টেক

‘পোকেমন গো’ ছাড়িয়ে গেলো ফেসবুক, টুইটার এবং প্রিজমার জনপ্রিয়তাকে!

কিছুদিন ধরে অনেকেই হয়তো বিভিন্ন খবরে শুনছেন যে মানুষ তাদের অফিস ডেস্কে,হসপিটালে,এমনকি টয়লেটেও পোকেমন খুঁজে বেড়াচ্ছে। এক কিশোরী তো এই পোকেমন খুঁজতে গিয়ে গোটা এক মৃতদেহ খুঁজে বের করে ফেললো। আবার আমেরিকার মিসৌরি স্টেট এর পুলিশ দাবি করেছেন, পোকেমন গো নামের নতুন এই গেমের পোকেমন খুঁজতে গিয়ে মানুষ ডাকাতের কবলেও পরছে।

কি এই পোকেমন গো এবং কি চলছে এই পোকেমন গো-কে নিয়ে?

নব্বই এর দশকে নিন্টেন্ডো (Nintentdo) এর মালিকাধীন পোকেমন প্রথমবারের মত দুনিয়া কাঁপায়। এরপর সেই পোকেমন এখন সম্পূর্ণ নতুনরূপে আধুনিক মোবাইল ফোনের দুনিয়া কাঁপাচ্ছে। তবে এখনের মালিক আগের চেয়ে একটু ভিন্ন। এই পোকেমন গো গেমটি রিলিজ করেছে আমেরিকান কোম্পানি নিয়ান্টিক ইনকরপোরেশন  (Niantic, Inc)। এ গেমটি এখন এতই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, এর দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সহজ কথায় বলতে গেলে পোকেমন গো এমন একটি গেম, যেটি আপনার মোবাইল ফোনের জিপিএস এবং সময়কে ব্যবহার করে নির্ধারণ করে আপনি গেমের কোন জায়গায় ও কোন সময়ে আছেন এবং এর উপর ভিত্তি করে আপনার আশেপাশে পোকেমন হাজির করায় (অবশ্যই মোবাইল স্ক্রিনের ভিতর) যেন আপনি গিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। এসব পোকেমন ধরার মাধ্যমে আপনাকে আপনার চারপাশের পরিবেশের সাথে আরও সক্রিয় করাই এই গেমের লক্ষ্য। অগমেন্টেড রিয়েলিটি নামক এক বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে এটি ভার্চুয়াল গেম এবং সত্যিকারের পৃথিবীর মাঝে এই সংযোগ স্থাপন করে।

পোকেমন গো

পোকেমন গো গেমপ্লে

১৯৯০ এর দি পোকেমন গেমের উপর ভিত্তি করা এই গেমটিতেও দি পোকেমন গেমের ১৫১ টি ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী অর্থাৎ পোকেমন রয়েছে। এখানেও আপনাকে এসব পোকেমন সংগ্রহ করতে হবে। সাথে গেমের জিম লিডার, ট্রেইনার সহ আরও অনেকের সঙ্গে লড়াই করার সুযোগও পাবেন। এ তো গেল পুরনো গেমটির সাথে এর মিলের কথা। এখন দেখা যাক, এই গেমটিতে নতুন কি কি আছে? প্রথমেই, এই গেমে আপনাকে এই পৃথিবীতেই বিচরণ করতে হবে, যা সম্পূর্ণ নতুন একটি ফিচার। এতদিন হয়তো আপনি ডেভেলপারদের বানানো গেমের মধ্যেকার জগতেই চলাফেরা করেছেন। কিন্তু পোকেমন গো গেমটি সে গতানুগতিক ধারণা থেকে বের হয়ে গেমপ্লে’র এক নতুন জগতে নিয়ে যাচ্ছে গেমারদের। এটি বাস্তব বিশ্বের পরিবেশ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আপনার কাছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করবে। যেমন, আপনি যদি কোন পার্কে গিয়ে থাকেন, সেখানে হয়তো দেখতে পাবেন ঘাস অথবা পোকামাকড়ের পোকেমন। আবার লেক, সাগরের পাড়ে গেলে আপনি পাবেন বিভিন্ন জলজ পোকেমন। তেমনি রাতের বেলা পাবেন কোন এক নিশাচর পরী অথবা ভৌতিক পোকেমন।

