বিশেষ

আর্টসেলঃ একটি লম্বা দীর্ঘশ্বাস ও কিছু কটূ কথা

আর্টসেল নিয়ন আলোয় neon aloy

লেখার শুরুতেই একটি কথা বলে নিতে হয়। আমি আর্টসেলের শত্রু না, বরং আরো অগণিত মানুষের মত ব্যান্ডটার প্রচণ্ড ভক্ত। এবং এই লেখাটা একজন মেটালহেডের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই লেখা। সুতরাং এই লেখা পড়ে পাঁড় আর্টসেল ভক্তরা আমাকে গালি দিতে পারেন। তবে গালি দিলেও একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন আপনি আসলে আমাকে গালি দিয়ে দিনশেষে কি নিজেকে মিথ্যে স্বান্তনা দিচ্ছেন না? সেই সাথে এটাও নিজেকে প্রশ্ন করবেন যে আপনি চৌদ্দ-পনের বছর বয়সী জাস্টিন বিবার ভক্ত কিনা, যাকে পছন্দের শিল্পীর সব কাজই জাস্টিফাই করা লাগবে “ভাইয়াআআআ  অনেক জোসসসসস!!!” বলে? যদি তা না হয়ে একজন প্রকৃত মেটালহেড হয়ে থাকেন, তাহলে এ কথা বলতেই হয় যে পছন্দের আর্টিস্ট বা ব্যান্ডকে সাপোর্ট করা যেমন আপনার দায়িত্ব, তার থেকেও বড় কর্তব্য তাদের কনস্ট্রাকটিভ ক্রিটিসিজম করা। দুঃখের বিষয়, এই ক্রিটিসজম হজম করার সংস্কৃতি বাংলাদেশে নাই, আছে গালাগালি আর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির সংস্কৃতি।

আর্টসেলের ইন্টার্নাল সমস্যা অনেক পুরনো খবর। মাঝে আর্টসেল-এক্স, ইকবাল আসিফ জুয়েল ভাইয়ের গিটারিস্ট হিসেবে যোগ দেওয়া, এ নিয়ে অনলাইনে ওপেন কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ইন্ডাস্ট্রির এবং বাংলাদেশের মেটালহেডদের মোটামুটি সবারই জানা। অতীত ঘাঁটাবো না। সেই ভাঙ্গনের হাত থেকে আর্টসেল ফিরে এসেছিলো এবং বেশ জোরেশোরে তাদের তৃতীয় অ্যালবামের কাজও শুরু করেছিলো, যা গত বছরের মাঝামাঝি থেকে মেটালহেডদের মনে প্রচুর আশা জাগিয়েছে। একটি মোবাইল অপারেটরের উদ্যোগে দেশের আনাচে-কানাচে এই অ্যালবামের প্রচারণা হিসেবে বেশ কয়েকটি আর্টসেল ট্রিবিউটও হয়েছে এবং আর্টসেল তাদের নতুন অ্যালবামের দুইটি গান ইউটিউবেও রিলিজ দিয়েছিলো। ব্যক্তিগত যোগাযোগের সূত্র থেকে জানি, বাংলাদেশের ব্যান্ডজগতের অনেক পুরনো যোদ্ধাও এই অ্যালবামটার দিকে অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন। কারণ এই অ্যালবামটি দেশের ব্যান্ড মিউজিক জগতের জন্য একটা “এসিড টেস্ট”। পাইরেসির যুগে যেখানে বাঘা-বাঘা এবং প্রতিষ্ঠিত অনেক ব্যান্ড অনলাইনে ফ্রি’তে অ্যালবাম রিলিজ করে বা মোবাইল কোম্পানির অ্যাপের মাধ্যমে গান রিলিজ দিয়ে পাইরেসি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন বা পপ মিউজিকের রমরমা বাজারে এই জনরার জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছেন, সেখানে এই অ্যালবামটিকে ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের অনেকে দেখছিলেন একটি সম্ভাব্য ব্রেকথ্রু হিসেবে।

