের অন্যতম সফল অভিযান ছিল অপারেশন ফিউরযাউবার।

জিম্মি উদ্ধার নিয়ন আলোয় neon aloy

অপারেশন ফিউরযাউবারঃ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু বিমানটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কমান্ডো দল।

৩) অপারেশন শাভিন ডে হুয়ান্টার:

১৯৯৬ সালে জাপানী সম্রাটের ৬৩তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় পেরুতে। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ৫০০ এর অধিক কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে ১৪ জন টুপ্যাক আমারু বিপ্লবী অনুপ্রবেশ করে। ৫০ এর অধিক নিরাপত্তারক্ষীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ভবনে প্রবেশ করে উপস্থিত অতিথিদের জিম্মি করে। জিম্মি এই অবস্থা ৪ মাস বিরাজ করে যে সময়ে দাবী পূরণের প্রেক্ষিতে তারা ৭২ জন কে মুক্তি দেয়।

জিম্মি উদ্ধার নিয়ন আলোয় neon aloy

অপারেশন শাভিন ডে হুয়ান্টার

উক্ত ৪ মাস সময়ে ১৪২ জনের একটি বিশেষ সামরিক বাহিনী তৈরি করা হয়। এই বাহিনীকে একটি সামরিক ঘাঁটিতে সম্রাটের বাসভবনের অবিকল প্রতিকৃতি তৈরি করে দেয়া হয়। সেখানে তারা উদ্ধার কর্মসূচির খসড়া পরিকল্পনা করে অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেন। কল্পনাযোগ্য সকল উপায় একবার করে চেষ্টা করা হয় প্রতিকৃত বাড়িটিতে। বলাই বাহুল্য, সবচেয়ে অবাস্তব পদ্ধতিটাই বেছে নেয়া হয় চূড়ান্ত অভিযানের জন্য। অবশেষে বাহিনীটিকে দুটি দলে বিভক্ত করা হয়। একদল মূল প্রবেশপথে গুলি বিনিময় করে এগিয়ে যায় এবং অন্যদল বাড়ির নিচ দিক দিয়ে সুড়ঙ্গপথ তৈরি করে মেঝে ভেঙে প্রবেশ করে। ১৪ জন জঙ্গী ও একজন বন্দী নিহত হন। অফিসিয়াল তথ্য মতে এটি একটি সফল অভিযান হলেও বন্দীদের অনেকেই সাক্ষ্য দেন যে আত্মসমর্পণের পরও ৫-৮ জন জঙ্গীকে অভিযান শেষে বিচারসূচক মৃত্যদন্ড দেয়া হয়। ৭২ জন বন্দীকে উদ্ধার করা হয়।

৪) নর্ড-অস্ট সিজ:

চেচনিয়া থেকে রাশিয়ান সামরিক বাহিনী অপসারণের দাবীতে ২০০২ সালের ২৩ অক্টোবর মস্কোর দুব্রেভকি থিয়েটার দখল করে ৪০ জন সশস্ত্র চেচনিয়ান উগ্রপন্থী। অটোম্যাটিক রাইফেল দিয়ে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে তারা ভেতরে প্রবেশ করে এবং উপস্থিত ৮৫০ জন থিয়েটার কর্মী ও দর্শককে জিম্মি করে। গ্রেনেড ও আইইডি পরিহিত উগ্রপন্থীদের সাথে বাক্যালাপ শুরু হয় ২৩ অক্টোবর রাত থেকে।

দখলের ৩ দিন পর ২৬ অক্টোবর ভোর ৫টায় স্পেৎসনাজ বাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। একাধিক বাহিনী দিয়ে ঘেরাও থিয়েটারের প্রবেশ পথের আলো নিভিয়ে দেয়া হয়। চেতনানাশক গ্যাস মিশিয়ে দেয়া হয় ভেন্টিলেশন সিস্টেমে। ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর প্রত্যক্ষ অভিযান শুরু হয়। গ্যাসমাস্ক পরিহিত উগ্রপন্থিরা যারা চেতনানাশকে আক্রান্ত হননি গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং দেড় ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ চলে। শেষদিকে সুস্থ ও অচেতন উগ্রপন্থীদের বধ করার পর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।

জিম্মি উদ্ধার নিয়ন আলোয় neon aloy

গ্যাসমাস্ক পরিহিত স্পেৎসনাজ সদস্য

স্পেৎসনাজের আলফা টিমের কমান্ডারের মতে এই অভিযানটি তাদের কয়েক বছরের সেরা সাফল্য হলেও ১৩০ জন সাধারণ নাগরিক এ অভিযানে নিহত হন। নিহতদের অনেকেই গ্যাসের বিষক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে একজন স্পেৎসনাজ সদস্যও রয়েছেন!