লেক, সাগরের পাড়ে গেলে আপনি পাবেন বিভিন্ন জলজ পোকেমন। তেমনি রাতের বেলা পাবেন কোন এক নিশাচর পরী অথবা ভৌতিক পোকেমন।

অগমেন্টেড রিয়েলিটির মাধ্যমে মোবাইল গেমিংকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই গেমটি সমানে রাজত্ব করছে অনলাইনের সবগুলো প্লাটফরমে। প্রতিদিন এই গেমটি খেলা মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড, যা এতদিন দখলে ছিলো ২০১৩ সালে রিলিজ হওয়া ক্যান্ডি ক্রাশ সাগা‘র দখলে।

পোকেমন গো

প্রতিদিন কোন গেমটি কতজন খেলছেন

শুধু তাই নয়, গেমিং জগৎ ছাড়িয়ে পোকেমন গো-এর রাজত্ব এখন নাড়িয়ে দিচ্ছে অন্যান্য সব প্লাটফরমকেও। সারাবিশ্বের মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আর টুইটারে সারাদিন বুঁদ থাকে বলে অফিস-আদালতগুলো এতদিন বিরক্ত ছিলো। কিন্তু এখন তাদের মূল মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে পোকেমন গো। বিখ্যাত অনলাইন ডাটা এনালাইসিস ফার্ম সার্ভেমাংকি ইন্টেলিজেন্সের হিসাবে দেখা যায়, প্রতিদিন মানুষ গড়ে যত সময় ফেসবুক কিংবা টুইটারের পিছনে নষ্ট করছেন, তার চেয়েও বেশি সময় তারা কাটাচ্ছেন পোকেমন গো খেলে।

বিখ্যাত অ্যাপগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ সময় ব্যয় করছেন আইফোন ব্যবহারকারীরা

বিখ্যাত অ্যাপগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ সময় ব্যয় করছেন আইফোন ব্যবহারকারীরা

এটি খেলার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। আপনাকে সবার আগে আশেপাশের পোকেমনটি খুঁজে বের করে এর দিকে পোকেবল ছুঁড়ে মারতে হবে। এই পোকেবল-ই পারে একমাত্র পোকেমনকে বন্দী করতে।  যত বেশি আপনি পোকেমন সংগ্রহ করবেন, আপনার পোকেমনটি ততই শক্তিশালী হবে।  আর পোকেমন যত শক্তিশালী হবে, দুর্লভ পোকেমন খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। এছাড়াও গেমটিতে আছে পোকেস্টপ। এই পোকেস্টপ গেমের ভেতরে কিন্তু বাস্তব পৃথিবীর কোন এক জায়গায় অবস্থিত। এসব পোকেস্টপে গিয়ে আপনি পোকেবল এবং এগস সংগ্রহ করতে পারেন।

 

সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্নধর্মী এ গেম বের হওয়া মাত্রই এমন জনপ্রিয়তা পায় যে এদের সার্ভার এতো চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায়। এটি আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড মাত্র এই ৩ দেশে মুক্তির সাত দিনের মাথায় অ্যাঙ্গরি বার্ডস, ক্যান্ডি ক্রাশ সহ সব গেমের রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলে। এ সময়ের প্রিজমা সহ অন্যসব জনপ্রিয় অ্যাপকে ছাড়িয়ে এ গেমই এখন অ্যান্ড্রইড প্লে স্টোর,  আইওএস অ্যাপ স্টোরের টপ চার্টে অবস্থান করছে। তবে গেমটি এখনো সব দেশে রিলিজ হয়নি। এইজন্যে বাংলাদেশে এখনো আপনি জনপ্রিয় এই গেমটি খেলার সুযোগ পাবেন না। তবে আশা করা যায়, শীঘ্রই হয়তো বাংলাদেশের রাস্তায়ও এসব রঙ বেরঙের পোকেমন খুঁজে পাওয়া যাবে। তখন হয়তোবা অনেক গেমারই তাদের রুম ছেড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসবেন এ পোকেমন সংগ্রহ করতে।

পরিসংখ্যান সূত্রঃ টেকক্রাঞ্চ

Most Popular

To Top