ফ্লাডলাইট

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্টঃ স্বপ্নভঙ্গের বেদনা, নাকি নতুন স্বপ্নের হাতছানি?

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট নিয়ন আলোয় neon aloy

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট ম্যাচের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড যখন ঘোষণা করা হয়, সেটাকে চমক বলেও ঠিক বোঝানো যাচ্ছিলো না। ইংল্যান্ডের স্কোয়াডের সাথে তুলনা করলে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ইংলিশরা স্টোকসসহ ৫ জন পেসার নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ টিমে পেসার মাত্র দুজন। একজন অভিষেকের অপেক্ষায়, আরেকজন বছর দুয়েক আগে শেষ টেস্ট খেলেছেন (যদিও শেষ পর্যন্ত টেস্ট দেখে মনে হয়েছে, এই দুজনেরই বা কি দরকার ছিল! আরো দুইটা স্পিনার নিলেই হতো। আসলে দরকার ছিল। রাব্বি বেয়ারস্টো’র উইকেটটা নিয়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসে, এই একটি উইকেট নেওয়ার জন্যে হলেও ছিল)।

টিমে আছেন শুভাগত, কেন আছেন সেটা র্নিবাচকরা ছাড়া কেউ জানেনা। নিয়ে আসা হয়েছে বাচ্চা ছেলে মিরাজকে। সাব্বিরকে অভিষেক করানোর সিদ্ধান্তও তখন চূড়ান্ত। শুরু হলো সমালোচনা। তা কিছুটা যৌক্তিকও। ১৬ বছর পরে এসেও কেন আমাদের একটা সেটেলড টেস্ট টিম থাকবেনা! কিন্তু কারো কাছেই আসলে কোন সমাধান নাই এই মূহুর্তে। যতদিন আমাদের একটা পরিকল্পিত ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট কাঠামো না দাঁড়াবে, আমরা নেক্সট লেভেলে যেতে পারবনা।বল আসলে বিসিবি’রই কোর্টে।

সাকিব বললেন, উনি শেষ কবে বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলেছেন, নিজেও মনে করতে পারছেন না! কোচ “আমাদের বোলারদের ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা নেই” বলে পরিবেশ আরো উত্তপ্ত করে তুলতে চাইলেন। এসব ডামাডোলের মধ্যেই ১৪ মাস পরে ক্রিকেটের আদি সংস্করণে লড়াই করতে নেমে গেলো ওরা এগার জন।

 

১ম দিন

প্রথম দিনটা ডেব্যুট্যান্ট মিরাজের, ১৮ বছর বয়সের মিরাজ। টানা ভাল জায়গায় বল ফেলে যাওয়ার ক্ষমতা, আর্ম বল, কুইকার, লম্বা স্পেল- এসব দেখে মনে হয়নি এটা ওর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বেয়ারস্টো’কে বোল্ড করে দেখানো অ্যাগ্রেশন কিংবা শতভাগ ইফোর্টও আলাদা করে নজর কাড়লো। দিনটা মঈন আলীরও। নিকট অতীতে এক ইনিংসে আর কোন ব্যাটসম্যানকে এতবার ‘আউট’ হতে দেখা যায়নি। সাকিব মূল্যবান দু’টি উইকেট নিলেন। তবে নিজের করা শেষ কয়েকটা ওভারে আলগা কিছু ডেলিভারিতে প্রেশার খানিকটা রিলিজ করে দিলেন। দিনের শেষভাগে আর বোলিং-এও আসতে দেখা যায়নি সাকিবকে।শফিউল, রাব্বি কোন প্রভাব রাখতে পারলেন না। তাইজুল পেলেন না প্রত্যাশিত টার্ন, তবে রানের ঘোড়ায় লাগাম দিয়ে দম বন্ধ করে রাখলেন ইংলিশদের।ইংল্যান্ড ২৫৮/৭ নিয়ে দিন শেষ করল। টসে হেরেও বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচটা এরচে’ ভালভাবে শুরু করতে পারতোনা। কৃতিত্ব পাবে পিচ কিউরেটর ও টিম ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশের সাথে যায়- ঠিকঠাক সেরকম একটা পিচ বানানোর জন্যে। মুশফিকের ব্যলান্সকে রিভিউ নিয়ে আউট করাটা ছিল দিনের সেরা ব্যাপারগুলির একটি। মিরাজকে দিয়ে ইনিংস শুরু করিয়েও ক্যাপ্টেন মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। বাংলাদেশ বিশ্বাসটা ফিরে পায় এদিন- টেস্টেও লড়াই করা সম্ভব।