যাই হোক, আর্টসেলের অতীত তিক্ততা কবর থেকে তুলে এনে চর্বিতচর্বণ করার কোন মানে হয় না। আমার ফোকাস গত দুই-তিনদিন যাবৎ আর্টসেলে নতুন করে যে বড় রকমের ফাটল দৃশ্যমান হয়েছে সেটা নিয়ে এবং এর কারণে ব্যান্ডের ফ্যানদের যে পরিমাণ অবমাননা, ট্রমা এবং ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তার সমালোচনা করে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ফ্রেন্ডলিস্টের এক ছোটভাইয়ের মাধ্যমে জানতে পারি ২৪ তারিখ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এফইটি বিভাগের ১২ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত কনসার্টে আর্টসেল আসছে গেস্ট ব্যান্ড হিসেবে। এরপর ২২তারিখ রাতে আর্টসেলের অফিসিয়াল পেইজ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয় যাতে কনসার্টের আয়োজকদের সোজা ভাষায় অপমান করা হয় অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে কনসার্টের পোস্টার লাল কালি দিয়ে কেটে দিয়ে এবং কনসার্টের খবরটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে। পোস্টটি পরবর্তীতে মুছে ফেলা হলেও তার কিছু স্ক্রিনশট আমাদের হাতে আসে।

 

আর্টসেল নিয়ন আলোয় neon aloy আর্টসেল নিয়ন আলোয় neon aloy আর্টসেল নিয়ন আলোয় neon aloy আর্টসেল নিয়ন আলোয় neon aloy আর্টসেল নিয়ন আলোয় neon aloy

 

পোস্টের মূল বক্তব্য বুলেট পয়েন্ট আকারে লিখলে যা দাঁড়ায়ঃ
১। শাবিপ্রবি’তে ২৪ তারিখের শো’এর খবরটি গুজব,
২। ২১ ডিসেম্বরের পর থেকে আর্টসেল কোন ধরণের শো’তে অংশগ্রহণ করবে না বলে ফেসবুকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো,
৩। যেকোন ধরণের শো’এর কমিটমেন্ট, প্রোপোজাল কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যান্ডের অফিসিয়াল সমন্বায়ক ডাঃ ইশতিয়াক ইসলাম খানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, অন্যথায় কোন ব্যান্ডমেম্বার কোন অরগানাইজারকে কোন শো’এর কমিটমেন্ট দিলেও সেটা গ্রাহ্য করা হবে না।
৪। দুঃখজনক হলেও সত্য, লিংকন ডি কস্টা ব্যান্ডের অন্যান্য মেম্বারদের না জানিয়ে বিভিন্ন লাইভ ও রেডিও শো’তে অংশ নিচ্ছে।

এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার আগে পরবর্তী ঘটনাগুলোও বর্ণনা করা প্রয়োজন মনে করছি। আর্টসেলের অফিসিয়াল পেইজে থেকে পোস্ট আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ভোকাল ও গিটারিস্ট লিংকনের পেইজ থেকে একটি পোস্ট করা হয় যাতে লেখা ছিলোঃ “Dear fans pray for ARTCELL. We (Shaju Cezanne Lincoln) respespect you. Don’t loose trust on ARTCELL. Cheers!!!!!!!”

আর্টসেল নিয়ন আলোয় neon aloy

২৪ তারিখের শো’তে “আর্টসেল” লাইনআপ (ফটো ক্রেডিটঃ প্রভা মেহেদি জয়)

এরপর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে “আর্টসেল” ঠিকই হাজির হয় শো’এর স্টেজে, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চেহারায়। স্টেজে উপস্থিত ছিলেন ব্যান্ডের রেগুলার মেম্বারদের মধ্যে শুধুমাত্র লিংকন! তাকে সাহায্য করার জন্য গিটার, বেজ এবং ড্রামসে ছিলেন একদম অপরিচিত তিনজন! এরা এতই আনকোরা ছিলেন যে স্টেজে তাদেরকে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার সময় লিংকন ড্রামারের নামই ভুলে গিয়েছিলেন প্রায়! যাই হোক, প্রথম গানটি শেষ করার পরেই লিংকন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা পোস্টগুলোর জন্য আর্টসেলের ফ্যানদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন এবং জানান যে তিনি, সাজু এবং সেজান আর্টসেলের সাথেই আছেন। সাজু দেশের বাইরে থাকায় এবং সেজান পারিবারিক কারণে শো’তে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও সকলকে তাদের শুভকামনা জানিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ফেসবুক পোস্টের মত এখানেও তিনি আর্টসেলের নিয়মিত লিড গিটারিস্ট এরশাদের নাম খুব সতর্কতার সাথে এড়িয়ে যান! এরপরে তাদের পারফরম্যান্সও ছিলো স্বাভাবিকভাবেই “অনার্টসেলীয়”। ৪ জন পারফরমারই সাধ্যাতীত চেষ্টা করলেও মেটালহেডরা যে আর্টসেলের সাথে পরিচিত, তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি এদিনের পারফরম্যান্স। যেতে পারার কথাও না। দেশসেরা সেটআপের পারফরম্যান্স কখনোই অর্জন করা সম্ভব না কয়দিনের প্র্যাকটিসে, সেটা আপনি যত প্রতিভাবানই হন না কেন।

