ইতিহাস

কুখ্যাত যত চক্রান্ত…….

১. অপারেশন মকিংবার্ড 
ciaopmockingbird

সিআইএ অপারেশন মকিংবার্ড মূলত তৈরি করেছিল সব ধরনের মিডিয়া কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। অপারেশন মকিংবার্ড শুরু হয়েছিল আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্যকার কোল্ড ওয়ার এর সময়। সিআইএ তখন বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকদের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছিলো কারন তারা মিডিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে আগ্রহী ছিল। অপারেশন মকিংবার্ডে জড়িত সংবাদ সংস্থা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – এবিসি নিউজ, এনবিসি নিউজ, সিবিএস, নিউজ উইক এবং টাইম।

 

২. অপারেশন এমকে আলট্রা 

mkultra

ড্রাগ, ইলেক্ট্রোসিস, হিপনোসিস এর মাধ্যমে সাধারন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার অতি গোপন এক অপারেশন করেছিল মার্কিন সংস্থা সিআইএ। ইউএস এর সাধারন নাগরিকদের উপর ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত এই অপারেশন চালানো হয়। হাসপাতাল, কারাগার, ইউনিভার্সিটি সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই অপারেশন হয় এবং তা হয় জনগন কে না জানিয়ে। এই অপারেশনের কথা মানুষ জানতে পারে যখন ১৯৭৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইনফরমেশন আইন পাস হয়। কিন্তু কোন কর্মকর্তাকে এই অপারেশনের জন্য সাজা ভোগ করতে হয় নি। সিআইএ-র তৎকালীন ডিরেক্টর রিচার্ড হেল্মস বেশিরভাগ ডকুমেন্ট নষ্ট করে ফেলেন। অবশেষে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের জনগনের কাছে অপারেশন এমকে আলট্রার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

 

৩. অপারেশন ভাল্কিরি –valkyrie

জার্মান স্বৈরশাসক এডলফ হিটলারকে হত্যার জন্য নাৎসি অফিসারদের করা ষড়যন্ত্র ইতিহাসে অপারেশন ভাল্কিরি নামে পরিচিত। মূলত হিটলার এবং তার দুই প্রধান সহচরকে হত্যাই ছিল অপারেশন ভাল্কিরির লক্ষ্য। হিটলারকে হত্যার পর নতুন ক্যু এর মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার উদ্দেশে কর্নেল ক্লস ভস্তেফাভারগ নামক সামরিক অফিসারকে নিয়োগ করা হয় কিন্তু সকল অফিসারদের একত্রে না পাওয়ায় পরপর অনেক গুলা চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে ১৯৪৪ সালের ২৮ জুলাই একটি ব্রিফকেস বোমার সাহায্যে এই চক্রান্তকে বাস্তব রুপ দেয়া হয় কিন্তু এডলফ হিটলার সেই হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান। পরবর্তীতে এই চক্রান্তে জড়িত সকলকে হত্যা করা হয়।

 

Dark-Tourism-Illuminati-Capital-Astana-Kazakhstan-All-Seeing-Eye2৪. ইলুমিনাটি –

পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যাবৃত সংগঠনকে বলা হয় ইলুমিনাটি। অনেকে এই সংঘটনকে অবাস্তব বললেও বাস্তবে ইলুমিনাটি প্রতিষ্ঠিত হয় পহেলা মে ১৭৭৭ সালে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সংগঠনটি অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখতো। ইলুমিনাটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন এডাম ওহইস্পেত, প্রথমদিকে এর নাম ছিল বাভারিয়ান ইলুমিনাটি। মুলত সেকুলার, মুক্তচিন্তা, রিপাবলিকান এবং নারীবাদীদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো বাভারিয়ান ইলুমিনাটি। প্রথমদিকে জার্মানির মেসানিক লজে সদস্য সংগ্রহ করা হত, পরবর্তীতে তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৭৮৫ সালে জার্মান সরকার এই সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করে। ফ্রেঞ্চ রেভ্যুলেশন থেকে শুরু করে পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত আন্দোলনে ইলুমিনাটি জড়িত ছিল এবং এই সংগঠনটির কার্যক্রম এখনো রয়েছে বলে ধারনা করা হয়।

চলবে ………….

Most Popular

To Top