শিল্প ও সংস্কৃতি

“ডুব” নিয়ে কিছু কথা

ডুব হুমায়ূন ফারুকী শাওন নিয়ন আলোয় neon aloy

হুমায়ূন আহমেদকে আমরা চিনেছি তাঁর লেখা বই পড়ে… তাঁর বানানো চলচ্চিত্র ‘আগুণের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ কিংবা ‘চন্দ্রকথা’ দেখে।

আমাদের কাছে বইমেলা মানেই ছিলো নতুন কোন হিমু কিংবা নতুন কোন মিসির আলী বা শুভ্র। আমার বা আমাদের বয়সী জেনারেশনটা এখনো বুড়িয়ে যাইনি… আমরা আছি, আমরা মনে-প্রাণে-অন্তরে তাঁকে মিস করি।

এখন ব্যাপার হচ্ছে, মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী সাহেব হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে একটা চলচ্চিত্র বানিয়েছেন… চলচ্চিত্রের নাম ‘ডুব’। তবে এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য বিষয় মোটেও হুমায়ূন আহমেদের বায়োগ্রাফী নয়… বরং হুমায়ূন আহমেদ এবং তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী শাওনের অসম প্রেম এবং বিবাহ নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ।

এইবার আমি আমার পয়েন্টে আসি… আমাদের জেনারেশন হুমায়ূনকে যেমন তাঁর সৃষ্টিকর্ম দিয়ে চিনেছি… সেই আমি কখনোই চাইবো না আমার পরবর্তী জেনারেশন হুমায়ূন আহমেদকে ‘ডুব’ চলচ্চিত্র দিয়ে চিনুক। হুমায়ূন আহমেদ এমন একটা নাম, যার পরিচিতির জন্য কিংবা ভালোবাসার জন্য কখনো ভাটা পড়বে না… আজও বইমেলায় তাঁর বই’ই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়… ভবিষ্যতেও এটা’ই হবে।

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী নিজে কখনোই হুমায়ূন আহমেদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ ছিলেন না… তাঁর বায়োগ্রাফী নিয়ে মুভি বানানোর ক্ষেত্রে তাই যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন আসে… হুমায়ূন আহমেদের জীবদ্দশায় ফারুকীর বানানো ‘হিমু’ নাটক নিয়ে হুমায়ূন আহমদে নিজে যথেষ্টই বিরক্ত হয়েছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী শাওন এই ‘ডুব’ চলচ্চিত্র বন্ধ করার জন্য সেন্সর বোর্ডের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন… বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে কয়েকবার জাতীয় পুরষ্কার পাওয়া অভিনেত্রী এই মেহের আফরোজ শাওন কখনোই চান না যে তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়টি অপরিষ্কার ভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা হোক।

খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার… দুই কলম হুমায়ূন পড়ার আগেই যারা ঘোষণা করেন হুমায়ূন আহমেদ শাওনকে বিয়ে করে বিরাট অন্যায় করেছেন… তাঁদের বলে রাখি, হুমায়ূন আহমেদ কিন্তু চাইলেই শাওনকে আড়াল রেখে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারতেন… সেক্ষেত্রে আমরা কিছুই বলতে পারতাম না। সেখানে হুমায়ূন তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন।

এসব নিয়ে যারা শাওনকে কটাক্ষ করছেন… তাঁরা ভেবে দেখবেন, কথা উঠলে অনেক দিকেই উঠতে পারে… মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী সাহেব হুমায়ূন-শাওন প্রেম নিয়ে গবেষণা করার আগে দয়া করে কিভাবে তিশাকে বিয়ে করার আগে তাঁর নিজের এবং তিশার লিভ টুগেদার প্রেমের রিউমার ছিলো… সেটা নিয়ে গবেষণা যদি করতেন, চলচ্চিত্র বানাতেন… সেটা বেশ যুক্তিযুক্ত হতো।

এই হুমায়ূন আহমেদ এবং শাওন আমাদের ‘আজ রবিবার’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’ ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’র মতো নাটক-চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন।

যেখান ফারূকী আমাদের জেনারেশনকে দিয়েছেন ‘লিটনের ফ্ল্যাট’ কিংবা ‘বাচ্চা হবে না… বাচ্চা হবে না… বাচ্চা হবে না’।

এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ইরফান খান কেনো… স্বয়ং টম হ্যাঙ্কস বা ব্র্যাড পিটকে আনলেও আমি এই চলচ্চিত্র রিলিজ হোক, এটা আমি চাইতাম না।

অর্জনের দিক দিয়ে আমরা শাওন আর তিশাকে একটূ মিলাবো কি…?? আমার জানা মতে হুমায়ূন আহমেদের বানানো জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের আর তারিনের নাটক ‘প্যাকেজ সংবাদ’ এ কাজের মেয়ের চরিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে নতুন কুঁড়ির শিল্পী তিশাকে হুমায়ূন আহমেদ ব্রেক দিয়েছিলেন।

তিশা কি ভুলে গেলেন…??

সর্বশেষ কথা… ফারুকী সাহেব, আমাদের নতুন জেনারেশনকে হুমায়ূন চেনাতে হবে না… সেই ভালোবাসা হুমায়ূন নিজে করে নেবেন। আপনি পারলে এই দেশকে জহির রায়হান, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, কিংবা পলান সরকার, জোবেরা রহমান লিনুদেরকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানিয়ে দেখান।

আমরা অপেক্ষা করি।

কভার ফটোঃ নাবিল হাবিব

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top