নিসর্গ

ইউনেস্কোর ৫টি নতুন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। বেরিয়ে পড়ুন ঘুরতে।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ

সম্প্রতি ইউনেস্কো তাদের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট তালিকা হালনাগাদ করেছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব সংরক্ষিত বনাঞ্চল, আরকিওলজিক্যাল সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো এই প্রোগামের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য জোর প্রচারণা চালায়। ফলশ্রুতিতে, অনেক আলোচনার পরে ইউনেস্কো ঠিক করে হাজারো জীববৈচিত্রময় ও ঐতিহাসিক স্থান যেগুলো “মানবতার অনন্য অবদানের” জন্য স্বীকৃত তাদের মধ্যে থেকে প্রতিবছর কিছু কে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের স্বীকৃতি দেয়া হবে।

আর এসবের মধ্যে যেখানে দক্ষিণপূর্ব ইরানের “বোলিং স্যান্ড ডিউন” বা সুদান উপকূলের “আইসোলেটেড কোরাল রিফ” ভ্রমণপিপাসীদের জন্য অনেকটাই দুরূহ সেখানে ইউনেস্কোর নতুন তালিকার ২১টি নতুন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে যাওয়ার জন্য আপনি একটি ট্যুর প্ল্যান করতেই পারেন।তাই ট্রাভেলারদের জন্য এরমধ্যে জনপ্রিয় ৫টি স্থানের কিছু তথ্যঃ

আরকিওলজিক্যাল সাইট অফ ফিলিপিঃ

কোথায়ঃ গ্রিসের উত্তরাঞ্চল।

একসময় রোমের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলে পরিচিত ফিলিপি শহরটি খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে স্থাপিত হয়। এখানে এখনো রয়েছ সেইসময়ের কিছু থিয়েটার, মন্দির ও একটি এক্রোপলিস। এই সুরক্ষিত শহরটি এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগকারী একটি প্রাচীন পথের উপর অবস্থিত ছিল। পরবর্তীতে এই শহর খ্রিস্টীনিয়াটি চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়।

ট্রাভেল টিপসঃ ঐতিহাসিক স্থানটি গ্রিসের বন্দর শহর কাভালা থেকে ২০ মিনিটের ট্যাক্সি পথ।

আরকিওলজিক্যাল সাইট অফ ফিলিপিতে অবস্থিত থিয়েটার

আরকিওলজিক্যাল সাইট অফ ফিলিপিতে অবস্থিত থিয়েটার

দ্য আরকিটেকচারাল ওয়ার্ক অফ লে কুরবুসেইঃ

কোথায়ঃ আর্জেন্টিনা, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, ইন্ডিয়া, জাপান এবং সুইজারল্যান্ড।

ফরাসী-সুইস বংশোদ্ভুত স্থপতি লে কুরবুসেইর ১৭টি শিল্পকর্ম নতুন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী লে এর লোহা, কংক্রিট ও গ্লাস দিয়ে তৈরী এই স্থুলাকার স্থাপনা গুলো মানুষের মনে তেমন দাগ না কাটলেও পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে বিভিন্ন দেশের স্থাপত্যবিদ্যায় এগুলো নতুন ভাষা যোগ করেছে।

ট্রাভেল টিপসঃ ফ্রান্সের দশটি স্থাপনা দিয়ে শুরু করুন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল,

La Villa Savoye in the Parisian suburb of Poissy, La Chapelle Notre Dame du Haut in Ronchamp, এবং La Cité Radieuse in Marseille.

লে কুরবুসেইর নটর ডেম হাট, ফ্রান্স

লে কুরবুসেইর নটর ডেম হাট, ফ্রান্স

মিস্টেকেন পয়েন্টঃ

কোথায়ঃ পূর্ব কানাডার ‘নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপ’।

এই অদ্ভুত নামকরণের কারণ স্থানটিরৃ নেভিগেশনাল জটিলতা। আভালন পেনিন্সুলার কুয়াশাচ্ছন্ন দক্ষিণপূর্ব অংশ এই জটিলতা তৈরি করে। মিস্টেকেন পয়েন্টেই পৃথিবীর প্রথম ‘জটিল প্রাণের’ চিহ্ন পাওয়া যায়।ভ্রমণপিপাসীদের জন্য এখানকার সমুদ্রতলে ৫৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বের ফসিলের সমারোহ অনেকটা তীর্থস্থান স্বরূপ।

ট্রাভেল টিপসঃ ভ্রমণকারিকে অবশ্যই  Edge of Avalon Interpretive Centre  থেকে একজন অফিসিয়াল গাইড নিতে হবে, বাকি ব্যবস্থা গাইডই করবে।

মিস্টেকেন পয়েন্ট, নিউফাউন্ডল্যান্ড।

মিস্টেকেন পয়েন্ট, নিউফাউন্ডল্যান্ড।

হুবেই শেনোগজিয়াঃ

কোথায়ঃ চীনের হুবেই প্রদেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চল।

হুবেই শেনোগজিয়া পৃথিবীর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত একমাত্র সাব-ট্রপিক্যাল সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে ৫০০০ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও বন্যপ্রানী যেমন, চাইনিজ স্যালামেন্ডার, স্নাব নোজড মাঙ্কি, ক্লাউডেড ল্যাপারড, এশিয়ান কালো ভাল্লুক ইত্যাদির বাস।

ট্রাভেল টিপঃ নতুন শেনোগজিয়া হংপিং এয়ারপোর্ট ২০১৪ সালের মে থেকে চালু হয়েছে। হুয়ান বা সাংহাই থেকে সহজেই এখানকার ফ্লাইট পাওয়া যায়।

ফরেস্ট ডিস্ট্রিক্ট, হুবেই প্রদেশ, চীন।

ফরেস্ট ডিস্ট্রিক্ট, হুবেই প্রদেশ, চীন।

এন্টিগুয়া নেভাল ডকইয়ার্ডঃ

কোথায়ঃ এন্টিগুয়া দ্বীপের উত্তরাঞ্চল।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে যখন ইউরোপের পরাশক্তিরা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দখল নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে তখন আখচাষীদের জন্যই এন্টীগুয়ার সংকীর্ণ সমুদ্রপথে এই জর্জিয়ান-স্টাইল ম্যারিনা স্থাপিত হয়। এই স্থানটি ১৮৮৯ পর্যন্ত ব্রিটিশ রয়েল নেভির বেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

ট্রাভেল টিপঃ এখানে গেলে ডকইয়ার্ড মিউজিয়াম দেখতে ভুলবেন না। এখানে দেখতে পাবেন দ্বীপটির ইতিহাস এবং ১৮০০ শতকের দুর্গের জীবন।

নেলসন ডকইয়ার্ড, এন্টিগুয়া।

নেলসন ডকইয়ার্ড, এন্টিগুয়া।

 

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top