বিশেষ

আর্টসেল, আর্টসেলড একটি প্রজন্ম, ও সত্ত্বায় আর্টসেলিজম

২০০৬ সালের মে মাসের কোন এক বিকেলে, দুইটি ছেলে- যাদের বয়স ১৫ এর বেশি হবে না, হেঁটে যাচ্ছিলো তাদের শহরের একমাত্র অডিও স্টোরের দিকে। দুইজনই রাতে ঘুমাতে পারে নাই এবং সারাদিন স্কুলের কোন পড়াই তাদের মাথায় ঢোকে নাই কারন তারা এটাও জানে না যে তারা যে সিডিটা কিনতে আজ দোকানে যাচ্ছে, সেটা পাওয়া যাবে কিনা। বাংলাদেশের সকল মফস্বল শহরের মতই তাদের শহরেও হিন্দি গান আর বাংলা আধুনিক গান ছাড়া কিছুই চলে না, তাই ভয়ে ভয়ে তারা দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালো। দোকানে বসে থাকা মধ্যবয়স্ক মানুষকে জিজ্ঞেস করলো, “ভাই আর্টসেল এর অনিকেত প্রান্তর অ্যালবামটা আসছে?”

দোকানদার যে অবশ্যই আর্টসেল এর নাম জীবনে মনে হয় প্রথমবার শুনল, সে পিছনে ফিরে তার সহকারীকে বলল, “দেখতো ঢাকা থেকে যে নতুন লট আসছে সেখনে এই নামে কিছু আছে কিনা?”

সহকারী একবাক্স সিডি নিয়ে এসে বলল, ‘ভাই দেইখা নেন, এইগুলা নতুন আসছে’। দুই বন্ধু সিডি উল্টাতে লাগলো, আর তিন নাম্বারেই তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত অ্যালবামটা খুঁজে পেলো। অদ্ভুত সুন্দর একটা অ্যালবাম কভার, যার উপরে লেখা ‘আর্টসেল–অনিকেত প্রান্তর’ এবং হৃষ্ট চিত্তে তারা বাসার দিকে হাঁটা দিল। এই ঘটনার সাথে ‘৮০ এর দশকের শেষার্ধে বা ‘৯০ এর দশকে জন্ম নেওয়া অনেক মানুষই পরিচিত থাকতে পারেন ।

আর্টসেল

“অনিকেত প্রান্তর” অ্যালবামের কভার

২০০২ সালে আর্টসেল যখন ‘অন্যসময়’ অ্যালবামের মাধ্যমে বাংলাদেশের মিউজিক সিনারিওতে প্রবেশ করে, তখন তারা তাদের অস্তিত্ব খুব ভালো ভাবেই জানান দিতে পেরেছিলো অসাধারন কিছু কম্পোজিশনের মাধ্যমে ।

আর্টসেল

“অন্যসময়” অ্যালবাম কভার

কিন্তু আর্টসেলকে জনপ্রিয়তার চরম শিখরে নিয়ে গেছে তাদের দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রমের ফসল ‘অনিকেত প্রান্তর’ অ্যালবামটি যা কিনা জি-সিরিজের ব্যানার থেকে বের হয়েছিল এবং আর্টসেলের প্রথম দিককার ভক্তরা এক কথায় হতবাক হয়ে গিয়েছিলো এই অ্যালবামে আর্টসেলের মিউজিকাল ম্যাচিউরিটি দেখে। এখানে ‘অনিকেত প্রান্তর’, আর্টসেল এবং বাংলাদেশের সে সময়কার মিউজিক সিনারিও নিয়ে আলোচনা করব।

যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন ব্যান্ডের অ্যালবাম বের করা অনেক সাহসের ব্যাপার ছিল। যখন বাংলাদেশের বড় বড় রকস্টাররা ব্যান্ডের অ্যালবাম বের করার চেয়ে নিজেদের সলো অ্যালবাম বের করাতে মনযোগী হয়েছিল, ঠিক তখন কিছু স্রোতের বিপরীতের মানুষ এই দেশের ব্যান্ড মিউজিক সিনারিও ও আন্ডাররগ্রাউন্ড সিনারিওকে ঠিক রাখার জন্যে অমানুষিক পরিশ্রম এবং সাহস নিয়ে কাজ করেছিলেন আর তাদের হাত ধরেই আজ আমাদের দেশে এত এত ভালো ব্যান্ড গোড়ে ওঠার প্ল্যাটফরমটা পেয়েছে। সময়মত সবার কথাই বলা হবে, তবে এই লেখায় শুধু আর্টসেলের কথাই বলব।

