ফ্লাডলাইট

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আফগানদের হতাশায় ডুবালো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আফগানিস্তান ১ম

চরম প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ম্যাচে সফরকারী আফগানিস্তানকে ৭ রানে পরাজিত করে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়লাভ করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যাচটি ছিল গত মার্চের পর বাংলাদেশের খেলা প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে দাউলাত জাদরানের শর্ট লেংথের বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে শাবির নুরি’র হাতে ক্যাচ দিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিং রুমে ফেরত আসেন সৌম্য সরকার। ওয়ান-ডাউনে নামা ইমরুল কায়েস পিচের এক্সট্রা বাউন্সে কিছুটা নড়বড়ে শুরু করলেও পরে গুছিয়ে নেন নিজেকে। এর মধ্যে স্লিপ এবং পয়েন্টে ফিল্ডাররা কিছু হাফচান্স মিস না করলে হয়তো রান ত্রিশের ঘরে যাওয়ার আগেই উইকেট হারাতে হতো ইমরুলকে। তবে স্লিপে দুইটি ক্যাচ হাতে জমাতে না পারার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বেশি সময় নেননি আফগান দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ইমরুল কায়েসকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। আউট হওয়ার আগে ৫৩ বল খেলে ৩৭ রান করেন ইমরুল, এসময় দলীয় সংগ্রহ ছিলো ২ উইকেটে ৮৪ রান। তবে এর কোনকিছুই বিচলিত করেনি অপরপ্রান্তে দাঁড়ানো তামিম ইকবালকে। সাবলীল গেমপ্লে’তে নিখুঁত টাইমিং এবং প্লেসিং শটে স্বভাবজাতভাবে রান তুলে নিতে থাকেন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এ ব্যাটসম্যান।  মুখোমুখি হওয়া ৬৩তম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফিফটি তুলে নেন স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যান, তার দুই বল পরেই তামিমের আরেকটি বাউন্ডারিতে ১০০ রান ছোঁয় বাংলাদেশের ইনিংস।

তবে পাওয়ারপ্লে’র পরে আঁটসাঁট বোলিং এ বাংলাদেশের রানের চাকা বেঁধে রাখার পুরো কৃতিত্ব আফগান বোলারদের, বিশেষ করে স্পিনার মোহাম্মদ নবী এবং মিডিয়াম পেসার মিরওয়াইস আশরাফের। যে কারণে আফগানিস্তানের বাজে ফিল্ডিং এর পরেও প্রথম ২০ ওভারে ৯০ রানের বেশি তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ব্যাক্তিগত ফিফটি ছোঁয়ার পরেই কিছু সময়ের জন্য আবারো হাত খুলে মারতে শুরু করেন তামিম ইকবাল।

ইনিংসের প্রথম ছক্কা আসে ইনিংসের ২৫তম ওভারে, “মিস্টার ডিপেন্ডেবল” মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে। মিরওয়াইস আশরাফের লেংথ বল ক্রিজ থেকে তেড়েফুঁড়ে সামনে এগিয়ে মিড-অফ বাউন্ডারিতে আছড়ে ফেলেন রিয়াদ। উইকেটের এক প্রান্ত থেকে লেগস্পিনার রাশিদ খানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর বিপরীতে মাহমুদুল্লাহ আক্রমণ করতে থাকেন মিরওয়াইসকে। মিড-অনে চমৎকার একটি বাউন্ডারিও তুলে নেন ছয় মারার পরের ওভারেই। তবে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করে আবারো বাংলাদেশের অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যানকে খোলসে ঢুকতে বাধ্য করে আফগান বোলাররা। বারবার বোলিং আক্রমণে পরিবর্তন আনে তারা, যেন বাংলাদেশীরা ব্যাটিং-এ থিতু হতে না পারে। তবে এতে রানের চাকায় লাগাম দিতে পারলেও উইকেট তুলে নিতে পারছিলো না সফরকারীরা। তবে ব্যাটসম্যানরা, বিশেষ করে তামিমের মত আগ্রাসী ব্যাটসম্যান যে এতে বিরক্ত হচ্ছিলেন তা পরিষ্কার হয় ৩০তম ওভারে। মিড-অফে বাউন্ডারি ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রায় ক্যাচই তুলে দিয়েছিলেন ফিল্ডারের হাতে, তবে শট মিসটাইমড হওয়ায় বেঁচে যান। তবে প্রায় ১৫ ওভার ধরে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখার ফল আফগানিস্তান পায় ৩৬তম ওভারের প্রথম বলে। আগের ওভারে রাশিদ খানের ওভারে বেশ কিছু ডট দেওয়ার পর মিরওয়াইসকে তুলে মারতে গিয়ে সেই মিড-অফেই ধরা পরেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের  ৭ম সেঞ্চুরি থেকে ২০ রান দুরে থাকতেই ফিরে আসার আগে ৯৮ বল খেলেন তিনি।