এবার আসি একজন ভক্তের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আর্টসেলের সমালোচনায়। সোজা বাংলায় বলে রাখি, আমি সমালোচনা করবো “আর্টসেল” ব্যান্ডের, কারো পক্ষ নিয়ে না।

২১ ডিসেম্বরের পরে আর্টসেল কোনরকম শো’তে অংশগ্রহণ করবে না, এবং যেকোন শো’তে আর্টসেলের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন ব্যান্ডের সমন্বায়ক ডাঃ ইশতিয়াক ইসলাম খান- এই পুরো বিষয়টা কোনভাবেই আমার কাছে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। প্রথম কথা, আর্টসেল কিংবা এর মেম্বাররা অ্যালবাম রিলিজের আগে কোন লাইভ শো’তে পারফর্ম করবেন না এই কথা তো তখনই ইনভ্যালিড হয়ে যায় যখন আর্টসেলের পেজে ঢুকলে দেখা যায় সেখানে টানা কয়দিন ধরে প্রচারণা চলছে “দা রক প্রজেক্ট” এ গাথ্রি গোভানের সাথে পারফর্ম করবেন এরশাদ। আর ডাঃ ইশতিয়াককে কয়জন চিনে? কিংবা তিনি যে আর্টসেলের সমন্বায়ক- এ কথা কয়জন জানে? আর্টসেলের “অফিসিয়াল” পেজের এবাউট সেকশন এবং ব্যান্ডের ওয়েবসাইট তন্ন তন্ন করে খুঁজেও আমি ওনার নাম পেলাম না ব্যান্ডের “সমন্বায়ক” হিসেবে। হ্যাঁ, ডিসেম্বরের ২৫ তারিখের একটি ফেসবুক পোস্টে এরকম ঘোষণা এসেছিলো যে অ্যালবাম রিলিজ হওয়ার আগে আর্টসেল কোন শো’তে অংশগ্রহণ করবে না। কিন্তু একটা ফেসবুক পোস্টই কি সব? তিনমাস আগে আপনি কি পোস্ট করেছেন আপনার পেইজে, এইটা তিন মাইল স্ক্রল করে কে খুঁজতে যাবে? সমন্বায়ক হিসাবে ডাঃ ইশতিয়াকের প্রথম কাজই ছিলো তিনি যে সমন্বায়ক- সেটা অফিসিয়ালি ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেইজের এবাউট সেকশনে আপডেট করানোর ব্যবস্থা করা। যদি মানুষ না-ই জানে যে এই ব্যান্ডের অফিসিয়াল সমন্বায়ক কে, তাহলে এই সমন্বায়ক প্র্যাকটিকালি একজন নোবডি! আর প্র্যাকটিকাল আলাপই যখন হচ্ছে, তখন আরেকটা প্র্যাকটিকাল কথা না বললে নয়। আপনারা শিল্পী, ঈশ্বর না। ঈশ্বরের কথা-ই মানুষ মনে রাখে না, আপনারা দুই মাস আগে ফেসবুকে কি পোস্ট করেছেন সেটা মানুষ মনে রাখবে কেন যদি না আপনারা ইনফরমেশনটা জায়গামত পোস্ট না করেন?

