ক্ষমতা

ট্রাম্পের ব্যার্থতা

ডোনাল্ড ট্রাম্প “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করার” ব্রত নিয়ে যখন তিনি ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেন তখন তিনি সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের পরিচয় দেন এবং একইসাথে তিনি তার (বিতর্কিত) ১০ বিলিয়ন ডলার সম্পদ উল্লেখ করেন।
সফল ব্যবসায়ী প্রার্থী হিসেবে আমেরিকার অর্থনৈতিক কাঠামো ঠিক করার ঘোষণা দিলে ও তিনি কখনই তার ব্যার্থ বিনিয়োগগুলো আলোচনায় তুলেন নি।

ট্রাম্পের ব্যার্থতার একটি আপাত বিবরন তুলে ধরা হলো এই ফিচারে।

 

ট্রাম্প এয়ারলাইন্স –
n1trumpplane-1১৯৮৮ সালে ট্রাম্প ইস্টার্ন এয়ার শাটল নামক একটি বিমান সেবা ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ক্রয় করেন। যা পূর্বে ২৭ বছর  বোস্টন, নিউ ইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে প্রতিনিয়ত যাতায়াত সেবা প্রদান করত। তিনি একটি বিলাসী অভিজ্ঞতা তৈরির জন্য এয়ারলাইনটির মেঝেতে ম্যাপেল কাঠ এবং সোনালী রং এর ফিটিংস ব্যবহার করেন। ট্রাম্পের ব্যার্থতার অন্যতম বড় উদাহরণ এই কোম্পানি কখনোই লাভের মুখ দেখেনি বরং ট্রাম্পকে ঋণ নিতে বাধ্য করে। অবশেষে কোন উপায়ন্তর না থাকায় ট্রাম্প এয়ারলাইনটিকে ঋণদাতাদের হাতে তুলে দেন যার পরিক্রমায় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

 

ট্রাম্প ভদকা – 
BN-MX209_Trumpv_P_20160303145731ট্রাম্প ২০০৬ সালে তার নিজস্ব ভদকা সাপ্লাই লাইন চালু করেন। মার্কিন মুলুকে এই পানীয় বিক্রয়ের জন্য প্রচুর অর্থ বিজ্ঞাপন খাতে ট্রাম্প ব্যয় করেন। প্রতিষ্ঠানটি শুরুর সময় ট্রাম্প দাবি করেন সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন একটি ব্র্যান্ড, ঠিক তেমনি ট্রাম্প ভদকাও একটি ব্র্যান্ডে পরিনত হবে। ট্রাম্প তার ভদকা ব্র্যান্ডের জন্য এত উচ্চ আশা করেছিলেন যে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন টিএন্ডটি (ট্রাম্প এবং টনিক) নামক পানীয় তৈরির প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকার সবচেয়ে বড় পানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হবে। যদিও ক্রেতাদের আগ্রহের অভাবে ২০১১ সালে টিএন্ডটি বন্ধ হয়ে ট্রাম্পের ব্যার্থতার তালিকায় আরেকটি নাম হিসাবে যুক্ত হয়।

 

ট্রাম্প ক্যাসিনোস –
ট্রাম্প এন্টারটেইনমেন্ট রিসোর্ট, যা 040810_trumplaza_hmed_9a.grid-6x2আটলান্টিক সিটিতে তিনটি ট্রাম্প মালিকানাধীন ক্যাসিনো নিয়ে গঠিত, ২০১৪ সালে চতুর্থ বারের মত নিজেদের দেওলিয়া ঘোষণা করে। ২০১৪ সালের পর থেকে ট্রাম্প সবসময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। তিনি দাবি করেন  “যদিও এই ক্যাসিনোতে ট্রাম্প নাম ব্যবহার করা হয় তারপরও প্রতিষ্ঠানটি চালানোয় আমার কোন ভূমিকা নেই”। যদিও ট্রাম্প এন্টারটেইনমেন্ট রিসোর্টের ২৮% স্টকের মালিক ট্রাম্প নিজে।

 

ট্রাম্প : দ্যা গেম –
ট্রাম্প ১৯৮৯ সালে একটি মনোপলির মত একটি খেলা চালু করেন যা এক বছর পরে আগ্রহীদের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তিনি এই গেমের আরেকটি আপডেটেড ভার্সন ২০০৫ সালে তার বিখ্যাত ” দি আপ্রেন্টিস ” অনুষ্ঠানের সাথে শুরু করেন এবং পূর্বের ন্যায় এটি ও বন্ধ হয়ে যায়।