তামিম ফেরত যাওয়ার পর ব্যাক্তিগত ফিফটি তুলে নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এরপরেই মোহাম্মদ নবীর বলে ব্যাক্তিগত ৫৮ রানে কভার অঞ্চলে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তিনি, তবে আফগান অধিনায়ক তা হাতছাড়া করেন। তবে বেশিক্ষণ আফসোসে পুড়তে হয়নি তাকে। মোহাম্মদ নবীর পরের ওভারেই সুইপ করতে গিয়ে ডীপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে আসেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এসময়ের মধ্যেই তার নামের পাশে যোগ হয় ৬২ রান।

সাকিব আল হাসান এক পাশ থেকে রান বাড়ানোর চেষ্টায় তৎপর ছিলেন উইকেটে আসার পর থেকেই। মাহমুদুল্লাহর বিদায়ে মাঠে নামা মুশফিকও সে চেষ্টাই করছিলেন। এর মধ্যে একটি রিভার্স সুইপ খেলার পরের বলেই লেগস্পিনার রাশিদ খানের গুগলিতে পরাস্ত হয়ে ব্যাক্তিগত ৫ রানের মাথায় বোল্ড হয়ে যান সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। একই রকম ডেলিভারিতে পরের ওভারেই স্লগ ওভারের আগ্রাসী ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমানকেও তুলে নেন রাশিদ। যদিও সাব্বিরের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে, কারণ বলটি পরিষ্কারভাবেই উইকেটের অনেক উপর দিয়েই যাচ্ছিলো।

তবে এক প্রান্ত থেকে নিজের কাজটি ঠিকই করে যাচ্ছিলেন সাকিব। সময়ের সাথে স্লো হয়ে আসা পিচের সাথে মানিয়ে নিজের শট চেক করে খেলছিলেন বেশ ভালই। আফগানদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার দাউলাত জাদরান বলের গতি কমিয়ে দিচ্ছিলেন, যার কারণে বল ঠিকঠাকমত ব্যাটে আসছিলো মাশরাফি’র। তবে সাকিব এই কৌশলের বিপরীতে বেশ কার্যকরভাবে রান বাড়িয়ে যাচ্ছিলেন সফটহ্যান্ডে খেলে। বড় শটের পথে না হেঁটেও ঠিকই বলের চেয়ে বেশি রান করে যাচ্ছিলেন। তবে ব্যাক্তিগত অর্ধশতক থেকে মাত্র ২ রান দূরত্বে থাকতে অফসাইডের বাইরের শর্ট লেংথের বলে ডীপ মিড উইকেটে নাজিবুল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন সাকিব আল হাসান, আর তার কিছুক্ষণের মাঝেই ড্রেসিং রুমে ফেরত আসেন মাশরাফি বিন মর্তুজাও!

সবশেষে লোয়ার অর্ডারে তাইজুল-তাসকিন-রুবেলের এলোপাতাড়ি ব্যাট ঘুরানোতে ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে ২৬৫ রান জমা করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। মাঝের ওভারগুলোতে মোহাম্মদ নবীর নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ডেথ ওভারগুলোতে দাউলাত লোয়ার অর্ডারের উইকেটগুলো তুলে নিলেও সফরকারীদের সেরা বোলার বলতে হবে নবীণ লেগস্পিনার রাশিদ খান। রাশিদ একইসাথে টপ অর্ডারে তামিম-মাহমুদুল্লাহকে আটকে রাখায় এবং স্লগ ওভারগুলোতে মুশফিক-সাব্বিরদের উইকেট তুলে নেওয়ায় একটি মজবুত শুরুর উপর ভিত্তি করেও বাংলাদেশের স্কোর ২৮০-৩০০ স্পর্শ করতে পারেনি।