এখন ব্যান্ডের সমন্বায়ক কে সেটাই যদি মানুষ না জানে, তারা পারফরমারদের সাথে যোগাযোগ করবে- এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে একটা ব্যান্ডকে কোন প্রোগ্রামে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মানুষ ভাই-ব্রাদার লিংকের ডালপালা খুঁজে পারফরমারদেরকেই নক করার চেষ্টা করে। কারণ বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এখনো এতটা শক্ত না যে প্রফেশনাল ব্যান্ড ম্যানেজারের একটা পোস্ট থাকবে যিনি ব্যান্ডের সব ধরণের এক্সটার্নাল কন্টাক্ট হ্যান্ডেল করবেন। সেক্ষেত্রে যেটা হয়, অরগানাইজাররা লতায়-পাতায় ভাই-ব্রাদার লিংক ধরে কোন একটা ব্যান্ডের পারফরমারদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন যদি সেই ব্যান্ডের ম্যানেজারের ব্যাপারে তার জানা না থাকে। এবং পরবর্তীতে সেই পারফরমারই অরগানাইজারকে বলে দেন এ বিষয়ে ব্যান্ড ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করতে। এখন আর্টসেলের অফিসিয়াল পেজের পোস্টে যেভাবে লেখা হয়েছে, তা থেকে এরকম ধারণা হওয়াই স্বাভাবিক যে লিংকন বাকি ব্যান্ডের সাথে লুকোছাপা করে শো করে বেড়াচ্ছেন যেগুলোর বিষয়ে তাদের সমন্বায়ক ডাঃ ইশতিয়াকের জানার কথা না। সেক্ষেত্রেও দোষ কোনভাবেই অরগানাইজারের ঘাড়ে পড়ে না। এটা পুরোপুরি ব্যান্ডের ভিতরকার ঝামেলা কিংবা মিসকমিউনিকেশন। এবং লিংকনের কমিটমেন্ট না পেলে নিশ্চয়ই অরগানাইজাররা শো’এর ঘোষণা দিতো না। এবং লিংকন ব্যান্ডের বাকিদের সাথে কনসাল্ট না করেই কমিটমেন্টে আসছেন নাকি সেটাও অরগানাইজারদের জানার কথা না। তারচেয়ে বড় কথা, আপনার ব্যান্ডে হাজারটা ইন্টার্নাল সমস্যা থাকতে পারে, সেটাতে কেউ নাক গলাবে না। কিন্তু সমস্যাটা তখনই হয় যখন আপনি অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে অরগানাইজারদের পোস্টার লাল কালিতে ক্রস কেটে আপনার ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেন। আপনাদের ইন্টার্নাল পলিটিক্সের গুটি চালতে তৃতীয়পক্ষের কাউকে কেন বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন? এটা কি কোনভাবে সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ হতে পারে? যেই মানুষগুলো আপনাদের সম্মান করে, ভালবেসে আমন্ত্রণ করে নিয়ে যায়, তাদের এভাবে অপমান করার মানে কি?

লিংকন শেষ পর্যন্ত আর্টসেলের অফিসিয়াল পেইজ থেকে বক্তব্য না দিয়ে নিজের প্রোফাইল থেকে পাবলিক রিলেশনের কাজ চালাচ্ছেন আপাতত যেখানে তিনি দাবী করছেন ব্যান্ডের অপর দুই রেগুলার মেম্বার সাজু এবং সেজান তার সাথেই আছেন। এক্ষেত্রে এই প্রশ্ন উঠা খুবই স্বাভাবিক যে সাজু দেশের বাইরে থাকলেও সেজান ব্যান্ডের এরকম একটা ক্রাইসিস মোমেন্টে “পারিবারিক কারণ” দেখিয়ে শো থেকে সরে গেলেন কেন? সেজান কি আসলেই লিংকনের পক্ষে আছেন?

একজন অর্গানাইজারকে কি পরিমাণ দৌড়ের উপর থাকতে হয় একটা প্রোগ্রাম নামাতে, সে ধারণা আপনাদের থাকার কথা। সেই অরগানাইজারের কাছে প্রোগ্রামের সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে আউটপুট হতে পারে প্রোগ্রামের দিন বদ্ধ অডিটোরিয়ামে আগুন লেগে হাজারখানেক মানুষ মারা যাওয়া। সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাজে আউটপুট হতে পারে প্রোগ্রামের ঠিক আগমুহুর্তে সেটা ক্যান্সেল হওয়া। আপনারা গত তিনদিনে সাফল্যের সাথে অরগানাইজারদের বিভীষিকার লিস্টে নতুন একটা এন্ট্রি যোগ করে এক লাফে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছেন। শুধু যে আপনারা শো ক্যান্সেলের ঘোষণা দিয়েছেন , তা-ই না, পুরো প্রোগ্রামটাকেই গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে অরগানিজারদের ক্রেডিবলিটি, সততা, মানসম্মান সবকিছুকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন!

প্রিয় আর্টসেল মেম্বাররা, আপনারা তো মেটালিকাকে গুরু মানেন, না? তো গুরুকে কি আসলেই ফলো করেন? বেশি না, মাত্র তিন সপ্তাহ আগের ঘটনা। কোপেনহেগেন কনসার্টে জেমস হেটফিল্ড অসুস্থ বোধ করায় দর্শকদের বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করেন তারা প্রোগ্রাম আজকের মত ক্যান্সেল করে অন্য কোন দিন রিশিডিউল করবেন কিনা? যদিও তারা এটা না করলেও পারতেন, জেমসের অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে আস্তে করে স্টেজ থেকে নেমে যেতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করার আগে ঠিকই দর্শকদের অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। এটাকে বলে প্রফেশনালিজম।