আর্টসেল

আর্টসেল- ব্যাক ইন ২০০১

 

আর্টসেল

সমসাময়িক ব্যান্ড মিউজিকে ইন্ডাস্ট্রির সহযোদ্ধাদের সাথে আর্টসেল সদস্যরা। সম্ভবত ২০০০ সালে তোলা ছবি

মিউজিকাল ফিলসফি বলে যে একটা জিনিস আছে তা বাংলাদেশের সকল কিশোর এবং তরুণদের প্রথমবারের মত বুঝিয়েছিল আর্টসেল, যদিও আর্টসেলের সাথে ক্রিপটিক ফেইট এবং ব্ল্যাকের কথাও বলতে হয় যারা এবিসি জেনারেশনের কর্ণধার। কিন্তু আর্টসেলের তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে নিসন্দেহেই তাদের দেওয়া মেসেজ গুলো সবার কাছে আরও দ্রুত যাচ্ছিল ।

a-b-c 22

এবিসি জেনারেশন- আর্টসেল, ব্ল্যাক ও ক্রিপটিক ফেইটের আগ্রাসী সম্মিলন

 

আর্টসেলের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার পিছনে ৯০-এর দশকে জন্ম নেয়া প্রত্যেকটা গান প্রেমী মানুষেরই কিছু না কিছু অবদান আছে। তারা জর্জ লিঙ্কন ডি কস্টা’র মাজেস্টিক কণ্ঠের সাথে হেসেছে, গিটার মায়েস্ত্রো এরশাদ জামানের সাথে কেঁদেছে, ড্রামসের ওপাশের পাওয়ারহাউজ কাজী সাজ্জাদুল আশেকিন সাজুর সাথে আগ্রাসন প্রকাশ করেছে আর সাইফ আল নাযি সেজানের সাথে ঘাঁড় ঝাঁকিয়েছে ।

আর্টসেল

আর্টসেল

এই চারজন মানুষই প্রগ্রেসিভ মেটালকে বংলাদেশে নিয়ে এসেছে অনিকেত প্রান্তর অ্যালবামের মাধ্যমে, যদিও তাদের পথচলাটা শুরু হয়েছিল হেভিমেটাল দিয়ে। কিন্তু আর্টসেল নিজেদেরকে সবচাইতে শক্তিশালী ভাবে তুলে ধরেছিল প্রগ্রেসিভ মেটাল দিয়ে। কিন্তু এই ধরনের জনপ্রিয়তার পেছনে ব্যান্ডের আনরিলিজড মেইনস্ট্রিম গানগুলোর কথাও বলতে হবে। এক্ষেত্রে জরুরী বিষয় হল- আর্টসেল কখনোই সস্তা জনপ্রিয়তার দিকে মনোনিবেশ করেনি। যদি করতো, তাহলে আমরা কখনোই অনিকেত প্রান্তরের মত অ্যালবাম পেতাম না ।

আর্টসেল

এরশাদ, সাজু, লিংকন, সেজান

অনিকেত প্রান্তর অ্যালবাম বাংলাদেশের মিউজিক সিনের জন্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন ছিল এই জন্যই, যে এরপরই আমরা দেখতে পেয়েছি অজস্র ছেলে-মেয়ে গিটারব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরছে, অনেকেই ড্রামস শেখার চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই যেমন আর্টসেলের কিছু গান তোলার মধ্যে নিজেদের শেখা সীমাবদ্ধ রেখেছে, আবার কেউ ইদানিং কালের অনেক ভালো ভালো ব্যান্ডে বাজাচ্ছে। এই অ্যালবামটি হাজারো মানুষের জীবনের মোড়-ঘুরানো একটি মিউজিকাল এক্সপেরিয়েন্স ছিল। তার কারন বলতে গেলে বলতে হয় অ্যালবামটির গান গুলোর কথা। শুরুতেই ‘লীন’ গানে অসাধারন প্লাক ইন ইন্ট্রো, তারপর রাজকীয় ড্রামস ইন্ট্রো খুব দ্রুতই সুদিং একটা ইম্প্রেশন ক্রিয়েট করে। যা পরে আরও গভীর হয় হাই পিচ ভোকাল হারমনাইজেশন, নোবেল ড্রামিং, সাম্পচুয়াস বেজ গ্রুভ এর মাধ্যমে। এবং এ কারণেই লীন জড়তায়, ঝড় কেন বাঁধা পরে এই প্রশ্ন তাই এই দেশের হাজার হাজার মেটালহেডদের সাথে সাথে অজস্র সংগীতপ্রেমীদের গভীর ভাবে ভাবিয়েছে।