বোলিং এর শুরুটাও খুব একটা ভাল হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম দুই ওভারেই ৪টি ওয়াইড উপহার দেন মাশরাফি এবং তাসকিন। এর মধ্যে তাসকিনের বলে স্লিপে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান মোহাম্মদ শাহজাদ। যা চাপমুক্ত হতে সাহায্য করে আফগান ওপেনারদের এবং তারা ৭ ওভারের মধ্যেই ৪৬রান তুলে ফেলেন। এর মধ্যে মাত্রই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে আসা তাসকিনের এক ওভারে টানা ৩টি বাউন্ডারিসহ আসে ১৭ রান। সপ্তম ওভারের ৫ম বলে মাশরাফিকে মিড-অনে বিশাল ছক্কা হাঁকান শাহজাদ। তবে তার পরের ডেলিভারিতে বুদ্ধিদীপ্ত সলওয়ার অফকাটারে মোহাম্মদ শাহজাদকে বোকা বানিয়ে মুশফিকের গ্লাভসে ক্যাচ জমা দিতে বাধ্য করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। অপর ওপেনার শাবির নুরিও দুই বলের বেশি টিকতে পারেননি। আক্রমণে এসে নিজের দ্বিতীয় বলেই তাকে এলবিডাব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান

কিন্তু এরপরেই দাঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ হতাশার এক পার্টনারশিপ। রহমত শাহ এবং হাশমাতুল্লাহ শাহিদি আফগানিস্তানের জন্য তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৪৪ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ গড়েন।প্রথমদিকে কিছুটা সময় নেন দুইজন ব্যাটসম্যানই, এর মধ্যে রুবেলের বলে বেশ কয়েকবার দুই ব্যাটসম্যানেরই ক্যাচ উঠে। কিন্তু সবগুলোই পরে ফিল্ডারবিহীন অঞ্চলে। এরপর আস্তে আস্তে ক্রিজে সেট হয়ে ফিফটি তুলে নেন রহমত এবং শাহিদি। এর মাঝে রহমতের ফিফটি’তে ছিলো মাহমুদুল্লাহ এবং তাইজুলকে তুলে মারা দর্শনীয় তিনটি ছয়। তবে এই পার্টনারশিপ গড়ে উঠার পিছনে বাংলাদেশী বোলারদেরও যথেষ্ঠ কৃতিত্ব আছে, বিশেষত ফাস্ট বোলারদের। মাশরাফিকে বাদ দিলে রুবেল এবং তাসকিন পরিকল্পনাবিহীন এলোমেলো বোলিং করে গিয়েছেন তারা ক্রমাগত, যার প্রমাণ ৩৬ তম ওভার পর্যন্ত ১১টিরও বেশি ওয়াইড! বলতে গেলে ব্যাটসম্যানদের কোন চাপেই ফেলতে পারেননি বাংলাদেশের অন্যতম দুই পেস অস্ত্র।

তবে খেলার মোড় ঘুরতে থাকে সাকিবের করা ৩৯তম ওভার থেকে। পরপর দুই ওভারে সাকিব এবং তাইজুল বেশ কয়টি ডট বল আদায় করে নেন সেট দুই ব্যাটসম্যান থেকে, ফলে আস্কিং রেট বেড়ে ৭-এর উপর উঠে যায়। আস্কিং রেট আফগানদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রমণাত্মক হতে বাধ্য হন রহমত শাহ, এবং তাকে ক্রিজ থেকে বেশ কিছুটা সামনে টেনে এনে মুশফিকের সহজ স্ট্যাম্পিং এ পরিণত করেন সাকিব। তবে তার ঠিক আগের বলেই পুরো ইনিংসে বাজে ফিল্ডিং-এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শাহিদির সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন দলের অন্যতম সিনিয়র প্লেয়ার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

পরে তাইজুলের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ১১০ বলে ৭২ রানের সময়োপযোগী ও ধৈর্য্যশীল ইনিংস খেলা করা হাশমাতুল্লাহ শাহিদি। কিন্তু দুই সেট ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরাতে বেশ দেরি হয়ে যায় ততক্ষণে। উইকেটে এসে মোহাম্মদ নবী বেশ নির্ভার হয়ে শট খেলা শুরু করেন। নবী এবং নাজিবুল্লাহ জাদরান রুবেলের করা ৪৫তম ওভারে দুইটি বাউন্ডারিসহ ১১ রান তুলে বল ও রানের ব্যাবধান কমিয়ে ৩০ বলে ৩৮রানের সমীকরণে নামিয়ে আনেন।