 

ট্রাম্প ম্যাগাজিন –
২০০৭ সালে একটি  পত্রিকা চালু করেন। প্রকাশন ঘোষণার প্রেস রিলিজের সময় ট্রাম্প ঘোষণা করেন-

এই পত্রিকাটি হবে সমাজের উঁচু স্তরের মানুষের সংস্কৃতি ও আবেগের প্রতীক।

যদিও প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় বছরের মাথায় পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

 

ট্রাম্প প্রিমিয়াম স্টেক –trumpsteak1                     
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রিমিয়াম স্টেক যা ২০০৭ সালে  প্রকাশিত বেশিরভাগ পত্রিকায় নিজেদের  ব্র্যান্ডিং করে। ট্রাম্প নিজে এই স্টেক তৈরির প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ স্টেক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ট্রাম্প প্রিমিয়াম স্টেক বন্ধ হয়ে যায়। অনেকেই ২০১২ সালে লাস ভেগাসে ট্রাম্প স্টেক বন্ধ হওয়াকে এর অন্যতম কারন হিসেবে উল্লেখ করেন। লাস ভেগাসের ওই স্টেক হাউজের বিরুদ্ধে ৫১ টি স্বাস্থ্য মান লঙ্ঘনের
অভিযোগ প্রমানিত হয়।

 

গোট্রাম্প ডট কম 
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০০৬ সালে বিলাসভ্রমনের জন্য “গোট্রাম্প” নামক একটি ভ্রমন সার্চ ইঞ্জিন চালু করেন। কিন্তু মাত্র এক বছর পর এটি বন্ধ হয়ে যায়।, অথচ “ট্রাভেলোসিটি” -র মত নামকরা বুকিং এজেন্টকে ট্রাম্প এইক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন।

 

ট্রাম্প ইউনিভার্সিটি –FILE- In this May 23, 2005 file photo, real estate mogul and Reality TV star Donald Trump, left, listens as Michael Sexton introduces him at a news conference in New York where he announced the establishment of Trump University. New York Attorney General Eric Schneiderman is suing Trump for $40 million, saying that “Trump University” didn’t deliver on its advertised promise to make students rich, but instead steered them into expensive yet mostly useless seminars. (AP Photo/Bebeto Matthews, File)
২০০৫ সালে ট্রাম্প নিউ ইয়র্কে রিয়েল এস্টেটের জন্য বিশেষায়িত “ট্রাম্প ইউনিভার্সিটি” তৈরি করেন। অপরদিকে ২০১০ সালে চারজন ছাত্র ট্রাম্প ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং দাবি করেন এই ইউনিভার্সিটি তাদের কাছ থেকে মিথ্যা এবং প্রতারনার মাধ্যমে প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এই মামলার ফলশ্রুতিতে “ট্রাম্প ইউনিভার্সিটি” তাদের নাম পরিবর্তন করে “ট্রাম্প এন্ট্রেপ্রিনিউর ইনিশিয়েটিভ” করে। ২০১৩ সালে নিউ ইয়র্কের এটর্নি জেনারেল ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৪০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ মামলা করেন।

 

ট্রাম্প মর্টগেজ
2006 সালে ট্রাম্প রিয়েল এস্টেট শিল্পে আরও এক ধাপ এগিয়ে একটি বন্ধকী কোম্পানী চালু করেন। কোম্পানিটির জন্য ট্রাম্পের অনেক উচ্চাশা ছিল। এই সম্পর্কে সিএনবিসি কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন ” ফিনান্সিং সম্বন্ধে আমার চেয়ে ভালো আর কে জানতে পারে ” অথচ শুরু হওয়ার মাত্র দেড় বছরের মাথায় ট্রাম্পের এই বন্ধকী প্রতিষ্ঠানটির কারজক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কারন এটি চালানোর জন্য ট্রাম্প  ই.জে. রিডিংস কে নিয়োগ করেন যার মাত্র অল্প কিছুদিন ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।

 

এত এত ব্যার্থ উদ্যোগের জন্ম দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প কি পারবেন নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের, তথা সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে? একমাত্র সময়ই পারে এই প্রশ্নের জবাব দিতে।

1 Comment

1 Comment

  1. Pingback: ঘটনে-অঘটনে হিলারি ক্লিনটন - নিয়ন আলোয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top