আর্টসেল

আর্টসেলই প্রথম ব্যান্ড যারা লিরিক নিয়ে আমাদের আলাদা করে ভাবতে শিখিয়েছে। প্রথম দিকে যদিও আমরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়ে তাদের লিরিকের ধরনকে স্বাগত জানিয়েছি এবং একই সাথে এর দুর্বোধ্যতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছি, তবে একসময় সবাই একসাথে তা আবার অ্যাপ্রেসিয়েট করেছি। আর্টসেলের লিরিকের যে প্রধান কারিগর ছিল, সেই রুপক ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘অন্যসময়’ নিয়ে কাজ করার সময় ‘সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া’তে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তারপর আর্টসেলের বেশিরভাগ লিরিক লিখেছেন রুম্মান এবং ইশতিয়াক। এই তিন জন লিরিক লেখকই আমাদের ভাবতে শিখিয়েছেন নতুন ভাবে। আমি বলব না কঠিন ভাবে, বলব আরও বাস্তব ভাবে। তারা যেমন অবশ অনুভূতির দেয়াল দেখিয়েছেন, আবার জীবনের সব ভুলগুলি জন্মাতে চিনিয়েছেন। কখনো কখনো ফেলে আসা স্মৃতি র কথা মনে করিয়েছেন, অদেখা স্বর্গের সাথেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

আর্টসেল

অবশ অনুভূতির দেয়াল

কিন্তু অনিকেত প্রান্তর অ্যালবামটা আসলে আর্টসেলের লিরিকের ম্যাচিউরিটি এবং কন্সেপচুয়ালিটি’রও উদাহারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

চেনা চেনা সুরে, ছায়া রঙ হারিয়ে যায়
নিভিয়ে দেয় সময় কত স্মৃতি
তবু আমি তোমাকে ফিরে পেতে চাই
পুরনো সেই গানের সুরে, ফেলে আসা রুপকে।

‘স্মৃতি স্মারক’ গানটিতে এমন কিছু ছিল, যা শুনে মনে হয়েছে ‘অন্যসময়’ অ্যালবামে যেখান থেকে শেষ করেছিল, এই অ্যালবামে সেখান থেকেই শুরু করেছিল আর্টসেল এবং তাদের ভক্তরাও আর্টসেলকে পুশ করছিল এমন কিছু করার জন্যই।

আর্টসেল

অ্যালবামের ভিতরের লিরিক পেইজ

‘ধূসর সময়’ এর অন্ত্যমিলের সত্যতায় লিঙ্কনের দীর্ঘশ্বাসের সাথে তাই আমরা সবাই দুখী হয়েছি, ‘শহীদ সরণির’ পিচ ঢালা পথে একবার নিজেকে নিয়ে গিয়ে বলেছি ভোর হোক আবার আমার মাতৃভূমিতে ।

যুদ্ধের দেবতারা যে আড়ালে থেকে আবার ধ্বংসের সুর তোলে তা ‘পাথর বাগান’ থেকে টের পেয়েছি, সত্ত্বার অন্তরালে সঙ্গোপনে কাউকে চাইলে যে নিজের আঁধারেই তাকে খুজে পাওয়া যায় তা জানতে পেরেছি ‘তোমাকে’ গানে, ‘ছায়ার নিনাদ’ বুঝিয়েছে কিছু না বলা কথা, এগারো সাতাশ সপ্ন নিয়ে ‘ঘুনে খাওয়া রোদ’ দেখতে সেই আর্টসেলই শিখিয়েছে, আবার আধারকে ঈশ্বর ভেবে ‘গন্তব্যহীন’ হবার কথাও তারাই বলেছে। একই অ্যালবামে মানবসত্ত্বার গভীরতর বৈচিত্র্যের এত অপূর্ব সম্মিলন বাংলা সঙ্গীতাঙ্গনে আর্টসেলের আগে আর কেউ ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে বা চেষ্টা করেছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