স্বাস্থ্যকর্মীগণ নিহতের সংখ্যা বাড়ার পিছনে রাশিয়ান সরকার ও সামরিক বাহিনীর তথ্য লুকানোর প্রবণতাকেও দায়ী করে বলেন “অভিযানে কি ধরণের গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে তা আমাদের জানানো হলে আমরা আরো কিছু প্রাণ রক্ষা করতে পারতাম”। গ্যাসটির সম্পর্কে এখনো কোন তথ্য রাশিয়ান কর্মকর্তারা ফাঁস হতে দেননি। তবে গ্যাস ব্যবহারের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে গিয়ে বলা হয় “গ্যাস ব্যবহার না করা হলে শতাধিক স্পেৎসনাজ সদস্যের প্রাণহানী ঘটার সম্ভাবনা ছিল।”

৫) বেসলান স্কুল:

দুব্রেভকি থিয়েটার দখল ব্যর্থ হওয়ার পর ২০০৪ সালে ১লা সেপ্টেম্বরে একই দাবী আদায়ের লক্ষ্যে রাশিয়ার বেসলানে একটি স্কুলভবন জবর দখল করে ইসলামিক উগ্রপন্থিরা। শিক্ষাবর্ষ সূচনার দিনে সেদিন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন স্কুলটিতে।

উদ্ধার অভিযানে আবারও ডেকে আনা হয় স্পেৎসনাজ বাহিনীর সদস্যদের। ট্যাংক ও রকেট বোমা ব্যবহার করে তাদের অভিযান শুরু হয়। উদ্ধার কৌশলের ভয়াবহতায় ৩৮৫ জন বন্দী প্রাণ হারান। বেসামরিক নিরাপত্তাকর্মী ও জিম্মি পরিস্থিতি বিশেষজ্ঞরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধা করার পথে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেন স্পেৎসনাজের বিরুদ্ধে। সংবাদ মাধ্যমগুলোতে স্পেৎসনাজ বাহিনীর বন্দুকপ্রীতিকে ৩৮৫ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয় যার মধ্যে ১৮৬ জনই ছিল শিশু। এ ব্যাপারে কোন সুষ্ঠ তদন্তের খবর পাওয়া যায়নি।

জিম্মি উদ্ধার নিয়ন আলোয় neon aloy

জিম্মি উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে বেসলানের স্কুলটিকে একপ্রকার ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ফেলে রাশিয়ান বাহিনী।

এ তো গেলো বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল এবং বিশ্বব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করা জিম্মি উদ্ধার অভিযানের কথা। এবার আসি সিলেটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন টোয়াইলাইটের বিশ্লেষণে। আমরা সামরিক বিশেষজ্ঞ নই, তাই জোর দিয়ে এ অভিযানে কমান্ডোদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর জাস্টিফিকেশনে যাবো না। তবে খোলা চোখে যদি দেখি, তাহলে বলা যায় যে এই অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিলো দুইটি-
১। আতিয়া মহলে আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা,
২। ঘাঁটি গেড়ে বসা জঙ্গিদের নিষ্ক্রিয় করা।

