বিশেষ

নোবেল পুরষ্কার এড়িয়ে চলছেন বব ডিলান!

বব ডিলান নিয়ন আলোয় neon aloy

২০১৬ সালের সাহিত্যে নোবেল। এই বাক্যটুকুই যথেষ্ট বিশ্বের যে কোন প্রান্তে যেকোন মানুষের সামনে একটি নাম স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরার জন্য- বব ডিলান । গত ১৩ই অক্টোবর সুইডিশ একাডেমি “আমেরিকান সংগীত সংস্কৃতিতে নতুন কাব্যিক ভাবের উদ্ভবএর জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী হিসাবে ঘোষনা করে ৭৫ বছর বয়সী এ আমেরিকান সংগীত শিল্পীকে। পৃথিবীজুড়ে দেখা যায় মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্বনামধন্য সংবাদপত্রিকা ও ম্যাগাজিনে ঝড় বয়ে যায় বব ডিলানের নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে। তবে এত হইচইয়ের মধ্যেও বব ডিলানের নিজের কি অভিমত এই নোবেলপ্রাপ্তি নিয়ে- সেটা অনেকের অজানা রয়ে গেছে।

নোবেল ঘোষণার দিন বব ডিলান লাস ভেগাসে একটি কনসার্ট করেন। সেখানে তিনি তেমন কথাবার্তা বলেন নি। এমনকি নোবেল পুরষ্কার নিয়ে কোন মন্তব্যও করেন নি। পরদিন কোচেলায় কনসার্ট করেন দ্যা রোলিং স্টোন্স এর সাথে। সেখানে রোলিং স্টোন্সের ভোকাল মিক জ্যাগার বব ডিলানকে ইঙ্গিত করে বলেনআমরা এর আগে কখনও একজন নোবেল বিজয়ীর সাথে এক মঞ্চে কনসার্ট করিনি। তিনি আমাদের মাঝে ওয়াল্ট হুইটম্যান। এই প্রশংসারও কোন উত্তর দেননি সেদিন ডিলান। এ থেকেই একটু একটু করে বুঝা যেতে থাকে যে নোবেল পাওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রক্ষেপ নেই তার। এর কারণও হয়তো কিছুটা স্পষ্ট। এরকম জমকালো অভ্যর্থনা গুলো বরাবরই এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস আছে তার, যার শুরু ১৯৬৩ সালে। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ “টম পেইন” পুরষ্কার নেয়ার সময় মঞ্চে বিব্রতকর ভাবে জন এফ. কেনেডীর ঘাতকের প্রতি সহানুভুতি জানান বব ডিলান, যার জন্য তাকে পরবর্তীতে ক্ষমা চাইতে হয়। তারপর থেকে ২০০০ সালের অস্কার, ২০০৭ সালের প্রিন্স অফ অস্ট্রিয়ার মেডেল, ২০১০ সালের জাতীয় শিল্প মেডেল – কোন অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন না বব ডিলান। এমনকি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে কনসার্ট করতেও অনীহা ছিল তার। যদিও শেষপর্যন্ত তিনি রাজি হন।

২০১৩ সালে ওবামা এক সাক্ষাতকারে বলেনআমি অন্য যেকোন আমেরিকানের মতই একজন ডিলান ভক্ত। ২০১০-এ যখন ডিলান হোয়াইট হাউসে আসেন, তখন আমি আর মিশেল প্রথম সারিতে বসে ছিলাম। ডিলানকে আপনি যেমন আশা করবেন, তিনি তেমনই। মঞ্চে উঠে শুরু করলেন “টাইমস দে আর আচেঞ্জিং”। গান গুলো করে নামলেন, আমার সাথে এসে করমর্দন করে একটু হেসে বের হয়ে গেলেন। এই ছিল আমার তার সাথে সেদিনের মত সাক্ষাত। ওবামা নিজে ব্যাপক উৎফুল্ল ছিলেন প্রিয় শিল্পীর নোবেল জয়ে। টুইট করে তাকে অভিনন্দন জানান, সেইসাথে নিজের প্রিয় কবিদের মধ্যে বব ডিলানও একজন বলে উল্লেখ করেন।

উৎফুল্ল শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা সমালোচক তো দুরের কথা, স্বয়ং সুইডিশ একাডেমী-ই এখনো কোন ভাবে ডিলানের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি এই ব্যাপারে। সুইডিশ একাডেমির সেক্রেটারি সারা ড্যানিয়াস এর কাছে এই নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেনআমরা আপাতত কিছুই করছি না। তার কাছের লোকদের সাথে কথা হয়েছে আমাদের। তারা আমদের সাথে যথেষ্ট বন্ধুসুলভ আচরণই করেছেন। আমরা আপাতত তাতেই খুশি। আমরা এখনও জানি না তিনি ১০ ডিসেম্বের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন কিনা। তার ইচ্ছা না হলে তিনি আসবেন না। তবে তার ইচ্ছা যা-ই হোক না কেন, অনুষ্ঠান যথাযথ ভাবেই জমকালো হবে এবং তার মধ্যমণি তিনিই হবেন।সারা ড্যানিয়াস এটিও বলেনব্যাক্তিগত ভাবে আমি মোটেই চিন্তিত নই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তিনি আসবেন

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top