সবশেষে মহাকাব্যিকভাবে দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে অনুভূতির ব্যাবচ্ছেদ করে আমাদের সবাইকে নিজের অজান্তে আজীবনের জন্য আর্টসেলড হতে বাধ্য করেছে তারাই।

আর্টসেল

বাংলা প্রগ্রেসিভ মেটালের অবিসংবাদিত পথিকৃৎ চার স্বপ্নদ্রষ্টা শিল্পী

বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের ইতিহাসের এই অন্যতম সেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যালবামের জন্য আরেকজন মানুষ ব্যান্ডের সাথে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। তিনি হলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস এর লিড গিটারিস্ট এবং ‘রক সিরিজ’ ব্যান্ড কম্পিলেশনের কর্ণধার আর অনিকেত প্রান্তর অ্যালবামের প্রডিউসার ইকবাল আসিফ জুয়েল। তিনি আর্টসেলকে আজকের তুমুল জনপ্রিয় আর্টসেল হতে সাহায্য করেছেন। আর্টসেলের বিখ্যাত লাইভ শো ‘টেন ইয়ারস অফ আর্টসেল ইনসেনিটি’ এবং দেশে, বিদেশের অনেক উল্লেখযোগ্য কনসার্টগুলো নিয়ে আমরা পরে কখনও কথা বলব ।

আর্টসেল

সফল লাইভ শো শেষে আর্টসেলড ক্রাউডের সাথে মায়েস্ত্রো কোয়ার্টেট

এখন আমার মনে হয় আবার সেই ৯০ দশকের মানুষদের কাছে ফিরে যাওয়া উচিৎ। আর্টসেল যেমন ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দু’টি অ্যালবাম, বেশ কিছু কম্পাইলেশন এবং হাজারটা লাইভ শো করে নিজেদের অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারি করেছে, সেই ৯০ দশকের মানুষরাও এখন অনেক বড় হয়েছে। তবুও আমি শত ভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি এখনো তারা সময় পেলেই ‘অনিকেত প্রান্তর’ অ্যালবাম শুনে, মানবিক বোধগুলো যে তাদের আর্টসেল এর গান গুলোকে কেন্দ্র করেই জন্মানো! আর্টসেল এর গানগুলোর মতই তারা কখনো দুর্বোধ্য, আবার কখনোবা সহজ।

আর্টসেল

এরশাদ- লিড গিটারিস্ট, আর্টসেল

সময়ের সাথে আমাদের প্রিয় আর্টসেলেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। কিন্তু সবচাইতে কষ্টের বিষয় ছিল যখন ব্যান্ডটি প্রায় ভেঙে যাওয়ার দশা হয়েছিল। আর্টসেলের মেম্বার রা কি জানেন এই দেশের গানপ্রেমীদের জন্য ব্যান্ডের ইতিহাসের সবচাইতে  কালো অধ্যায় ছিল এইটি? এত এত ভালবাসা পাবার পরও কেন তারা ভক্তদের কথা চিন্তা করছেন না- লাখ লাখ ভক্তের মনে ছিল এই একই প্রশ্ন। কিন্তু অবশ্যই রকস্টারদেরও জীবন থাকে, তারাও মানুষ।

সেই মানবিক বোধ আর ভক্তদের কথা মাথায় রেখেই হয়তো সেজান ও সাজু বিদেশে থাকার পরও তারা আবার এক হয়েছেন এবং আমরা হাফ ছেড়ে বেঁচেছি ।

এইটুক আশাতো আমরা করতেই পারতাম এই ভাল মানুষগুলোর কাছ থেকে, যারা কিনা একেবারে পাশে রেখে অনেক নতুন ব্যান্ডকে উজ্জীবিত করেছে ।

একটা ঘটনা এখানে বলতেই হয়। বাংলাদেশের প্রথম সারির হেভিমেটাল ব্যান্ড ‘পাওয়ার সার্জ’ একটা ফোনোলাইভ টিভি শো’তে যখন অসাধারন পারফরমান্স করছিল, তখন  লিঙ্কন ফোন দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমরা তো ফাটাইয়া দিতেছো ভাই’!