সে ক্ষতি পোষাতে ৪৬তম ওভারে নিজের হাতে বল তুলে নেন অধিনায়ক মাশরাফি। তৃতীয় বলেই ফেরান ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠতে থাকা নাজিবুল্লাহকে। তবে পরের বলেই তার সাহসী জবাব দেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক আসগার স্তানিকজাই, মাশরাফিকে বিশাল এক ছক্কায় গ্যালারিতে আছড়ে ফেলে হুমকি দেন খেলা নিয়ন্ত্রণে নিতে বাংলাদেশ অনেক দেরি করে ফেলেছে। সে ওভারশেষে সমীকরণ দাঁড়ায় আফগানিস্তানের জিতার জন্য ৪ ওভারে ২৮ রান দরকার। আক্রমণে আসেন সাকিব আল হাসান, ৪৭তম ওভারে খরচ করেন মাত্র ১ রান। স্তানিকজাইয়ের উইকেটটিও পেতে পারতেন সে ওভারেই যদি না মুশফিক তার ক্যাচ ফেলে না দিতেন। রিকোয়ার্ড রেট উঠে যায় ওভারপ্রতি ৯ রানে।

পরের ওভার করতে আসেন তাসকিন আহমেদ, যিনি এর আগে পর্যন্ত এই ইনিংসে বাংলাদেশের সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন। তবে এই ওভারে এসে তিনি পূর্বের ভুলের মাশুল ঘুচিয়ে একই ওভারে ৬ রানের বিনিময়ে বিপজ্জনক দুই ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নবী এবং আসগর স্তানিকজাই- দুইজনকেই সাজঘরে ফেরত পাঠান!

বাংলাদেশ আফগানিস্তান ১ম নিয়ন আলোয় neon aloy

রুবেলের বলে বোল্ড রাশিদ খান

৪৯তম ওভারে পাপমোচনের দায় সারেন রুবেলও! দারুণ বোলিং করে ডিরেক্ট বোল্ড করেন আগের ডেলিভারিতেই ইম্প্রোভাইজড স্কুপ খেলা রাশিদ খানকে। শেষ ওভারের সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩রানে। এবং চমৎকার বোলিং এ নিজের পুরনো রূপে ফেরত আসেন প্রথম ৬ ওভারে নিজের ছায়া হয়ে থাকা তাসকিন। একের পর এক ব্লকহোলে ডেলিভারি ফেলে আফগান লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দম বন্ধ করে দেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলা এই স্পিডস্টার। দ্বিতীয় বলে মিরওয়াইসকে এলবিডাব্লিউ এবং শেষ বলে দাউলাত জাদরানকে সাব্বিরের ক্যাচে পরিণত করে সম্পূর্ণ করেন স্বপ্নের কামব্যাক। আফগানিস্তান তাদের ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হয় ২৫৮ রানে।

ব্যাট হাতে ৪০ বলে ৪৮ রান, এবং বল হাতে ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট, এবং বিশেষ করে ৪৭তম ওভারে মাত্র এক রান দিয়ে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়ে দেওয়া সাকিব আল হাসান হন ম্যান অফ দা ম্যাচ। সেই সাথে এই ম্যাচে ২ উইকেট শিকার করে সাকিব এখন ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি, যে বিরল প্রতিভা ক্রিকেটের প্রায় দেড় শতকের ইতিহাস আর কারোই নেই।

বাংলাদেশ আফগানিস্তান ১ম নিয়ন আলোয় neon aloy

ম্যাচসেরা সাকিব আল হাসান

 

ম্যাচের সম্পূর্ণ স্কোরকার্ড দেখে নিন এখানে ক্লিক করে 

এই ম্যাচে জিতে গেলেও বেশ কিছু শঙ্কার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েও স্লগ ওভারে রান তুলতে না পারা, আফগানিস্তানের দুর্বল বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে অলআউট হওয়া, বোলিং এ শুরুর দিকে স্ট্রাইক বোলারদের নিষ্ক্রিয়তা, আগোছালো বোলিং এবং ইনিংসজুড়েই ভয়াবহ বাজে ফিল্ডিং এর সমস্যা সমাধান করতে না পারলে আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজে তো বটেই, চলমান আফগানিস্তান সিরিজেও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে স্বাগতিক দলকে। তবে আগামী ম্যাচ থেকে এসব সমস্যা কাটিয়ে টাইগাররা আবারো বিপুল বিক্রমে প্রতিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পরবে বলেই সকলের দৃঢ় বিশ্বাস।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top