টাকা-কড়ি

ফেসবুকের ২ বিলিয়ন ডলারে কেনা অকুলাস রিফ্ট ও তার আদ্যকথা

অকুলাস

অকুলাস, বাইরে থেকে যার চেহারা অতটা ভাল নয়, একটি ম্যাট-কালো বক্স, মোটামুটিভাবে একটি ইটের আকার, অনেকটা দৈত্যাকার স্কি-গগলসের মত। এর পিছনে থেকে জটপাকানো কিছু তার গিয়ে একটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে, যার কারণে এটিকে দেখলেই মনে হয় সাই-ফাই মুভির কোনো যন্ত্র,  যাকে আধুনিক বলা যায়, কিন্ত কোন ভাবেই সুন্দর বলা যায় না। অথচ এই যন্ত্রটিই ভবিষ্যতে মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম।

অকুলাস রিফ্ট -এর যাত্রা শুরু হয়, ২০০৯ সালে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর পালমার লুকি (Palmer Luckey)  এর মাধ্যমে। সে

অকুলাস

পালমার লুকি

ক্যালিফর্নিয়ার লং বিচে তার বাসার গ্যারেজেই অকুলাসের প্রথম প্রোটোটাইপ বানাতে সক্ষম হয়। সে কি তখনো কল্পনা করেছিল, তার  এই জিনিস একদিন ফেসবুকের মত কর্পোরেশন ২ বিলিওন ডলারে কিনতে চাইবে?

২০১২ এর জানুয়ারিতে সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রথম অকুলাসের প্রোটোটাইপ প্রদর্শিত হয়। সে বছরের মে মাসে পালমার যোগাযোগ করে জন কারমেক (Jhon Carmack) এর সাথে। এরপর এই জিনিস শুধু একটি শখের প্রোজেক্ট আর থাকে না। কারমেকের মাধ্যমে এই ভিআর (Virtual Reality) প্রজেক্টটি  ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কারমেক আনুষ্ঠানিকভাবে বছরের বেশি সময় ধরে কোম্পানী যোগদান করেনি। সেই সাথে পালমার বুঝতে পারে, তার আরও কঠোরভাবে কিছু করার সময় এসেছে। সে অর্ধেকেই তার সাংবাদিকতার  ডিগ্রি ত্যাগ করে অফিসিয়ালি ২০১২ এর জুলাইতে অকুলাস ভিআর গঠন করে।

এ বছর অগাস্টের ১ তারিখ তাদের কিকস্টার্টার (Kickstarter) ক্যাম্পেইন শুরু করে। সাথে ব্রেন্ডন ইরাইভ (Brendan Irive) ও এই প্রোজেক্টে যুক্ত হন। অগাস্টের ৩১ তারিখে ক্যাম্পেইন শেষ হয়, যা কিকস্টার্টারের ইতিহাসে অন্যতম সফল প্রোজেক্ট। এক মাসেই এটি ২.৪ মিলিয়ন ডলার ফান্ড সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

২০১৪ এর মার্চ মাসটি অকুলাসের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসেই তারা অকুলাস ভিআর এর ২য় ভার্সন (Oculus Rift Development Kit 2) এর ঘোষণা দেয়। এবং সে মাসেই ফেসবুক ২ বিলিয়ন ডলারে তাদের কিনে নেয়।

অকুলাস

অকুলাস হাতে মার্ক জুকারবার্গ

অকুলাস প্রোজেক্টের এই যাত্রা অতটা সহজ ছিল না। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তারা আজকের এই অবস্থায় এসেছে। তেমনই একটি ধাক্কা খায় ২০১৩ এর ১লা জুন, যখন তাদের লিড ইঞ্জিনিয়ার এবং কো ফাউন্ডার অ্যান্ড্রু রেইস (Andrew Reisse) পুলিশের কার চেজে মারা যায়। অকুলাস এর কাছে সবচাইতে কঠিন বিষয় ছিল, এর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স। এটিকে হতে হবে সবচাইতে দ্রুত। ইউজার মাথা ঘুরানোর সাথে সাথে যদি স্ক্রিনের ছবি পরিবর্তন না হয়, তবে এটি ইউজারকে বমি সহ আরও অনেক খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করবে। অকুলাস সাফল্যের সাথে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়। এটিই প্রথম হেডসেট, যা ব্যবহারকারীর মাঝে এই ধরনের কোন অসুস্থতার অনুভুতি সৃষ্টি করেনা।

অতি শীঘ্রই আমরা আশা করতে পারি, এই অকুলাস ভি আর হেডসেটটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে পাবো, যা আমাদের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞটা পুরোপুরি পরিবর্তন করে দিতে পারে। হয়তো আমরা তখন ঘরে বসেই ঘুরে আসতে পারবো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে, এমনকি চাঁদ কিংবা মঙ্গল গ্রহেও।

Most Popular

To Top