আপনি তার কাছে সম্মান আশা করতে পারেন না যাকে আপনি নিজে অসম্মান করেন। বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশের অন্যতম সেরা প্রফেশনাল ব্যান্ডকে প্রফেশনালিজম শিখাচ্ছি- এটা যে সুস্পষ্টভাবে সীমা লঙ্ঘন হচ্ছে সেটা আমি নিজেও বুঝছি। কিন্তু তারপরেও বলতে বাধ্য হচ্ছি কথাগুলো। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে আপনারা মগবাজারের গলিতে প্র্যাকটিস করা উঠতি ব্যান্ড না, আপনারা ইন্ডাস্ট্রি লিডার, হাজার উঠতি মিউজিসিয়ানের আইডল। যেখানে আপনাদের এখন রোল প্লে করা উচিৎ মেন্টরের, জুনিয়র ব্যান্ডগুলোকে মাঝেমধ্যে ধমকে দিবেন ছোটখাটো আনপ্রফেশনাল এটিচিউডের জন্য, সেখানে আমাদের মত নগণ্য ফ্যানরা আপনাদের শিখাচ্ছে প্রফেশনালিজম-১০১, এটা আসলে আমাদের পুরো ইন্ডাস্ট্রিটার জন্যই একটা দুঃখের বিষয়। তবে এই দুইদিনে আপনারা অপেশাদারিত্বের যে নমুনা দেখালেন, দুঃখজনকভাবে এইটা হয়তো এখন অনেক ব্যান্ডই ফলো করা শুরু করবে- এখানেই আমাদের ভয়। আর এজন্যই এত লম্বা লেখার অবতারণা।

ছোট মুখে অনেক বড় কথা বলে ফেলেছি, শেষে আরেকটু বললে মনে হয় না খুব একটা ক্ষতি হবে আর। আপনাদের মধ্যে যেহেতু এতই দ্বন্দ্ব, ব্যান্ডটা ডিসম্যান্টল করে ফেললেই পারেন! এইভাবে নিজেদের এবং সেই সাথে ফ্যানদের আর কত যন্ত্রণা দিবেন? পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তৃতীয় অ্যালবামের আশা আমরা অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছি। নিজেদের মধ্যে আর তিক্ততা না বাড়িয়ে যত দ্রুত পারেন, ব্যান্ড ভেঙে নিজেরা নিজেদের পথে হাঁটা দেন। সোলো পারফর্ম করেন নাহলে ওয়ারফেজের মিজান ভাইয়ের মত “মিজান অ্যান্ড ব্রাদারস” টাইপ কোন নাম দিয়ে নতুন ব্যান্ড ফর্ম করেন, তবুও ফ্যানদের এই ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্সের মধ্য দিয়ে নিয়েন না আর। কারণ আপনাদের এই টানাহেঁচড়া দেখতে আমাদেরও খুব একটা সুখের অনুভূতি হয় না। আমাদের পুরনো আর্টসেলের সুখস্মৃতি নিয়েই থাকতে দেন, এই কুৎসিত আর্টসেল আমরা চাই না। এই ব্যাপারে সবচেয়ে ভাল উক্তিটা সম্ভবত ডার্ক নাইট মুভিতে হার্ভি ডেন্টের মুখে শুনেছিঃ

You Either Die A Hero, Or You Live Long Enough To See Yourself Become The Villain”

কারণ সত্যি কথা বলতে, আমরা অনেক আর্টসেল ফ্যানই আর্টসেলের গানের কথা মেনে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিঃ

কি ছিলো, কে হারালো,
কোন ভুলে সুর হয়েও হলনা
কি হল, কি হলনা তা অমুলক,
অযাচিত তুলনা।
অতীতের হাটা ভুলে যাও,
এটা অসম সমীকরণ।
তাই আজ এই আয়োজনে, বুঝেনাও
অনুভবে এক অনুরনন অবিমৃষ্যতা
পিছুটান পথচলায় বেমানান
জেনে নাও…….”

এডিটর’স নোটঃ নিয়ন আলোয় তার পাঠকদের মতপ্রকাশের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মে আর্টসেলের শুধু সমালোচনা-ই করা হয়েছে তা নয়, বরং এর আগে আর্টসেলের সত্যিকারের পটেনশিয়াল এবং বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে এবং এর শ্রোতাদের জীবনে আর্টসেলের ব্যাপক প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত আর্টিকেল পাবলিশ হয়েছে। লিংক এখানেঃ “আর্টসেল, আর্টসেলড একটি প্রজন্ম, ও সত্ত্বায় আর্টসেল”।

Most Popular

To Top