ইতিহাস

দুর্ভাগ্য না সৌভাগ্য- কি বলা যায় এই ঘটনাগুলোকে?

ফ্রানে সেলাক সুতোমো ইয়ামাগুচি নিয়ন আলোয় neon aloy

ফ্রানে সেলাক

ফ্রানে সেলাক ১৯২৯ সালে জন্ম নেয়া ক্রোয়েশিয়ার একজন সামান্য বেতনের গানের মাস্টার। ১৯৬২ সালের জানুয়ারিতে ট্রেনে চড়ার সময় পুরা ট্রেনের মধ্যে তার অই একমাত্র বগি লাইনচ্যুত হয়ে বরফ গলা নদীর পানিতে ডুবে যায়। প্রথম বউ সহ বাকি সবাই অক্কা পেলেও সেলাক সাহেব ভাঙ্গা হাত আর হাইপোথার্মিয়া নিয়ে একমাত্র মানুষ যিনি বেঁচে যান। আবার বিয়ে করেন।

পরের বছর ফ্রানে সেলাক জীবনে প্রথমবারের মত বিমানে চড়েন এবং ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মত সেই বিমানটিই দুর্ঘটনা কবলিত হয়। একমাত্র মানুষ হিসেবে সেলাক সাহেব বেঁচে যান। দ্বিতীয় বউ মারা যায় এই ঘটনায়। আবার বিয়ে করেন তিনি।

১৯৬৬ সালে বাসে চড়ে কাজে যাবার পথে ৭০ ফুট উপর থেকে গাড়ি পড়ে যায়। সবাই মারা যায় সেলাক সাহেব ছাড়া। ১৯৭০ সালে নিজের চালানো প্রাইভেট গাড়ির তেলের ট্যাংক বিস্ফোরণে বেঁচে যান সেলাক, তৃতীয় বউ মারা যায় এ দুর্ঘটনায়। আবার বিয়ে করেন তিনি।

১৯৭৩ সালে পেট্রোল পাম্প বিস্ফোরণে চুল পুড়ে গেলেও ঘটনাস্থলে থাকা একমাত্র তিনিই বেঁচে যান।

১৯৯৫ সালে মুখোমুখি বাসের ধাক্কা খেয়েও বেঁচে যান।

১৯৯৬ সালে পর্বতমধ্য রাস্তায় সিটবেল্ট না বেধে তাড়াহুড়া করে গাড়ি চালানোর সময় জাতিসংঘের এক ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে ফ্রানে সেলাকের গাড়ি ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গেলেও সিটবেল্ট বাঁধা না থাকায় খোলা জানালা দিয়ে ছিটকে পড়ে বেঁচে যান। চতুর্থ বউ মারা যায় এই দুর্ঘটনায়।

২০০৩ সালে প্রায় কপর্দকহীন অবস্থায় এক দরিদ্র পরিবারের মেয়েকে পঞ্চমবার বিয়ে করেন তাঁর ৭৩ তম জন্মদিনে। সেদিন রাতে এক লটারীতে ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরষ্কার জিতেন সেলাক সাহেব। ২০১০ সালে দুই বাড়ি আর কয়েকটা নৌকা কিনে বাকি টাকা আত্মীয়স্বজনদের দিয়ে দেন তিনি। এই ৮৭ বছরের বুড়ো এখনো দিব্যি বেঁচে আছেন।

সুতোমো ইয়ামাগুচি

সুতোমো ইয়ামাগুচি, জাপানের মোটর কোম্পানি মিতসুবিশির ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৪৫ সালের আগস্টে কোম্পানির কাজে হিরোশিমা যান। খাবারের দোকানে নিজের গাড়ির টিকেট ফেলে আসায় পরের দিন সকালে আনতে বেরুলেন আর সাথে সাথে “লিটলবয়”আণবিক বোমা মারল আমেরিকা। দুই কানের পর্দা ফেটে অর্ধেক শরীর জ্বলে গেলেও ডোবায় ছিটকে পরে বেঁচে যান। পুরা হিরোসিমাতে উনার সাথে আরো দুই জন বেঁচে গিয়েছিলেন। উদ্ধারকারী দল তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় খুব নিরাপদ একটা স্থানে রাখা উচিত তাকে। তাই অনেক ভাবনা চিন্তার পরে শেষমেশ তাকে তাঁর পরিবার নাগাসাকি নিয়ে যায়।

হাসপাতালে ভর্তির পরের দিন সেখান থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে “ফ্যাটম্যান” আণবিক বোমা ফেলে আমেরিকা। জানালা ভেঙ্গে বাইরে পড়ে কিভাবে-কিভাবে যেন বেঁচে যান সুতোমো। তবে উত্তাপে সব ব্যান্ডেজ চামড়ার সাথে লেগে যায় গলে। প্রচন্ড ইনফেকশন হলেও পরে বেঁচে উঠেন তিনি। ২০০৯ সালে জাপান সরকার তাকে দুই ধ্বংসযজ্ঞের একমাত্র সাক্ষী হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১০ সালে ৯৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

(এদের ভেতর একজন কিন্তু সবচেয়ে সৌভাগ্যবান আরেক জন সবচেয়ে দুর্ভাগা ব্যক্তি BBC এর মতে)

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top