 

২য় দিন

ওকস, রশিদ, ব্রড, ব্যাটি। পৃথিবীর সেরা টেস্ট টেলএন্ডার মনে হয় ইংলিশদেরই। ১১ নম্বর ব্যাটিরও ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ৭ হাজার+ রান! এদের মিলিত চেষ্টায় ইংল্যান্ড ২৮৩ তে গিয়ে থামলো। অথচ ১ম দিনে ইংলিশদের ৫ উইকেট পরে যাওয়ার পর একটা সময় মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশ ২০০’র আগেই ওদের ইনিংস মুড়ে দিতে পারবে। তাইজুল সকালে বেটার বোলিং করলেন। সাব্বির নিলেন অসাধারণ একটি ক্যাচ। তামিম স্বভাববিরুদ্ধ ঢং-এ দুর্দান্ত একটা ইনিংস খেললেন সেঞ্চুরিটা হলে যা পরিপূর্ণতা পেতো। দুইদিন মিলিয়ে সবচে’ সাবলীল ইনিংসটা খেললেন মুশফিক। স্পিনের বিপক্ষে অনুকরণীয় ফুটওয়ার্ক দেখালেন। কখনো ডাউন দ্য উইকেটে এসে, কখনো ক্রিজের পেছন দিকে গিয়ে। দিনের একদম শেষভাগে তিনি আউট হওয়াতে তাই হাহাকার ওঠাটা অস্বাভাবিক ছিলনা। দিনটাও তাই পুরোপুরি বাংলাদেশের হলোনা। মাহমুদউল্লাহ দারুণ একটা পার্টনারশিপের অংশ ছিলেন। তবে টানা চার ইনিংসে রশিদের বলে তার ডিসমিসাল হয়তো তাকেই খানিকটা দুঃশ্চিন্তায় ফেলে দেবে। আর প্রতি ব্রেকের আগে নামতা ধরে উইকেট হারানো হয়তো পুরো দলকেই আলাদা করে ভাবাবে।দিনশেষে সাকিব ক্রিজে ছিলেন। লিড নেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার চোখে-মুখে-মনে। “এই পিচে পেসারদের কোন কাজই নাই” এই ধারণা যখন মোটামুটি জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে, স্টোকস সেটাকে কি অবিশ্বাস্য সুন্দরভাবেই না ভুল প্রমাণ করলেন! শেষ বিকেলে তার রিভার্স সুইং এর স্পেলটি ছিল ভয়ংকর। বিশেষ করে দারুণ খেলতে থাকা মুশফিককে পরপর তিনটা বলে পরাস্ত করে যেভাবে মাসল রিফ্লেক্সে ফ্রন্টফুটে এসে খোঁচা দিতে বাধ্য করলেন- সেটা যেকোন নিরপেক্ষ ক্রিকেট ভক্তের চোখেই অনেকদিন লেগে থাকবে। তবে সেটির রেশ যে পরদিনও রয়ে যাবে, তখনো কেউ কল্পনা করতে পারেনি।

 

