নিসর্গ

হাঙ্গরের আশ্চর্যজনক ষষ্ট ইন্দ্রিয় সম্পর্কে কিছু তথ্য

হাঙ্গর, বসবাস করে গভীর সাগরে, যা মানুষের আশেপাশের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পরিবেশ। যেখানে আলো এবং শব্দ বাতাসের তুলনায় ভিন্ন গতি, ভিন্ন কোণে চলাচল করে। এ জলজ পরিবেশে চলাফেরা, অন্য হাঙ্গরদের খুঁজে বের করা এবং শিকার ধরার জন্যে হাঙ্গরের ভিন্ন কিছু অনুভূতির প্রয়োজন পরে। এ প্রয়োজন থেকেই মানুষের থাকা পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের পাশাপাশি তাদের আরও কিছু ইন্দ্রিয় গঠিত হয়, যার মাধ্যমে তারা তড়িৎ স্পন্দন, পারপাশ্বিক চাপের পরিবর্তন এবং কম্পন ধরতে পারে। এজন্যেই হাঙ্গর গভীর সমুদ্রের সবচাইতে বড় শিকারি।

এ জলজ পরিবেশে চলাফেরা, অন্য হাঙ্গরদের খুঁজে বের করা এবং শিকার ধরার জন্যে হাঙ্গরদের ভিন্ন কিছু অনুভূতির প্রয়োজন পরে। এ প্রয়োজন থেকেই মানুষের মত পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের পাশাপাশি তাদের আরও কিছু ইন্দ্রিয় গঠিত হয়, যার মাধ্যমে তারা তড়িৎ স্পন্দন, পারপাশ্বিক চাপের পরিবর্তন এবং কম্পন ধরতে পারে।

হাঙ্গর অনেক দূরদূরান্ত থেকে শিকার অবস্থান বের করতে পারে। কিন্তু কিভাবে হাঙ্গর এতো সঠিক ভাবে তা পারে, কিছুদিন আগ পর্যন্তও তা মানুষের জানার বাইরে ছিল। সর্বপ্রথম ১৬৭৮ সালে ইতালীয় চিকিৎসক স্টেফানো লরেঞ্জিনি(Stefano Lorenzini) একটি বাহ্যন্দ্রিয় আবিস্কার করেন, যার নাম দেন অ্যাম্পুলা অফ লরেঞ্জিনি (Ampullae of Lorenzini)। এটি খালি চোখে দেখা যায় এমন কিছু ছিদ্র দ্বারা গঠিত, যা আসলে চটচটে কিছু জেলী দ্বারা ভর্তি একটি টানেলের মুখ। এ টানেলগুলো ভিতর দিকে তড়িৎ সংবেদী কিছু কোষের সাথে সরাসরি সংযুক্ত। ইতালীয় চিকিৎসকের আবিস্কারের প্রায় ৩০০ বছর পর পর্যন্ত মানুষ এ অঙ্গের আসল কাজ জানতে পারেনি। কিছুদিন আগে গবেষণায় প্রমানিত হয়, এটাই হাঙ্গরের শিকারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। যেকোনো মাছ এবং প্রানী দ্বারা সৃষ্ট অনেক দুর্বল তড়িৎক্ষেত্র ও হাঙ্গর এ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভব করতে পারে। এই চটচটে জেলি আসলেই কি দিয়ে তৈরি তা এখনো সঠিক ভাবে মানুষের জানা নেই। তবে এই জেলির প্রোটন পরিবহন ক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত অন্য যেকোনো বস্তু থেকে বেশি। এইজন্যেই হাঙ্গরের এ ইন্দ্রিয়টি অন্য যেকোনো প্রাণীর সকল  ইন্দ্রিয় থেকে সতন্ত্র।

হ্যামারহেড শার্ক হাঙ্গরের এ ইন্দ্রিয় আবার কম্পাস হিসেবেও কাজ করে।  শুধু মাত্র হাঙ্গর তাদের এ আম্পুলা ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে পৃথিবীর ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড ট্র্যাক
করতে পারে যা তাদের পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চলাচলে সাহায্য করে। হ্যামারহেড হাঙ্গর (Hammerhead Shark) নামের এক প্রজাতির
হাঙ্গর এ কাজে বিশেষভাবে দক্ষ।  এ প্রজাতির হাঙ্গরের মাথা অনেক বড় থাকে যা তারা অনেক বেশি সংখ্যক অ্যাম্পুলা ধারণ করতে সাহায্য করে। এইজন্যে এ প্রজাতির হাঙ্গররের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় অন্য জাতের হাঙ্গরের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।

 শুধু মাত্র হাঙ্গর তাদের এ আম্পুলা ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে পৃথিবীর ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড ট্র্যাক করতে পারে যা তাদের পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চলাচলে সাহায্য করে।

এছাড়াও হাঙ্গরের শরীরে আরও একধরনের ইন্দ্রিয় থাকে, যাকে অনেকে সপ্তম ইন্দ্রিয় ও বলে থাকেন। এর গঠন ও অবস্থান অনেকটা আম্পুলা এর মতন ই। হাঙ্গর এ ইন্দ্রিয় কম্পন এবং পারপাশ্বিক চাপ পরিবর্তন অনুভব করতে ব্যবহার করে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top