নাগরিক কথা

মসজিদে যে অজু করে ঢুকে, মন্দির সে ভাঙে কেমনে?

আমি ভাবতেই অস্বস্তি বোধ করব কেউ আমার ঘরে ঢুকে পবিত্র কোরআন হাদিস বিনষ্ট করছে!!! আমি দেখে নির্বাক হয়ে যাই,আমরা অন্যের বিশ্বাস,পূজনীয়া প্রতিমা অন্যের ঘরে ঢুকে ভেঙে চুরমার করছি???

ধিক্কার আর শ্রদ্ধাঞ্জলির মাঝে বহু পার্থক্যের ছড়াছড়ি নাই,একটা নিন্দার্থক,অন্যটা সম্মানন অর্ঘ্যপাত্র। বহুজন ইতিহাসের ইতিকথা বলেন,ইলিশের মাত্র একটা কাটা গলায় বিঁধেছে!! তাই আমরা স্বগর্বে ইলিশের নাম দিলাম “সংখ্যালঘু”।

বায়বীয় প্রশান্তিতে বর্বরতা ঢেলে, একটা বিষের কৌটা হাতে নিয়ে আমরা তাতে কিছু ঘৃণ্য ঘৃণা মিশিয়ে ছেড়ে দিলাম “সংখ্যালঘিষ্ঠ” ইলিশের কূপে।

ক্লোরোফর্ম আর বেলজারে যে ভয়ানক দশায় অবতীর্ণ হয় কুনোব্যাঙ, সংখ্যাল্প সনাতনের সে দশা আমরা তৈরী করতে বদ্ধপরিকর!!

মালো, ডেডাইয়া, কাছিমখোর আরো কত ডাক নাম আমরা তাদের দিয়েছি!! সম্প্রীতি সম্প্রসারণ করে উগ্রকর্মা উগ্রবাদে তাদের মন্দিরে ঢুকে বিনাশ করেছি সার্বজনীন প্রতিমান!!

তুলসীর রসদ কেন আমাদের কর্কশ কাশল কন্ঠে মিহি শুশ্রূষা আনে!! জল কোন মালোয়ান শব্দ!!উলুধ্বনি একমাত্রিক শব্দ-দূষণ!!!

ভেবেছিলাম,নতুন শতাব্দীতে আমাদের প্রজ্ঞায় শান লেগেছে,গোঁড়ামি বুঝি পলাতক!!

অক্সিজেন বিনির্মাণ আর ক্লোরোফিলের উপস্থিতি যেমন প্রক্রিয়াগত তত্ত্ব,আমাদের নিশ্বাসও তেমন সার্বজনীন সংবিধান। ফুসফুসের ক্যান্সার কেন হয় আশা করি তা আমাদের কারোই অজানা নয়।

প্রতিবেশী এক “অমুসলিম” পরিবার এদেশ ছেড়ে অতিশীঘ্র চলে যাচ্ছেন। প্রশ্নোত্তর কালে বাসার মনিব বলে উঠলেন, “যুদ্ধের সময় ছোট ছিলাম দাদীর সাথে বর্ডার ক্রস করছি,এইবার চিরতরে চলে যাচ্ছি।”

নিরীহ মানুষের কাছে গোপনে অপমানিত হলে লজ্জা নাই কিন্তু “সংখ্যালঘু” প্রতিবেশীর আসন্ন অন্তর্ধান ভয়াবহরকম পীড়াদায়ক। বুঝলাম!!

জুকারবার্গ সাহেবের এই জাদুর গালিচায় কত অভিব্যক্তি,আমার মতো কত সন্ন্যাসের প্রাদেশিক ধর্মপ্রাণা পরিষদ। সকাল সন্ধ্যায় ক্রিকেট নতোবা আয়নাবাজির প্রতিফলন-প্রতিসরণ। জোছনা পূর্ণিমারাতে সবাই থাকি চাঁদেরহাটে। কিন্তু অমাবস্যাতিথিতে, মন্দির আক্রমণের কথা শুণে কেউ রাস্তায় নামি না!!!!

যে অল্প দু’এক জন রাস্তায় নামেন,তারা আবার প্রযুক্তিগত উপায়ে জুকারবার্গের জাদুর গালিচায় ভানুমতী ভাঙা মূর্তির ছবি আপ দেন,ডানে বামে কোটেশন লাগিয়ে নজরুলের অহিংস কাব্য সেখানে ঝনঝন করে।

তখন আমি কি করি????

শুয়ে শুয়ে লাইক দেই,আর সাঈদীর চাঁদে যাওয়ার ক্ষেত্রে নাসার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলি!!!

লালনের গান শুনে শ্রোতা হওয়া এক জিনিস আর নিজের ধর্মের অনুশাসন না মেনে অন্যের শিবলিঙ্গ ভেঙে ফেললে তা কিভাবে জিহাদি আচরণ!!!!

আমার বাল্যবন্ধু সনাতন,আমার কলিগ সনাতন,আমার প্রতিবেশী সনাতন,আমাদের নৈশপ্রহরী সনাতন,আমার নির্মল স্যার সনাতন,
অমর্ত্য সেন- কবিগুরু সনাতন,এদের কাউকেই আমি হাদিস বা কোরআন পুড়ানোর ঘটনায় লিপ্ত দেখিনি।

কয়েক বছর আগে বায়তুল মোকাররমের কার্নিশে আমরা আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পুড়তে দেখেছি, এই জঘন্য নারকীয় কাজের কাজি কি সনাতনরা ছিলেন????

নাহ,এ নিয়ে টকশো করা যায়,টিভি রিপোর্ট হয়,শুধু এই হুজুগে অজ্ঞতায় মেহেদীর রঙ ধরে না। প্রতিমা আমার আপনার ধর্মের বিপ্রতীপ হতে পারে,তেমনি ইসলামী শরীয়ত অন্য কারো ধর্মের বিপ্রতীপ।

কবর আর চিতা দুইটা প্রণালীর নাম,আমার মনে হয় স্বর্গ আর বেহেশত সমার্থক।

আমরা ইবোলা ভাইরাসের নাম শুনে আতংকিত হই,”সংখ্যালঘুর” শতাংশ নির্ণয়কারী হিসেবে গণিতবিদ হই!! সাকিব আল হাসানের স্যালুটে রোমাঞ্চিত হই,অসাম্প্রদায়িকতা ও বাংলাদেশ এই স্বপ্নিল সমীকরণ নির্বাচনের আগে যেন রাঙা সিঁদুর, এর কয়েক বছর পর??? সবাই কথার আগে এবং পরে বলি—–

জয় বাবা ফটোশপ।

লেখকঃ পেশায় ব্যাংকার, নেশায় কার্টুনিস্ট!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top