উদ্দেশ্য দুইটি পর্যালোচনা করলে বলা যায় আমাদের কমান্ডোবাহিনী এই অভিযানে শতকরা ১০০ ভাগ সফল। তারা অত্যন্ত চতুরতার সাথে আতিয়া মহলে আটকে পড়া প্রত্যেক জিম্মিকে উদ্ধার করে এনেছেন কোনরকম ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ছাড়াই। যেটি আত্মঘাতী জঙ্গিদের হাতে আটকে পরা জিম্মিদের উদ্ধারের ইতিহাসে এক বিরল অর্জন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, এই অভিযানে নিজেদের পক্ষে একজনও হতাহত না হয়ে প্রত্যেক জঙ্গিকে সাফল্যের সাথে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডো ইউনিটটি। জিম্মি এবং উদ্ধারকারী দলের বিন্দুমাত্র ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে এরকম অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলো শুধুমাত্র লুফথানসা এয়ারের জিম্মি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া জিএসজি-৯ কমান্ডো দল। যেখানে রাশিয়ান কমান্ডো বাহিনীর একটি অভিযানে নিহত হয় ১৩০ জন জিম্মি, অপর অভিযানে ৩৮৫ জন। অপরদিকে অপারেশন জেরিকোতে মারা পড়ে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জিম্মি, এবং সেই অপারেশনের ফলশ্রুতিতে পড়ে মারা যায় আরো অগণিত বন্দী!

তবে অপারেশন টোয়াইলাইটে একমাত্র কলঙ্কের দাগ পড়ে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পরে সন্ধ্যার আত্মঘাতী বোমা হামলাটি, যাতে নিহত হন ৭ জন এবং আহত হন আরো ৪০ জনের মত। যদিও ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু আতিয়া মহল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে সেই ঘটনাস্থলটির নিরাপত্তার দায়িত্বে সেনাবাহিনী ছিলো কিনা তা কোন সূত্রই নিশ্চিত করেনি, তাই এ বিষয়ে এখানে কথা না বলাটাই শ্রেয়।

অনেককেই উদ্ধারকারী দলের সমালোচনা করতে শোনা গিয়েছে দুইটি বিশেষ ইস্যুকে কেন্দ্র করে-
১। যে অভিযান কয়েক ঘন্টায়ই শেষ করা যেতো, সেটা তিনদিন ধরে চালানো হলো কেন?
২। এই অভিযান আসল না, সরকারী নাটক।

প্রথম অভিযোগটি খণ্ডাতে গেলে উল্লেখ করতে হয় অপারেশন শাভিন ডে হুয়ান্টারের কথা। এ অভিযানে উদ্ধারকারী দল চার মাসেরও বেশি সময় ব্যয় করে অভিযানটি নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করতে। এ ধরণের ঘটনায় অপরাধীরা আর দশটা অপরাধীর মত টাকা-পয়সার লোভে মানুষকে জিম্মি করে না, বরং এরা যেকোন মুহুর্তে জিম্মিসহ আত্মঘাতী হতে দ্বিধাবোধ করে না। তাই এরকম অভিযানে উদ্ধারকারী দলের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হয় মাপা এবং সর্বোচ্চ পরিমাণে সতর্ক। আপনি যদি শাহরুখ খানের “ম্যায় হু না” সিনেমার সাথে বাস্তব পরিস্থিতি গুলিয়ে ফেলে ভাবেন যে কমান্ডোরা ভবনের এদিক-ওদিক থেকে সাঁ-সাঁ করে উড়ে আসবে আর উড়ন্ত অবস্থা থেকে মাটিতে ল্যান্ড করার আগেই নিখুঁত হেডশটে সব অপরাধীকে কাবু করে জিম্মিদের নিয়ে হাসতে হাসতে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে আসবে- তাহলে চলে না।

দ্বিতীয় অভিযোগটি খণ্ডাতে গেলে চলে আসে অপারেশন জেরিকোর উদাহরণ। অপারেশন টোয়াইলাইট যদি নাটকই হতো, তবে এতে প্রচুর পরিমাণ বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটতো “নাটক”টিকে সফল করার জন্য, ঠিক যেমনটি ঘটেছিলো অপারেশন জেরিকোতে।

দিনশেষে এ কথা বলাই যায়, অন্য কোন দেশের সেনাদলের হাতে পড়লে হয়তো এই অভিযানটি এত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যেতো না, যতটা নিখুঁত এবং পেশাদারিত্বের সাথে এ অভিযানটি সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডো দলটি। আপনারা আমাদের গর্ব। এবং আপনারা আছেন বলেই আমরা বিশ্বাস রাখতে পারি যে পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সে পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সবচেয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকাটিই পালন করবে।

আরো পড়ুনঃ কেন পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করতে বাধ্য হই?

Most Popular

To Top