৩য় দিন

দিনের দ্বিতীয় বলে এভাবেও কেউ আউট হয়! সাকিব হলেন। যা দেখে অবিশ্বাসে চোখ কচলাতে বাধ্য হলো প্রতিটা ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ। পরের অংশটুকু বেন স্টোকসময়। যার রিভার্স সুইং-এর কোন জবাব ছিল না সাব্বির,মিরাজদের কাছে। ২২১/৪ থেকে ২৪৮ তে ইনিংস শেষ। অতীতে তাকালে দেখা যায়, এই সময়েই আসলে বাংলাদেশ টেস্ট হেরে যায়। এরপরে প্রতিপক্ষ এমন একটা অসম লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়,যেটার অর্ধেক পৌছতে পৌছতেই আমাদের আরেকটা ইনিংস শেষ হয়ে যায়। এবার তা হয়নি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবিই দেখা গেলো দিনের পরের অংশে। সাকিবে ভর করে ইংল্যান্ডকে ৬২/৫ করে ফেলা গেলেও স্টোকস-বেয়ারস্টো জুটি জমে গেলো। জুটিটা ভাংলেন রাব্বি। নিজের সেঞ্চুরির হাতছানি ছিল, তবুও রিভিউটি নষ্ট করতে চাচ্ছিলেন না স্টোকস। ওকসের পীড়াপীড়িতে নিতে বাধ্য হলেন। স্টোকস টিম অন্তঃপ্রাণ প্লেয়ার। অ্যাটিচুডে সমস্যা থাকলেও, যেকোন টিম এরকম একজন ক্রিকেটারকে তাদের দলে রাখতে চাইবে। সাকিব ৫ উইকেট নিলেন ১৫তম বারের মত। শুধু অস্ট্রেলিয়ার সাথেই সাকিবের ৫ উইকেট নাই,কারণ অসি’দের সাথে এখনো কোন টেস্ট খেলারই সুযোগ হয় নাই। ইংল্যান্ড ২২৮/৮ স্কোর নিয়ে দিন শেষ করলো। লিড ২৭৩ রানের। এই পিচে ২০০+ চেজ করাই অসম্ভব মনে হচ্ছিল তখন। কারণ ম্যাচের শুরু থেকেই বল এতই অসমান টার্ন, বাউন্স পাচ্ছিলো যে ব্যাটসম্যান শুধু না, উইকেট কিপারদের কিপিং করাটাও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছিলো প্রথম দিন থেকেই। আম্পায়ারদের কাজটাও মোটেও সহজ ছিলনা। ২০-২৫ টি রিভিউ নিতে হয়েছে, তার বেশিরভাগই এই টার্নের দুর্বোধ্যতার জন্যেই। এমনকি পিচ করার পর বলের গতিপথ বুঝতে পারছিলেন না বোলার-কীপাররাও, যে কারণে দেখা গেছে দুই দলই নিশ্চিত উইকেট পেতো- এরকম কিছু রিভিউ মিস করে গেছে বলের সম্ভাব্য গতিপথ আন্দাজ করতে না পেরে। তবে দিনশেষে প্রশ্ন একটাই ছিলো- ইংল্যান্ড জয়টা বাংলাদেশের নাগাল থেকে ঠিক কতদুরে নিয়ে ইনিংস শেষ করবে?

 

৪র্থ দিন

ইংল্যান্ড ২৪০/১০। বাংলাদেশের সামনে আপাত অসম্ভব এক টার্গেট ২৮৬ রানের। উপমহাদেশে এর আগে মাত্র ১০ বার ২৭০+ চেজ করার ঘটনা ঘটেছে।তামিম আগেরদিনই বলেছেন – এই পিচে কেউ ১০০ রান করলেও সেট হতে পারবেনা! কারো বোঝার সাধ্য নাই কোন ডেলিভারি কখন মৃত্যু ডেকে আনবে ব্যাটসম্যানের। বল প্রচণ্ড টার্ন করছে, সাপের ছোবল দেওয়ার মতন হঠাৎ বাউন্স পাচ্ছে – বাংলাদেশ কতদূর আর যাবে! শুধু অতি আশাবাদীরাই বুক বেঁধেছিলেন। একটা অসাধারণ ইনিংস যদি কেউ খেলতে পারে! একজন নন, সবার মিলিত চেষ্টায় একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ, ইতিহাসের দিকে। মুশফিক, সাব্বির জুটি শুধু কুক নয়, কমেন্ট্রি বক্সে বসা নাক-উঁচু ব্রিটিশদের কপালেও ভাঁজ ফেলে দিচ্ছিলো। বোঝা যাচ্ছিল, বিপদ আসলে সবাই-ই কমবেশি ক্যাপ্টেনের খুঁত-টুত বের করা শুরু করে। ব্যাটির যে ডেলিভারিতে মুশফিক আউট হলেন, দুনিয়ার যেকোন ব্যাটসম্যানই তা হতে পারতেন। ‘বাংলাদেশের ৬ উইকেট যাওয়া মানেই ১০ উইকেট যাওয়া’ প্রবাদ চালু হয়ে গিয়েছে, টেল এন্ডারদের এমনই দুরবস্থা। সাব্বির তবুও লড়াই চালিয়ে গেলেন। রোমান গ্লাডিয়েটরদের মতন পাল্টা আক্রমণকেই বেছে নিলেন বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে। ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার ভয় পেতে শুরু করলো ইংল্যান্ড। স্পিনারদের সরিয়ে নিল আক্রমণ থেকে। ৪র্থ দিন শেষে বাংলাদেশের দরকার আর ৩৩ রান, ইংল্যান্ডের দরকার ২ টি উইকেট। সাব্বির বললেন, আল্লাহর হাতে সব ছেড়ে দিয়েছি, দেখা যাক কি হয়।শুরু হলো বাংলাদেশ সমর্থকদের জন্য বছরের সবচে’ দীর্ঘ রাত্রি।

 

