নিসর্গ

‘রেইনফরেস্ট টু টেবল’ – রান্নার মাধ্যমে রিও অলিম্পিকে রেইনফরেস্ট সংরক্ষণের ভিন্নধর্মী প্রচারণা

অ্যামাজন, হাজারো ফল,সবজি,মাছ সহ খাদ্যের এক বিশাল ভান্ডার। হাজার হাজার বছর ধরেই অ্যামাজনের অধিবাসিরা এর উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে। কিন্তু বাকি পৃথিবী এর কতটুকুই বা জানে?
আর তাই, ‘রেইনফরেস্ট টু টেবল’ ল্যাটিন আমেরিকার টপ শেফ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের সমন্বয়ে একটি পদক্ষেপ যার লক্ষ্য অ্যামাজনের এই খাদ্যভান্ডারকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা এবং এর মাধ্যমেই রেইনফরেস্টের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। আর এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় সবচেয়ে আকর্ষণীয় উপায়ে। রেইনফরেস্ট থেকে শেফদের রান্না করা খাবার সরাসরি আপনার প্লেটে।

এই উদ্যোগের শুরু হয় ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে। ফরেস্ট ট্রেন্ডজ, একটি অলাভজনক কনজারভেটিভ সংস্থা, ক্যানোপি ব্রিজ এবং পেরুর আমাজ রেস্টুরেন্ট সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচি শুরু করে এবং তাদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার ফলে রিও অলিম্পিকের পূর্বেই এই উদ্যোগ বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরবর্তীতে অলিম্পিক কমিটি এই এই প্রচেষ্টার একজন প্রধান আহবায়ক শেফ পাওলো মাকাদোর সাথে যোগাযোগ করে তাদের একটি স্পেশাল ইভেন্ট ‘কাসা ব্রাজিলিয়া’তে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন। এই প্রোগামে পাওলো এবং তার টিম অলিম্পিক চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন স্পেশাল ডিশ রান্না করবেন যা অ্যামাজনে প্রাপ্ত উপকরণ দিয়ে তৈরী।

শেফ পাওলো মাকাদো

শেফ পাওলো মাকাদো

এই প্রোগামে মাকাদোর সাথে আরও থাকবেন ব্রাজিলিয়ান সেলিব্রেটি শেফ মারা সালেস, যিনি ন্যাটিভ ব্রাজিলিয়ান কুইজিনের একজন পাইয়নিয়ার। তিনি তুলে ধরবেন অ্যামাজনের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের স্থানীয় রান্না ও খাবার সংরক্ষনের পদ্ধতি। কিন্তু, দুজনেরই মুল লক্ষ্য রেইনফরেস্টের প্রয়োজনীয়তা, সংরক্ষণ, সর্বো্বোপরি এর অধিবাসিদের সহায়তা করা।

শেফ মারা সালেস

শেফ মারা সালেস

এই বিষয়ে মারা সালেস বলেন, “অ্যামাজন অঞ্চলে হাজার প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের বাস। এত জীববৈচিত্রের পরও অ্যামাজন প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এর মাটি পুষ্টিগুণ হারাচ্ছে, এর অধিবাসীরা ক্রমশ দরিদ্র হচ্ছে। বৃক্ষনিধনের প্রথম শিকারও তারা”। তাই তিনি মনে করেন, আমাজনে উৎপাদিত খাদ্য ও বিভিন্ন উপকরণ শহুরে বাজারগুলোতে আরও জনপ্রিয় করে তোলা উচিত। অ্যামাজনকে বাঁচানোর এটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জাবুটিকাবা, অ্যামাজনের একটি জনপ্রিয় ফল

জাবুটিকাবা, অ্যামাজনের একটি জনপ্রিয় ফল

‘রেইনফরেস্ট টু টেবল’কে রিও অলিম্পিক চলাকালীন আরো ফলপ্রসূ করার জন্য মাকাদো নিজের শহর ‘মাতো গ্রসো দ্য সুল’এ একটি ইন্সটিটিউট খুলেন যার দ্বারা বিদেশীদের ল্যাটিন ফুড সাফারিতে আকৃষ্ট করা যায়। মোকাদোর ভাষ্যে, “অলিম্পিক নিঃসন্দেহে ব্রাজিলকে অন্য দেশের সামনে তুলে ধরার একটি পথ। এর মাধ্যমে বিদেশীরা আমাদের দেশ, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা নিয়ে অনেক কিছুই জানবে এবং অ্যামাজন আমাদের জীবনেরই একটা অংশ। তাই একে সংরক্ষণ আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই করতে হবে”।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top