আর্টসেল

একি স্টেজে লিংকন ও জামশেদ

এই ধরনের আপ্রেসিয়েশন এত বড় রকস্টারের কাছে অন-এয়ার থেকে পেলে স্বভাবতই একটা ব্যান্ড আরও ভালো করতে চাইবে। এমনই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে এরশাদ, সেজান, সাজু- মূলত আর্টসেল সবাইকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।

সবচাইতে আনন্দদায়ক ঘটনা হলো, প্রায় দশ বছর পর আর্টসেল আবার আমাদের সামনে অ্যালবাম নিয়ে আসছে এই ২০১৬-তেই। হয়তো আমরা নতুন আর্টসেল কে পাব এইখানে, সত্যি কথা বলতে কি এই পরিবর্তন অনেকের ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু আমি বলতে চাই- হতে পারে তাদের মিউজিকাল ফিলসফি পরিবর্তন হয়েছে অথবা এটাও হতে পারে তারা আগের হেভিমেটালে ফিরে যেতে চাচ্ছে। যার কিছুটা ইঙ্গিত আমরা পেয়েছি নতুন রিলিজড ট্র্যাক ‘স্পর্শের অনুভূতি’ ও ”অবিমৃষ্যতা” থেকে। আমরা যেমন ২০০২ এর পর ২০০৬ এ আর্টসেল এর উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম, ঠিক এখনও তেমনটাই রাখা উচিৎ।

নতুন অ্যালবামটি নতুন জেনারেশনের কাছে আর্টসেলের একটা সুন্দর পরিচিতি পর্ব হয়ে থাক, তাদের শিল্প কোষ গুলোও আর্টসেলের মাধ্যমেই পূর্ণতা পাক এবং আশা করছি তারাও আর্টসেলড হোক ।

music-piracy-7-638

আর্টসেল কে নিয়ে লেখা হয়ত কখনো শেষ হবেনা, তবে আজকে আপাতত এখানেই শেষ করব কিছু দরকারী কথা দিয়ে যা নতুন এবং পুরানো সকল জেনারেশনেরই মাথায় রাখা উচিৎ। যদি আমারা এই ব্যান্ডগুলোকে ভালোভাবে বাচিয়ে রাখতে চাই, তাহলে ফ্রি ডাউনলোডের মত সস্তা মানসিকতা বাদ দিতে হবে। মিউজিশিয়ানরা এত কষ্ট করে আমাদের জন্য অ্যালবাম বানাচ্ছেন, লাখ লাখ কোটি কোটি মানুষ তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে আর তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকুও কি আমরা তাদের দিতে পারছি? আর এসব ব্যান্ডের মানুষরা যদিও এইসব নিয়ে ভাবা ছেড়ে দিয়েছে, তবুও শিক্ষিত হয়েও আমাদের মত শ্রোতা আর ভক্তরা যদি পাইরেসি করে অশিক্ষিতদের মত আচরণ করি, তাহলে ব্যান্ডগুলো আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও আমাদের কিছু বলার থাকবে না। তাই সামান্য টাকা দিয়ে অ্যালবামগুলো কিনুন অথবা অনলাইন থেকে গানটা কিনে শোনার চেষ্টা করা উচিৎ আমাদের সবার।

আর আর্টসেল কে একটা কথা বলতে চাই- জনপ্রিয়তার পিছনের এই পাগল ভক্তদের কথা চিন্তা করে হলেও মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আপনাদের এই ব্যান্ড টা টিকিয়ে রাখা উচিৎ ।

পরের কিস্তিতে হয়ত আমরা অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করব আর লেখকের পারস্পেক্টিভ এর সাথে অনেকে দ্বিমতও পোষণ করতে পারেন তবে মেটালহেড ব্রাদারহুড এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এর পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলা কাম্ম্য । (চলবে)

1 Comment

1 Comment

  1. Pingback: ক্রিপটিক ফেইটঃ দানব, নাকি শ্রেষ্ঠ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top