৫ম দিন

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এমনি এমনি বলেননি “ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাবে না”। আশার যে ফানুস নিয়ে রাত জেগে ছিল গোটা বাংলাদেশ, ২টি ইনসুইঙ্গিং ডেলিভারিতেই তা শেষ হয়ে গেলো। ২২ রানের ব্যবধান রয়ে গেল, রয়ে গেল সাব্বিরের ব্যাটে ভর দিয়ে বসে থাকা ওই অসহায় ছবিটা। এক মাসও হয়নি ডিআরএসে পরিবর্তনটা আনা হয়েছে, নইলে তাইজুলের আউটটা হয়না। গোটা ম্যাচে যিনি একের পর এক ভুল ডিসিশন দিয়েছেন, সেই আম্পায়ার ধর্মসেনাই হঠাৎ বিচক্ষণতার প্রতীক হয়ে গেলেন! অনেক পাওয়ার এক ম্যাচে শুধু জয়টাই পাওয়া হলনা। এশিয়া কাপ ফাইনাল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চট্টগ্রাম টেস্ট- আমরাই কেন শুধু জয় বঞ্চিত হই! তবে লড়াই করার যে ইচ্ছা, আকাংখা বাংলাদেশ দেখিয়েছে – তা অতুলনীয়। এই কাছ থেকে ফিরে আসাই হয়তো অনেকগুলি রঙিন জয় ছিনিয়ে আনা শেখাবে।

 

শেষ কথাঃ

এই টি-২০ যুগে এসেও টেস্ট এখনো সেই সেরা হয়েই আছে। টেস্টেই বোঝা যায় একজন ব্যাটসম্যান আসলে কতটা ভাল, একজন বোলার কতটা দক্ষ, একজন ক্যাপ্টেন কতটা বিচক্ষণ ও দুরদর্শী। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে ক্রিকেট অনুসারীদের আদিখ্যেতার কোন শেষ নেই কেন- এই ম্যাচই ইদানীংকালে তার শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন।টানা চারটে দিন শেষে এসে ৫ম দিনের ২১ টি বল সব নির্ধারণ করে দিলো! ক্রিকইনফো, ফেসবুক, টুইটারে ৫ দিন ধরে শুধু এই টেস্টেরই গল্প! মাইকেল ভনের মত নিপাত ভদ্রলোককেও এটা-ওটা টুইট করে চাঙ্গা রাখতে হয়েছে ইংলিশ প্লেয়ারদের! সুদূর নিউজিল্যান্ডে বসে একজন লিখলেন, “শেষ দিনে কি হয় দেখার জন্য আজকে সারারাত নির্ঘুম কাটবে”! বাংলাদেশ নয়, নয় ইংল্যান্ডের- দিনশেষে সবাই ক্রিকেটেরই সমর্থক। মাইকেল হোল্ডিং থেকে শুরু করে রবিচন্দন অশ্বিন- টেস্ট ক্রিকেটের জয়গান গাইলেন সবাই। কেউ ছোট্ট মিরাজকে প্রশংসায় ভাসালেন। কেউ বেয়ারস্টোর কিপিং-এ মুগ্ধ হলেন। বদলে যাওয়া “অধিনায়ক” মুশফিকের উইকেটের সামনে-পিছনে এনার্জি এবং স্ট্র্যাটেজিক মুনশিয়ানা অনেকটাই ঘুচালো তার “মুখস্থ এবং নেগেটিভ ক্যাপ্টেন্সী”র দুর্নাম। কেউ বাহবা দিলেন মুশফিকের দৃঢ়তাকে। বাংলাদেশ দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে পুরো বিশ্বের চোখকে আটকে রাখলো চট্টগ্রামের ওই স্টেডিয়ামে। বাউন্সারে আঘাত পেয়ে সাব্বিরের কিছু হয়েছে কিনা দিনশেষে খোঁজ নিয়ে স্টোকস যেমন স্পোর্টসম্যানশিপের দারুণ দৃষ্টান্ত দেখালেন, তেমনি ব্যাটসম্যান শফিউল ডিফেন্স করে ডেড হয়ে যাওয়া বল ধরতে যাওয়ায় হেই-হেই করে ছুটে এসে মাইন্ড গেম খেলতেও দ্বিধাবোধ করেননি। সবকিছুর পরে হতাশায় মুখ ঢেকে বসে থাকা সাব্বিরকে জো রুটের স্বান্তনা কিংবা সাব্বিরের কাঁধে ব্রডের হাত রাখার ছবিটাই ক্রিকেটীয় চেতনা আর টেস্ট ক্রিকেটের আদর্শ চিত্র হয়ে উঠলো। ইংল্যান্ড না, বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট ম্যাচটিতে আসলে ক্রিকেটই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top